কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দ্বীপটিতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটকের যাতায়াতের অনুমতি দিয়ে আসছে। এই সীমা কার্যকর করতে বিশেষ ভ্রমণ পাস বা অনুমতিপত্র চালু করা হয়েছে, যা জাহাজের টিকিটের সঙ্গে কিউআর কোডের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। তবে পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপ ও চাহিদাকে পুঁজি করে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত ছিল।
আজ বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সকালে এলসিটি কাজল নামক একটি জাহাজে অভিযান চালিয়ে ওই কালোবাজারি চক্রের কার্যক্রম ভেঙে দেয় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। অভিযান পরিচালনা করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি। জানা যায়, টাঙ্গাইল থেকে আগত ২৫ জনের একটি পর্যটক দল বৈধ ভ্রমণ পাস ছাড়াই ‘হিলশা ট্যুরিজম’ নামক একটি অনলাইন ট্যুরিজম গ্রুপের মাধ্যমে রিফাতুল হাসান নামের এক গাইডের নেতৃত্বে রাত আনুমানিক ৪টায় কক্সবাজার পৌঁছায়। পরে অনিক নামের এক কালোবাজারির মাধ্যমে জেটি থেকে দূরে অবস্থানরত এলসিটি কাজল জাহাজের কর্মকর্তা রফিকের যোগসাজশে ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে, টিকিট ছাড়াই এবং ভোরের আলো ফোটার আগেই যাত্রীদের জাহাজে তোলা হয়।
আরও পড়ুন, সিরাজগঞ্জে ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রির অভিযোগে দুজনকে জরিমানা
পরবর্তীতে কিছু সময় পর যাত্রীদের হাতে জাল টিকিট সরবরাহ করা হয় এবং তাদের জাহাজে অবস্থান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, জোয়ার-ভাটার সময়সূচি অনুযায়ী সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের যাত্রা নির্ধারিত ছিল সকাল ১০টায় এবং বোর্ডিং সময় সকাল ৮টা থেকে। নির্ধারিত বোর্ডিং সময়ের আগেই সকাল ৮টার পূর্বে জাহাজটি অন্য যাত্রী নেওয়ার জন্য জেটিতে অপেক্ষমাণ থাকাকালে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি এলসিটি কাজলে অভিযান পরিচালনা করেন। টিকিট যাচাইয়ের সময় সন্দেহজনক চলাফেরার কারণে প্রথমে ২৫ জনের একটি দলকে শনাক্ত করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আরও ৭ জনের একটি দলকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সফরে ভালোবাসায় সিক্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী এ কে এম বদরুল হক
পরবর্তীতে ট্যুর গাইড, যাত্রীদের বক্তব্য এবং ঘাটসংলগ্ন সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শনের মাধ্যমে কালোবাজারি চক্রের পুরো কার্যপ্রণালি উদ্ঘাটিত হয়। অভিযান শেষে এলসিটি কাজল জাহাজকে তাৎক্ষণিকভাবে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ট্যুর গাইডের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী যাত্রীদের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় এলসিটি কাজলের কর্মকর্তা রফিক ও শুভকে ঘটনাস্থলে পাওয়া না গেলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি জানান, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিষয় : জালিয়াতি সেন্টমার্টিন কালোবাজারি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দ্বীপটিতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটকের যাতায়াতের অনুমতি দিয়ে আসছে। এই সীমা কার্যকর করতে বিশেষ ভ্রমণ পাস বা অনুমতিপত্র চালু করা হয়েছে, যা জাহাজের টিকিটের সঙ্গে কিউআর কোডের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। তবে পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপ ও চাহিদাকে পুঁজি করে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত ছিল।
আজ বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সকালে এলসিটি কাজল নামক একটি জাহাজে অভিযান চালিয়ে ওই কালোবাজারি চক্রের কার্যক্রম ভেঙে দেয় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। অভিযান পরিচালনা করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি। জানা যায়, টাঙ্গাইল থেকে আগত ২৫ জনের একটি পর্যটক দল বৈধ ভ্রমণ পাস ছাড়াই ‘হিলশা ট্যুরিজম’ নামক একটি অনলাইন ট্যুরিজম গ্রুপের মাধ্যমে রিফাতুল হাসান নামের এক গাইডের নেতৃত্বে রাত আনুমানিক ৪টায় কক্সবাজার পৌঁছায়। পরে অনিক নামের এক কালোবাজারির মাধ্যমে জেটি থেকে দূরে অবস্থানরত এলসিটি কাজল জাহাজের কর্মকর্তা রফিকের যোগসাজশে ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে, টিকিট ছাড়াই এবং ভোরের আলো ফোটার আগেই যাত্রীদের জাহাজে তোলা হয়।
আরও পড়ুন, সিরাজগঞ্জে ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রির অভিযোগে দুজনকে জরিমানা
পরবর্তীতে কিছু সময় পর যাত্রীদের হাতে জাল টিকিট সরবরাহ করা হয় এবং তাদের জাহাজে অবস্থান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, জোয়ার-ভাটার সময়সূচি অনুযায়ী সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের যাত্রা নির্ধারিত ছিল সকাল ১০টায় এবং বোর্ডিং সময় সকাল ৮টা থেকে। নির্ধারিত বোর্ডিং সময়ের আগেই সকাল ৮টার পূর্বে জাহাজটি অন্য যাত্রী নেওয়ার জন্য জেটিতে অপেক্ষমাণ থাকাকালে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি এলসিটি কাজলে অভিযান পরিচালনা করেন। টিকিট যাচাইয়ের সময় সন্দেহজনক চলাফেরার কারণে প্রথমে ২৫ জনের একটি দলকে শনাক্ত করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আরও ৭ জনের একটি দলকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সফরে ভালোবাসায় সিক্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী এ কে এম বদরুল হক
পরবর্তীতে ট্যুর গাইড, যাত্রীদের বক্তব্য এবং ঘাটসংলগ্ন সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শনের মাধ্যমে কালোবাজারি চক্রের পুরো কার্যপ্রণালি উদ্ঘাটিত হয়। অভিযান শেষে এলসিটি কাজল জাহাজকে তাৎক্ষণিকভাবে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ট্যুর গাইডের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী যাত্রীদের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় এলসিটি কাজলের কর্মকর্তা রফিক ও শুভকে ঘটনাস্থলে পাওয়া না গেলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি জানান, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন