দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা। তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নম্বর কূপ খননের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে ১০ বছরে উৎপাদিত গ্যাসের ভোক্তা পর্যায়ের সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। ‘তিতাস গ্যাসফিল্ডে ২টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পটি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, মোট ৫৯২ কোটি টাকার মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪৫৪ কোটি টাকা এবং বিজিএফসিএলের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রথম বছরের মধ্যে একটি কূপ থেকে এবং দেড় বছরের মধ্যে দুটি কূপ থেকেই গ্যাস পাওয়া সম্ভব হবে। বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আবুল কাসেম খান জানান, দুটি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের পাশাপাশি ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন,শেয়ারবাজারে মুনাফার আশায় ঋণ নিয়ে বিপদে পড়বেন না
প্রকল্পের আর্থিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১০ বছরে দুটি কূপ থেকে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য বিবেচনায় গ্যাসের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। এতে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার কারখানায় জ্বালানি সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। এদিকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন জ্বালানিবিশেষজ্ঞরা। জ্বালানিবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, নতুন কূপ খননের উদ্যোগ গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে অনুসন্ধান কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির ব্যবহারও প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পরিকল্পিতভাবে খননকাজ সম্পন্ন হলে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে নতুন করে গ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা। তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নম্বর কূপ খননের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে ১০ বছরে উৎপাদিত গ্যাসের ভোক্তা পর্যায়ের সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। ‘তিতাস গ্যাসফিল্ডে ২টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পটি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, মোট ৫৯২ কোটি টাকার মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪৫৪ কোটি টাকা এবং বিজিএফসিএলের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রথম বছরের মধ্যে একটি কূপ থেকে এবং দেড় বছরের মধ্যে দুটি কূপ থেকেই গ্যাস পাওয়া সম্ভব হবে। বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আবুল কাসেম খান জানান, দুটি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের পাশাপাশি ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন,শেয়ারবাজারে মুনাফার আশায় ঋণ নিয়ে বিপদে পড়বেন না
প্রকল্পের আর্থিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১০ বছরে দুটি কূপ থেকে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য বিবেচনায় গ্যাসের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। এতে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার কারখানায় জ্বালানি সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। এদিকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন জ্বালানিবিশেষজ্ঞরা। জ্বালানিবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, নতুন কূপ খননের উদ্যোগ গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে অনুসন্ধান কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির ব্যবহারও প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পরিকল্পিতভাবে খননকাজ সম্পন্ন হলে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে নতুন করে গ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
