বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে আবারও জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জেলে-বাওয়ালিদের অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের পাশাপাশি অগ্রিম ‘কার্ড’ বা টোকেনের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে যাওয়া বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।বনজীবীদের অভিযোগ, কথিত জলদস্যুদের কোনো দলের কার্ড না থাকলে সুন্দরবনে প্রবেশের পর জেলেদের আটকে রেখে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। বর্তমানে সাতক্ষীরার পশ্চিম সুন্দরবনে ৮ থেকে ১০টি জলদস্যু দল সক্রিয় রয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বনজীবীদের ভাষ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের কাছে অগ্রিম অর্থ দেওয়ার চাপ বেড়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ থেকে ৭টি দল পর্যায়ক্রমে ১৫ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে প্রতিটি দলের জন্য ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘কার্ডের’ নামে আদায় করছে। শ্যামনগর উপকূলের প্রায় ২০ হাজার জেলে-বাওয়ালি এ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন বলে তাঁদের দাবি। বনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৮০০টি নৌকা সুন্দরবনে প্রবেশের পারমিট নিলেও চলতি সপ্তাহে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫০টিতে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বনজীবীদের যাতায়াত কমে যাওয়ায় সুন্দরবননির্ভর পরিবারগুলোর আয়-রোজগারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন,এইচএসসিতে আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের বাজিমাত, জিপিএ- ৫৬১ জন
তাঁদের আরও অভিযোগ, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে শর্তসাপেক্ষে ৫২ জন জলদস্যুর আত্মসমর্পণ ও সাধারণ ক্ষমার পরও অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধ হয়নি। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন, নজরদারি এবং অপরাধে পুনরায় জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এদিকে, জলদস্যুমুক্ত নিরাপদ সুন্দরবনের দাবিতে সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের জেলেরা পাঁচ দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। কর্মসূচির সমন্বয় করছেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন লিটন। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ নভেম্বর শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে। ৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েও স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বনজীবীদের দাবি, সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু দলগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার এবং জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের মতে, সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে না পারলে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো পরিবারের জীবিকা ও বনজ সম্পদনির্ভর অর্থনীতি আরও সংকটে পড়বে।
বিষয় : বনেই নিরাপত্তাহীন বনজীবীরা

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে আবারও জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জেলে-বাওয়ালিদের অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের পাশাপাশি অগ্রিম ‘কার্ড’ বা টোকেনের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে যাওয়া বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।বনজীবীদের অভিযোগ, কথিত জলদস্যুদের কোনো দলের কার্ড না থাকলে সুন্দরবনে প্রবেশের পর জেলেদের আটকে রেখে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। বর্তমানে সাতক্ষীরার পশ্চিম সুন্দরবনে ৮ থেকে ১০টি জলদস্যু দল সক্রিয় রয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বনজীবীদের ভাষ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের কাছে অগ্রিম অর্থ দেওয়ার চাপ বেড়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ থেকে ৭টি দল পর্যায়ক্রমে ১৫ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে প্রতিটি দলের জন্য ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘কার্ডের’ নামে আদায় করছে। শ্যামনগর উপকূলের প্রায় ২০ হাজার জেলে-বাওয়ালি এ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন বলে তাঁদের দাবি। বনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৮০০টি নৌকা সুন্দরবনে প্রবেশের পারমিট নিলেও চলতি সপ্তাহে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫০টিতে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বনজীবীদের যাতায়াত কমে যাওয়ায় সুন্দরবননির্ভর পরিবারগুলোর আয়-রোজগারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন,এইচএসসিতে আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের বাজিমাত, জিপিএ- ৫৬১ জন
তাঁদের আরও অভিযোগ, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে শর্তসাপেক্ষে ৫২ জন জলদস্যুর আত্মসমর্পণ ও সাধারণ ক্ষমার পরও অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধ হয়নি। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন, নজরদারি এবং অপরাধে পুনরায় জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এদিকে, জলদস্যুমুক্ত নিরাপদ সুন্দরবনের দাবিতে সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের জেলেরা পাঁচ দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। কর্মসূচির সমন্বয় করছেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন লিটন। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ নভেম্বর শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে। ৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েও স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বনজীবীদের দাবি, সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু দলগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার এবং জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের মতে, সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে না পারলে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো পরিবারের জীবিকা ও বনজ সম্পদনির্ভর অর্থনীতি আরও সংকটে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন