লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চরবংশী ককটেল বিস্ফোরণের পর ছুরিকাঘাতে ইউনিয়ন বিএনপির এক সাবেক ওয়ার্ড সভাপতিসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হামলার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন (৩২) নামে এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় জনতা। গণপিটুনিতে আহত অবস্থায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে রায়পুর উপজেলার ২ নম্বর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারে একটি চায়ের দোকানের সামনে উক্ত ঘটনাটি ঘটে। আহতরা হলেন উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি এবায়েদ উল্যা গাজী (৫৫) মোঃ খোরশেদ আলম (২৪) জাহিদ হোসেন (১৮) ও মোঃ রায়হান (২৩)। তাঁদের মধ্যে এবায়েদ উল্যা গাজী ও জাহিদ হোসেনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই সময় চায়ের দোকানে এবায়েদ উল্যা গাজীসহ কয়েকজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ভোলা থেকে এসেছেন বলে পরিচিত এক যুবক হটাৎ সেখানে গিয়ে পরপর তিনটি ককটেল ফাটান। এরপর তিনি এবায়েদ উল্যা গাজীকে ছুরিকাঘাত করেন, তাঁর পেটে ও পিঠে আঘাত লাগে। হামলায় বাধা দিতে গেলে বাকি তিনজনও ছুরিকাঘাতে আহত হন। আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত যুবক পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় জনতা তাঁকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং একটি পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাত ১০টার দিকে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে রায়পুর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন, বকশীগঞ্জে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রেখে অর্থ দাবির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক সাইফুল ইসলাম ভোলা সদর থানার শ্যামপুর বেদুয়া গ্রামের মৃত সফিক মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলায় আরও দুজন জড়িত ছিলেন, যাঁরা ঘটনাস্থল থেকেই পালিয়ে গেছেন। উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক কবিরাজের দাবি, উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সদস্যসচিব জিএম শামীম গাজীর সঙ্গে এবায়েদ উল্যা গাজীর পূর্বশত্রুতা ছিল। তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এক লাখ টাকার বিনিময়ে ভোলা থেকে তিনজনকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, গণপিটুনির সময় আটক যুবক গ্রামবাসীর কাছে হামলার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ডিবি পুলিশ অন্য একটি মামলায় শামীম গাজীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। তবে ওই মামলার সঙ্গে রাতের হামলার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভুঁইয়া রাত ১১টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কী কারণে এবং কার সঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার পর খাসেরহাট বাজার এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে থমথমে পরিস্থিতি দেখা গেছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্তের অপেক্ষায় আছেন স্থানীয়রা।
বিষয় : ককটেল বিস্ফোরণ ছুরিকাঘাত রায়পুর

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চরবংশী ককটেল বিস্ফোরণের পর ছুরিকাঘাতে ইউনিয়ন বিএনপির এক সাবেক ওয়ার্ড সভাপতিসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হামলার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন (৩২) নামে এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় জনতা। গণপিটুনিতে আহত অবস্থায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে রায়পুর উপজেলার ২ নম্বর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারে একটি চায়ের দোকানের সামনে উক্ত ঘটনাটি ঘটে। আহতরা হলেন উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি এবায়েদ উল্যা গাজী (৫৫) মোঃ খোরশেদ আলম (২৪) জাহিদ হোসেন (১৮) ও মোঃ রায়হান (২৩)। তাঁদের মধ্যে এবায়েদ উল্যা গাজী ও জাহিদ হোসেনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই সময় চায়ের দোকানে এবায়েদ উল্যা গাজীসহ কয়েকজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ভোলা থেকে এসেছেন বলে পরিচিত এক যুবক হটাৎ সেখানে গিয়ে পরপর তিনটি ককটেল ফাটান। এরপর তিনি এবায়েদ উল্যা গাজীকে ছুরিকাঘাত করেন, তাঁর পেটে ও পিঠে আঘাত লাগে। হামলায় বাধা দিতে গেলে বাকি তিনজনও ছুরিকাঘাতে আহত হন। আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত যুবক পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় জনতা তাঁকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং একটি পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাত ১০টার দিকে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে রায়পুর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন, বকশীগঞ্জে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রেখে অর্থ দাবির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক সাইফুল ইসলাম ভোলা সদর থানার শ্যামপুর বেদুয়া গ্রামের মৃত সফিক মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলায় আরও দুজন জড়িত ছিলেন, যাঁরা ঘটনাস্থল থেকেই পালিয়ে গেছেন। উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক কবিরাজের দাবি, উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সদস্যসচিব জিএম শামীম গাজীর সঙ্গে এবায়েদ উল্যা গাজীর পূর্বশত্রুতা ছিল। তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এক লাখ টাকার বিনিময়ে ভোলা থেকে তিনজনকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, গণপিটুনির সময় আটক যুবক গ্রামবাসীর কাছে হামলার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ডিবি পুলিশ অন্য একটি মামলায় শামীম গাজীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। তবে ওই মামলার সঙ্গে রাতের হামলার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভুঁইয়া রাত ১১টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কী কারণে এবং কার সঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার পর খাসেরহাট বাজার এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে থমথমে পরিস্থিতি দেখা গেছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্তের অপেক্ষায় আছেন স্থানীয়রা।
