দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

নেত্রকোণায় অবৈধ ইটভাটার রাজত্ব, নিরব পরিবেশ অধিদপ্তর

নেত্রকোণায় অবৈধ ইটভাটার রাজত্ব, নিরব পরিবেশ অধিদপ্তর
নেত্রকোণায় অবৈধ ইটভাটার রাজত্ব

নেত্রকোণায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইটভাটা গুলো পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানকে তোয়াক্কা না করেই পরিবেশ ধ্বংসে রাজত্ব করে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে দুএকটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে গুড়িয়ে দিলেও অদৃশ্য শক্তিতে থেমে নেই ভাটার কার্যক্রম। ইটের ভাটায় নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমিসহ পরিবেশ। বিশুদ্ধ বায়ু গ্রহণে বাধা ঘটলেও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের চোখ বন্ধ। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষিতে উদ্বৃত্ত নেত্রকোণা জেলায় অবাধে চলছে অবৈধ ইটের ভাটা। জেলার ১০ উপজেলায় ৫৪টি ভাটা থাকলেও ৪০ টি চালু রয়েছে তার মধ্যে মাত্র চারটি ভাটার বৈধতা রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই প্রায় সব গুলোই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই চলছে প্রভাব খাটিয়ে। এলাকাবাসী ও কৃষকরা বলছেন, কৃষি জমির জন্য ক্ষতিকর ভাটাগুলোর দুএকটি মাঝে মধ্যে বন্ধ করলেও আবারো টাকা পয়সা দিলে চালু করা হয় এসব ভাটা। 

আরও পড়ুন, সাইনবোর্ডে নাম পদবী ব্যবহার হন হাতুড়ে ডাক্তার

এদের ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে পারেন না ভয়ে। কৃষি জমি নষ্ট করে গড়ে ওঠা এসকল ভাটায় ইট তৈরীতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় কৃষি জমির উপরের মাটি। ফলে জমির উর্বর শক্তি নষ্ট হয়ে দিনে দিনে কমে যাচ্ছে উৎপাদন। বিভিন্ন ফলের গাছ সহ নষ্ট হচ্ছে অন্যান্য ফসলও। ভাটায় কর্মরত শ্রমিকদের দাবী তাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যম ভাটাগুলো। নেত্রকোনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মতিন সাংবাদিকদের জানান, নেত্রকোনা জেলায় বৈধ ইটভাটা রয়েছে মাত্র ৪টি, এর বাহিরে যা রয়েছে সব অবৈধ। আমরা নিয়মিত এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। তিনি বলেন, কয়েকটি ব্রিক্সস বন্ধ করার পরেও বর্তমানে চালুর বিষয়ে বলেন, আমরা বন্ধ করে আসলেও তারা কোর্টের মাধ্যমে আবারো চালু করেছে। তবে নিয়মিত মনিটরিং রয়েছে। 

আরও পড়ুন, সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি

পরিবেশগত ভাবে সঠিক না হওয়ায় বেশ কয়েকটির ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে তাদের পরিবেশ বান্ধব ভাটা স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছেও বলে জানান তিনি। নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আমিরুল ইসলাম জানান, ভাটায় ব্যবহৃত টপসয়েল (কৃষি জমির উপরের অংশ) কৃষি জমি থেকে নেয়া হয়। ফলে মাটির উর্বর শক্তি কমে যায়। এটি পূরণ হতে কমপক্ষে ৫০ বছর সময় লাগে। যে কারণে আমরা ছাড়পত্র দিতে গিয়ে কোনমতেই তিন ফসলি জমির অনুমোদন দেই না। এছাড়াও মাটির টপসয়েল বিক্রি না করতে কৃষকদের পরামর্শ দেই।

এছাড়া আরোও জানা যায়,জেলার বারহাট্টা ও কলমাকান্দা উপজেলায় ইটভাটা গুলোর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকলেও ইটভাটায় কয়লার বিপরীতে প্রকাশ্যে পুড়ছে কাঠ। ভাটার সামনে রাখা হয়েছে শত শত মণ কাঠ। এতে পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ভাটার ধোঁয়ার হুমকিতে রয়েছে জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র। কয়লার দাম বেশি হওয়ায় ভাটা স্থাপনের শুরু থেকেই ভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

