দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬

নেত্রকোনার স্বরমুশিয়ায় ইতিহাসের সাক্ষী ২৩০ বছরের তিন গম্বুজ প্রাচীন মসজিদ

নেত্রকোনার স্বরমুশিয়ায় ইতিহাসের সাক্ষী ২৩০ বছরের তিন গম্বুজ প্রাচীন মসজিদ
ইতিহাসের সাক্ষী ২৩০ বছরের তিন গম্বুজ প্রাচীন মসজিদ

নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে এখনো দাড়িয়ে আছে ২৩০ বছরের প্রাচীন মসজিদ। প্রাকৃতিক ক্ষয়ক্ষতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখনো দাড়িয়ে আছে সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এক অনন্য স্থাপত্য স্বরমুশিয়া খাঁ বাড়ি তিন গম্বুজ জামে মসজিদ। ২৩০ বছরের এই প্রাচীন মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয়ই নয়, বরং বাংলার মুসলিম স্থাপত্য ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষী।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে ১২১৭ হিজরিতে বাংলার বারো ভূঁইয়া সর্দার ঈসা খাঁর পুত্র মুসা খাঁ মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে সময়কার স্থাপত্যশৈলী বিবেচনায় এটি ছিলো অত্যন্ত টেকসই ও শৈল্পিক। মসজিদের দেয়ালের পুরুত্ব ৬ থেকে ৮ ফুট, যা সাধারণত রাজপ্রাসাদ বা দুর্গে দেখা যায়। ফলে স্থাপত্যে রাজকীয় দৃঢ়তার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে অতীতের ঐশ্বর্যের ছোঁয়াও। প্রথম দিকে মসজিদটিতে এক কাতারে ১৮ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। প্রায় তিন দশক আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে বারান্দা সম্প্রসারণ করা হলে বর্তমানে সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৭০ জন মুসল্লির নামাজ আদায় সম্ভব হচ্ছে।

আরও পড়ুন, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে প্রার্থিতা বাতিল

জানা যায়, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেঝেতে নতুন টাইলস বসানোসহ বেশ কিছু সংস্কারও করা হয়েছে, যা মসজিদটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। মসজিদটির সবচেয়ে নজরকাড়া বৈশিষ্ট্য হলো এর তিনটি গম্বুজ। ২৩০ বছরের ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে থাকা এ মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়, এটি গ্রামীণ মুসলিম সংস্কৃতিরও অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করছেন এবং অনুভব করছেন আরবের পুরনো ইসলামী স্থাপত্যশৈলীর ছায়া। মুসা খাঁর বংশধর মোতাহার হোসেন খান জানান, এই মসজিদটি শুধু অতীতের ঐতিহ্য নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এটি এক অমূল্য ইতিহাসের আলো। স্থানীয়দের উদ্যোগে মসজিদটি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চলছে, যাতে এটি আরো বহু বছর ইসলামের আলো ছড়িয়ে যেতে পারে।

বিষয় : নেত্রকোনা মসজিদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


নেত্রকোনার স্বরমুশিয়ায় ইতিহাসের সাক্ষী ২৩০ বছরের তিন গম্বুজ প্রাচীন মসজিদ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে এখনো দাড়িয়ে আছে ২৩০ বছরের প্রাচীন মসজিদ। প্রাকৃতিক ক্ষয়ক্ষতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখনো দাড়িয়ে আছে সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এক অনন্য স্থাপত্য স্বরমুশিয়া খাঁ বাড়ি তিন গম্বুজ জামে মসজিদ। ২৩০ বছরের এই প্রাচীন মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয়ই নয়, বরং বাংলার মুসলিম স্থাপত্য ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষী।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে ১২১৭ হিজরিতে বাংলার বারো ভূঁইয়া সর্দার ঈসা খাঁর পুত্র মুসা খাঁ মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে সময়কার স্থাপত্যশৈলী বিবেচনায় এটি ছিলো অত্যন্ত টেকসই ও শৈল্পিক। মসজিদের দেয়ালের পুরুত্ব ৬ থেকে ৮ ফুট, যা সাধারণত রাজপ্রাসাদ বা দুর্গে দেখা যায়। ফলে স্থাপত্যে রাজকীয় দৃঢ়তার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে অতীতের ঐশ্বর্যের ছোঁয়াও। প্রথম দিকে মসজিদটিতে এক কাতারে ১৮ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। প্রায় তিন দশক আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে বারান্দা সম্প্রসারণ করা হলে বর্তমানে সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৭০ জন মুসল্লির নামাজ আদায় সম্ভব হচ্ছে।

আরও পড়ুন, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে প্রার্থিতা বাতিল

জানা যায়, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেঝেতে নতুন টাইলস বসানোসহ বেশ কিছু সংস্কারও করা হয়েছে, যা মসজিদটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। মসজিদটির সবচেয়ে নজরকাড়া বৈশিষ্ট্য হলো এর তিনটি গম্বুজ। ২৩০ বছরের ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে থাকা এ মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়, এটি গ্রামীণ মুসলিম সংস্কৃতিরও অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করছেন এবং অনুভব করছেন আরবের পুরনো ইসলামী স্থাপত্যশৈলীর ছায়া। মুসা খাঁর বংশধর মোতাহার হোসেন খান জানান, এই মসজিদটি শুধু অতীতের ঐতিহ্য নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এটি এক অমূল্য ইতিহাসের আলো। স্থানীয়দের উদ্যোগে মসজিদটি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চলছে, যাতে এটি আরো বহু বছর ইসলামের আলো ছড়িয়ে যেতে পারে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত