দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার নদ-নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

সাতক্ষীরার নদ-নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
নদ-নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

“নদী বাঁচাও প্রকৃতি ও মানুষ বাঁচাও” এবং “দখল-দূষণমুক্ত প্রবাহমান জীবন্ত নদী চাই”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় বিশ্ব নদীকৃত্য দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নদ-নদী রক্ষা, স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দখল-দূষণ বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে এ উপলক্ষে সুধী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উন্নয়ন সংগঠন এএলআরডি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বেলা, স্বদেশ, হেড, সামস, সিডো, সুশীলন, উত্তরণ, সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, অর্জন ফাউন্ডেশন, ক্রিসেন্ট, নবদিগন্ত ফাউন্ডেশন, সৃজনী মহিলা লোক কেন্দ্র, আশা লোককেন্দ্র, উদ্দীপ্ত মহিলা সংস্থা, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এবং সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক ও ‘স্বদেশ’-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত। অনুষ্ঠানে নদী ও পরিবেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে একটি লিখিত ধারণাপত্র পাঠ করা হয়।

আরও  পড়ুন, সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের ব্রাঞ্চ অ্যাসেসমেন্ট অনুষ্ঠিত

সভায় অতিথি ও মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, বন কর্মকর্তা আও সফর রহমান, শিক্ষাবিদ কৃষ্ণপদ সরকার, প্রফেসর ইদ্রিস আলী ও পরিবেশ কর্মকর্তা আশরাফ আলী।এ ছাড়া বক্তব্য দেন আবু জাফর সিদ্দিকী, বজলুর রহমান, আব্দুস সামাদ, মফিজুল ইসলাম, যুব নেতা আব্দুর রহমান, আলী নূর খান বাবুলসহ অনেকে।আলোচনায় বক্তারা বলেন, নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়; একটি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, পরিবেশ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নদীর অস্তিত্ব সরাসরি সম্পর্কিত।দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা সাতক্ষীরায় কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ, খোলপেটুয়া, ইছামতি, কালিন্দী, কাকশিয়ালী ও রায়মঙ্গলসহ অসংখ্য নদ-নদী রয়েছে। তবে দখল-দূষণ, পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার প্রভাবে এসব নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য ক্রমেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে শুধু পরিবেশ নয়, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও জলপ্রবাহকে কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।

আরও  পড়ুন, ফতুল্লায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ দুই মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু

সভায় নদী ও পরিবেশ রক্ষায় আট দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-নদী ও খাল দ্রুত দখলমুক্ত করা; নদী ও জলপ্রবাহকে দূষণমুক্ত রাখা; নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার; জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা; নদী, খাল ও জলাভূমির পরিবেশগত ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠা; লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নদীকেন্দ্রিক অভিযোজন ব্যবস্থা গ্রহণ; নদী রক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; নদী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ জোরদার করা।আলোচনায় অতিথিরা বলেন, সাতক্ষীরার নদীগুলো এ অঞ্চলের প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। নদী রক্ষা মানে শুধু নদীর পানিপ্রবাহ রক্ষা নয়; এর সঙ্গে নদীর তীর, সংযোগ খাল, জলাভূমি, জীববৈচিত্র্য এবং নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবনও সুরক্ষিত করা।তাঁরা বলেন, দখল ও দূষণমুক্ত জীবন্ত নদী নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, গবেষক, পরিবেশকর্মী ও তরুণ প্রজন্মকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা গেলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।বক্তারা আরও বলেন, সাতক্ষীরার নদী বাঁচলে বাঁচবে এ অঞ্চলের পরিবেশ, প্রকৃতি ও মানুষের জীবন; সুরক্ষিত হবে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।

বিষয় : দূষণমুক্ত নদী রক্ষা নদীকৃত্য দিবস

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


সাতক্ষীরার নদ-নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

“নদী বাঁচাও প্রকৃতি ও মানুষ বাঁচাও” এবং “দখল-দূষণমুক্ত প্রবাহমান জীবন্ত নদী চাই”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় বিশ্ব নদীকৃত্য দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নদ-নদী রক্ষা, স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দখল-দূষণ বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে এ উপলক্ষে সুধী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উন্নয়ন সংগঠন এএলআরডি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বেলা, স্বদেশ, হেড, সামস, সিডো, সুশীলন, উত্তরণ, সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, অর্জন ফাউন্ডেশন, ক্রিসেন্ট, নবদিগন্ত ফাউন্ডেশন, সৃজনী মহিলা লোক কেন্দ্র, আশা লোককেন্দ্র, উদ্দীপ্ত মহিলা সংস্থা, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এবং সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক ও ‘স্বদেশ’-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত। অনুষ্ঠানে নদী ও পরিবেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে একটি লিখিত ধারণাপত্র পাঠ করা হয়।

আরও  পড়ুন, সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের ব্রাঞ্চ অ্যাসেসমেন্ট অনুষ্ঠিত

সভায় অতিথি ও মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, বন কর্মকর্তা আও সফর রহমান, শিক্ষাবিদ কৃষ্ণপদ সরকার, প্রফেসর ইদ্রিস আলী ও পরিবেশ কর্মকর্তা আশরাফ আলী।এ ছাড়া বক্তব্য দেন আবু জাফর সিদ্দিকী, বজলুর রহমান, আব্দুস সামাদ, মফিজুল ইসলাম, যুব নেতা আব্দুর রহমান, আলী নূর খান বাবুলসহ অনেকে।আলোচনায় বক্তারা বলেন, নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়; একটি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, পরিবেশ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নদীর অস্তিত্ব সরাসরি সম্পর্কিত।দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা সাতক্ষীরায় কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ, খোলপেটুয়া, ইছামতি, কালিন্দী, কাকশিয়ালী ও রায়মঙ্গলসহ অসংখ্য নদ-নদী রয়েছে। তবে দখল-দূষণ, পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার প্রভাবে এসব নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য ক্রমেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে শুধু পরিবেশ নয়, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও জলপ্রবাহকে কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।

আরও  পড়ুন, ফতুল্লায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ দুই মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু

সভায় নদী ও পরিবেশ রক্ষায় আট দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-নদী ও খাল দ্রুত দখলমুক্ত করা; নদী ও জলপ্রবাহকে দূষণমুক্ত রাখা; নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার; জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা; নদী, খাল ও জলাভূমির পরিবেশগত ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠা; লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নদীকেন্দ্রিক অভিযোজন ব্যবস্থা গ্রহণ; নদী রক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; নদী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ জোরদার করা।আলোচনায় অতিথিরা বলেন, সাতক্ষীরার নদীগুলো এ অঞ্চলের প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। নদী রক্ষা মানে শুধু নদীর পানিপ্রবাহ রক্ষা নয়; এর সঙ্গে নদীর তীর, সংযোগ খাল, জলাভূমি, জীববৈচিত্র্য এবং নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবনও সুরক্ষিত করা।তাঁরা বলেন, দখল ও দূষণমুক্ত জীবন্ত নদী নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, গবেষক, পরিবেশকর্মী ও তরুণ প্রজন্মকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা গেলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।বক্তারা আরও বলেন, সাতক্ষীরার নদী বাঁচলে বাঁচবে এ অঞ্চলের পরিবেশ, প্রকৃতি ও মানুষের জীবন; সুরক্ষিত হবে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সাতক্ষীরার নদ-নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
0:00 0:00
1.0x