বিষয় : অভিযান অবৈধ নেত্রকোণা ইটভাটা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


নেত্রকোণায় অবৈধ ইটভাটার রাজত্ব, নিরব পরিবেশ অধিদপ্তর

প্রকাশের তারিখ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

নেত্রকোণায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইটভাটা গুলো পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানকে তোয়াক্কা না করেই পরিবেশ ধ্বংসে রাজত্ব করে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে দুএকটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে গুড়িয়ে দিলেও অদৃশ্য শক্তিতে থেমে নেই ভাটার কার্যক্রম। ইটের ভাটায় নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমিসহ পরিবেশ। বিশুদ্ধ বায়ু গ্রহণে বাধা ঘটলেও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের চোখ বন্ধ। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষিতে উদ্বৃত্ত নেত্রকোণা জেলায় অবাধে চলছে অবৈধ ইটের ভাটা। জেলার ১০ উপজেলায় ৫৪টি ভাটা থাকলেও ৪০ টি চালু রয়েছে তার মধ্যে মাত্র চারটি ভাটার বৈধতা রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই প্রায় সব গুলোই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই চলছে প্রভাব খাটিয়ে। এলাকাবাসী ও কৃষকরা বলছেন, কৃষি জমির জন্য ক্ষতিকর ভাটাগুলোর দুএকটি মাঝে মধ্যে বন্ধ করলেও আবারো টাকা পয়সা দিলে চালু করা হয় এসব ভাটা। 

আরও পড়ুন, সাইনবোর্ডে নাম পদবী ব্যবহার হন হাতুড়ে ডাক্তার

এদের ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে পারেন না ভয়ে। কৃষি জমি নষ্ট করে গড়ে ওঠা এসকল ভাটায় ইট তৈরীতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় কৃষি জমির উপরের মাটি। ফলে জমির উর্বর শক্তি নষ্ট হয়ে দিনে দিনে কমে যাচ্ছে উৎপাদন। বিভিন্ন ফলের গাছ সহ নষ্ট হচ্ছে অন্যান্য ফসলও। ভাটায় কর্মরত শ্রমিকদের দাবী তাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যম ভাটাগুলো। নেত্রকোনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মতিন সাংবাদিকদের জানান, নেত্রকোনা জেলায় বৈধ ইটভাটা রয়েছে মাত্র ৪টি, এর বাহিরে যা রয়েছে সব অবৈধ। আমরা নিয়মিত এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। তিনি বলেন, কয়েকটি ব্রিক্সস বন্ধ করার পরেও বর্তমানে চালুর বিষয়ে বলেন, আমরা বন্ধ করে আসলেও তারা কোর্টের মাধ্যমে আবারো চালু করেছে। তবে নিয়মিত মনিটরিং রয়েছে। 

আরও পড়ুন, সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি

পরিবেশগত ভাবে সঠিক না হওয়ায় বেশ কয়েকটির ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে তাদের পরিবেশ বান্ধব ভাটা স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছেও বলে জানান তিনি। নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আমিরুল ইসলাম জানান, ভাটায় ব্যবহৃত টপসয়েল (কৃষি জমির উপরের অংশ) কৃষি জমি থেকে নেয়া হয়। ফলে মাটির উর্বর শক্তি কমে যায়। এটি পূরণ হতে কমপক্ষে ৫০ বছর সময় লাগে। যে কারণে আমরা ছাড়পত্র দিতে গিয়ে কোনমতেই তিন ফসলি জমির অনুমোদন দেই না। এছাড়াও মাটির টপসয়েল বিক্রি না করতে কৃষকদের পরামর্শ দেই।

এছাড়া আরোও জানা যায়,জেলার বারহাট্টা ও কলমাকান্দা উপজেলায় ইটভাটা গুলোর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকলেও ইটভাটায় কয়লার বিপরীতে প্রকাশ্যে পুড়ছে কাঠ। ভাটার সামনে রাখা হয়েছে শত শত মণ কাঠ। এতে পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ভাটার ধোঁয়ার হুমকিতে রয়েছে জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র। কয়লার দাম বেশি হওয়ায় ভাটা স্থাপনের শুরু থেকেই ভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত