ডোপ টেস্ট ছাড়াই ৮৫ জনকে কারাদণ্ড, অভিযানে জড়িত অতিরিক্ত ডিআইজি সাময়িক বরখাস্ত; সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের তুরাগ নদ থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের মাত্র নয় দিন আগে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন তাঁর বোন কে এম সাওয়াফা সিলভি (২৬)। রাজধানীর ভাটারা এলাকায় একটি ব্যক্তিগত বাসায় ডিবির অভিযানে আটক ৮৫ জনের মধ্যে প্রথম নাম ছিল তাঁর। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ১৯ অক্টোবর রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন একটি বাসায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। ওই অভিযানে নারী-পুরুষসহ মোট ৮৫ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের তালিকায় প্রথমেই ছিল কে এম সাওয়াফা সিলভির নাম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ডোপ টেস্ট কিংবা রাসায়নিক পরীক্ষা না করেই তাঁদের সাজা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই অভিযানের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৬ নারীকে ১৫ দিন করে এবং ৫৯ পুরুষকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পেশাদার বাদ্যযন্ত্রশিল্পীও ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিযান পরিচালনা ও বিচারপ্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এতসংখ্যক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকেরা। ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের মামলা এদিকে ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তারের ঘটনার কয়েক দিন পরই ঘটে আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনা। গত ২৭ অক্টোবর রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নিখোঁজ হন সাওয়াফার বড় ভাই সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। পরদিন ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া, তাঁর মরদেহ উদ্ধার এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।
আরও পড়ুন,নারায়ণগঞ্জের কারখানায় বিস্ফোরণে আতঙ্ক
সাময়িক বরখাস্ত অতিরিক্ত ডিআইজি অন্যদিকে, ব্যক্তিগত বাসভবন অপব্যবহারের সুযোগ দেওয়া এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে রাঙামাটির বেতবুনিয়া পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে সংযুক্ত করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের এ ঘটনায় ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে ডিবির অভিযান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁরা পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাওয়াফাসহ কয়েকজন ইতিমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনা, তাঁর বোনের গ্রেপ্তার এবং ডিবির বিতর্কিত অভিযান—সব মিলিয়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ডোপ টেস্ট ছাড়াই ৮৫ জনকে কারাদণ্ড, অভিযানে জড়িত অতিরিক্ত ডিআইজি সাময়িক বরখাস্ত; সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের তুরাগ নদ থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের মাত্র নয় দিন আগে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন তাঁর বোন কে এম সাওয়াফা সিলভি (২৬)। রাজধানীর ভাটারা এলাকায় একটি ব্যক্তিগত বাসায় ডিবির অভিযানে আটক ৮৫ জনের মধ্যে প্রথম নাম ছিল তাঁর। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ১৯ অক্টোবর রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন একটি বাসায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। ওই অভিযানে নারী-পুরুষসহ মোট ৮৫ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের তালিকায় প্রথমেই ছিল কে এম সাওয়াফা সিলভির নাম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ডোপ টেস্ট কিংবা রাসায়নিক পরীক্ষা না করেই তাঁদের সাজা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই অভিযানের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৬ নারীকে ১৫ দিন করে এবং ৫৯ পুরুষকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পেশাদার বাদ্যযন্ত্রশিল্পীও ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিযান পরিচালনা ও বিচারপ্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এতসংখ্যক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকেরা। ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের মামলা এদিকে ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তারের ঘটনার কয়েক দিন পরই ঘটে আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনা। গত ২৭ অক্টোবর রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নিখোঁজ হন সাওয়াফার বড় ভাই সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। পরদিন ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া, তাঁর মরদেহ উদ্ধার এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।
আরও পড়ুন,নারায়ণগঞ্জের কারখানায় বিস্ফোরণে আতঙ্ক
সাময়িক বরখাস্ত অতিরিক্ত ডিআইজি অন্যদিকে, ব্যক্তিগত বাসভবন অপব্যবহারের সুযোগ দেওয়া এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে রাঙামাটির বেতবুনিয়া পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে সংযুক্ত করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের এ ঘটনায় ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে ডিবির অভিযান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁরা পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাওয়াফাসহ কয়েকজন ইতিমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনা, তাঁর বোনের গ্রেপ্তার এবং ডিবির বিতর্কিত অভিযান—সব মিলিয়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
