সিলেটে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। বছরের প্রথম ৯ মাসে বিভাগে যত রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন, অক্টোবরের এক মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন তার চেয়েও বেশি। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে আক্রান্ত ছিলেন ৪১০ জন। অথচ অক্টোবরের ৩১ দিনেই নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৪৬৭ জন। অর্থাৎ চলতি বছরের মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন শুধু অক্টোবর মাসে। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি অক্টোবরে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুও হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ মাসে বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭৭ জনে, মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৭ জন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছিলেন ১০৫ জন। আগস্টে নতুন করে আক্রান্ত হন ৮৫ জন। সেপ্টেম্বরে শনাক্ত হন ২২০ জন। এতে সেপ্টেম্বর শেষে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১০ জনে। কিন্তু অক্টোবরেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬৭ জন। অর্থাৎ আগের নয় মাসের সম্মিলিত আক্রান্তের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে অক্টোবরের সংক্রমণ। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২১ দিনেই বিভাগে ১৪৪ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। তখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৩৪। ওই সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৩০ জন। এক মাসের ব্যবধানে সংক্রমণের চিত্র আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। অক্টোবরের ৩১ দিনে গড়ে প্রতিদিন ১৫ জনের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও নতুন করে ২১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৫৭ জন। জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে ডেঙ্গু আক্রান্তের দিক থেকে সিলেট বিভাগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে হবিগঞ্জ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬২ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিলেটে আক্রান্ত ২০৫ জন।
আরও পড়ুন,শ্রমিক বিক্ষোভে অচল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
সুনামগঞ্জ জেলায় ২০১ জন এবং মৌলভীবাজারে ৭৮ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য জেলা থেকে এসে সিলেট বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আরও ৩১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। জেলা ভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, মোট আক্রান্তের প্রায় ৪১ শতাংশই হবিগঞ্জের বাসিন্দা। সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলাতেও সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় ডেঙ্গুর বিস্তার এখন শুধু নগরকেন্দ্রিক নেই; ছড়িয়ে পড়েছে বিভাগের বিভিন্ন এলাকায়। ওসমানীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৭ রোগী : স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ২১ জনের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪ জন রয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫৭ জনের মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২, বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৭, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪ এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
সিলেটে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। বছরের প্রথম ৯ মাসে বিভাগে যত রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন, অক্টোবরের এক মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন তার চেয়েও বেশি। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে আক্রান্ত ছিলেন ৪১০ জন। অথচ অক্টোবরের ৩১ দিনেই নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৪৬৭ জন। অর্থাৎ চলতি বছরের মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন শুধু অক্টোবর মাসে। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি অক্টোবরে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুও হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ মাসে বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭৭ জনে, মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৭ জন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছিলেন ১০৫ জন। আগস্টে নতুন করে আক্রান্ত হন ৮৫ জন। সেপ্টেম্বরে শনাক্ত হন ২২০ জন। এতে সেপ্টেম্বর শেষে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১০ জনে। কিন্তু অক্টোবরেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬৭ জন। অর্থাৎ আগের নয় মাসের সম্মিলিত আক্রান্তের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে অক্টোবরের সংক্রমণ। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২১ দিনেই বিভাগে ১৪৪ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। তখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৩৪। ওই সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৩০ জন। এক মাসের ব্যবধানে সংক্রমণের চিত্র আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। অক্টোবরের ৩১ দিনে গড়ে প্রতিদিন ১৫ জনের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও নতুন করে ২১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৫৭ জন। জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে ডেঙ্গু আক্রান্তের দিক থেকে সিলেট বিভাগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে হবিগঞ্জ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬২ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিলেটে আক্রান্ত ২০৫ জন।
আরও পড়ুন,শ্রমিক বিক্ষোভে অচল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
সুনামগঞ্জ জেলায় ২০১ জন এবং মৌলভীবাজারে ৭৮ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য জেলা থেকে এসে সিলেট বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আরও ৩১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। জেলা ভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, মোট আক্রান্তের প্রায় ৪১ শতাংশই হবিগঞ্জের বাসিন্দা। সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলাতেও সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় ডেঙ্গুর বিস্তার এখন শুধু নগরকেন্দ্রিক নেই; ছড়িয়ে পড়েছে বিভাগের বিভিন্ন এলাকায়। ওসমানীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৭ রোগী : স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ২১ জনের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪ জন রয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫৭ জনের মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২, বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৭, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪ এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন