দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

উত্তর প্রদেশে চাকরির বিধি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

উত্তর প্রদেশে চাকরির বিধি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
উত্তর প্রদেশে চাকরির বিধি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

সরকারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর বিধি চালু করেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, হিংসাত্মক উপায়ে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। এ নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের নিয়োগ ও কর্মীবর্গ দপ্তর এই নির্দেশিকা জারি করে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে প্রণীত নতুন বিধিটি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, পৌরসভা, পৌর পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থায় নিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২১ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর এবং চরিত্র যাচাইয়ের আগের তিন বছরের মধ্যে কেউ হিংসাত্মক উপায়ে প্রচলিত ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলন বা কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে তাঁকে সরকারি চাকরির অযোগ্য বিবেচনা করা হতে পারে। 

আরও পড়ুন,নির্বাচনে অচলাবস্থা, আরব দল নিয়ে নেতানিয়াহুর অভিযোগ

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ ও মনোভাবে ইতিবাচক পরিবর্তনের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে। যোগী সরকার জানিয়েছে, শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না। কারও বিরুদ্ধে এফআইআর থাকলেই তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরির অযোগ্য ধরা হবে না। মামলার তদন্ত চলমান থাকা, বেকসুর খালাস পাওয়া কিংবা আপস-মীমাংসায় মামলা নিষ্পত্তির মতো বিষয়েও আলাদা বিবেচনার বিধান রাখা হয়েছে। চরিত্র যাচাইয়ের প্রতিবেদন পেতে দেরি হলে স্বঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে সাময়িক নিয়োগপত্র দেওয়ার সুযোগও থাকবে। তবে পরে প্রতিবেদন নেতিবাচক হলে বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে নিয়োগ বাতিল এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া বিরূপ প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। নতুন বিধির তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, এই বিধির মাধ্যমে তরুণদের আন্দোলনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত করতে চাইছে বিজেপি সরকার। দুই দলই নির্দেশিকাটিকে ‘কালা বিধি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি সরকারবিরোধী আন্দোলনকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরছে। বিশেষ করে নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবাদ ও সরকার পরিবর্তনের দাবিকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উত্তর প্রদেশ সরকারের নতুন নির্দেশিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই বিধি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, নাকি আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করবে।

বিষয় : রাজনৈতিক বিতর্ক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


উত্তর প্রদেশে চাকরির বিধি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সরকারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর বিধি চালু করেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, হিংসাত্মক উপায়ে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। এ নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের নিয়োগ ও কর্মীবর্গ দপ্তর এই নির্দেশিকা জারি করে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে প্রণীত নতুন বিধিটি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, পৌরসভা, পৌর পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থায় নিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২১ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর এবং চরিত্র যাচাইয়ের আগের তিন বছরের মধ্যে কেউ হিংসাত্মক উপায়ে প্রচলিত ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলন বা কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে তাঁকে সরকারি চাকরির অযোগ্য বিবেচনা করা হতে পারে। 

আরও পড়ুন,নির্বাচনে অচলাবস্থা, আরব দল নিয়ে নেতানিয়াহুর অভিযোগ

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ ও মনোভাবে ইতিবাচক পরিবর্তনের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে। যোগী সরকার জানিয়েছে, শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না। কারও বিরুদ্ধে এফআইআর থাকলেই তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরির অযোগ্য ধরা হবে না। মামলার তদন্ত চলমান থাকা, বেকসুর খালাস পাওয়া কিংবা আপস-মীমাংসায় মামলা নিষ্পত্তির মতো বিষয়েও আলাদা বিবেচনার বিধান রাখা হয়েছে। চরিত্র যাচাইয়ের প্রতিবেদন পেতে দেরি হলে স্বঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে সাময়িক নিয়োগপত্র দেওয়ার সুযোগও থাকবে। তবে পরে প্রতিবেদন নেতিবাচক হলে বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে নিয়োগ বাতিল এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া বিরূপ প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। নতুন বিধির তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, এই বিধির মাধ্যমে তরুণদের আন্দোলনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত করতে চাইছে বিজেপি সরকার। দুই দলই নির্দেশিকাটিকে ‘কালা বিধি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি সরকারবিরোধী আন্দোলনকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরছে। বিশেষ করে নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবাদ ও সরকার পরিবর্তনের দাবিকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উত্তর প্রদেশ সরকারের নতুন নির্দেশিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই বিধি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, নাকি আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করবে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
উত্তর প্রদেশে চাকরির বিধি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
0:00 0:00
1.0x