দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
আপডেট : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফতুল্লায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ দুই মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু

ফতুল্লায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ দুই মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ দুই মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আতিয়া ও জিদনির মৃত্যু হয়। গুরুতর দগ্ধ লামিয়া বর্তমানে আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। অপর দুই শিক্ষার্থী আসিয়া ও সুমাইয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসার ভবনের তিনতলার ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাঁচ শিক্ষার্থীই ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী।স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাদে খেলাধুলা করছিল। মাদ্রাসা ভবনের পাশ দিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন ও একটি ট্রান্সফরমার রয়েছে। খেলার সময় বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে অথবা কোনো কারণে ছাদ বিদ্যুতায়িত হয়ে শিক্ষার্থীরা দগ্ধ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।হঠাৎ বিকট শব্দ ও শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ছাদ থেকে দগ্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনেন। দ্রুত তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাঁচজনকেই ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

আরও  পড়ুন, বাকৃবির গেস্ট হাউসে ইয়াবাসহ চারজন আটক

ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, পাঁচ শিক্ষার্থীই ইলেকট্রিক ফ্ল্যাশ বার্নে দগ্ধ হয়েছিল। আতিয়ার শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।এরপর ৮২ শতাংশ দগ্ধ জিদনি আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিল। বুধবার সকাল ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।বর্তমানে ৫৫ শতাংশ দগ্ধ লামিয়া আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। অপর দুই শিক্ষার্থী আসিয়া ও সুমাইয়া তুলনামূলক কম দগ্ধ হওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তাদের আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কীভাবে শিক্ষার্থীরা বিদ্যুতের সংস্পর্শে এলো এবং ভবনের ছাদে নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে মাদ্রাসা ও স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদ ও আশপাশে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


ফতুল্লায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ দুই মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আতিয়া ও জিদনির মৃত্যু হয়। গুরুতর দগ্ধ লামিয়া বর্তমানে আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। অপর দুই শিক্ষার্থী আসিয়া ও সুমাইয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসার ভবনের তিনতলার ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাঁচ শিক্ষার্থীই ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী।স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাদে খেলাধুলা করছিল। মাদ্রাসা ভবনের পাশ দিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন ও একটি ট্রান্সফরমার রয়েছে। খেলার সময় বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে অথবা কোনো কারণে ছাদ বিদ্যুতায়িত হয়ে শিক্ষার্থীরা দগ্ধ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।হঠাৎ বিকট শব্দ ও শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ছাদ থেকে দগ্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনেন। দ্রুত তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাঁচজনকেই ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

আরও  পড়ুন, বাকৃবির গেস্ট হাউসে ইয়াবাসহ চারজন আটক

ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, পাঁচ শিক্ষার্থীই ইলেকট্রিক ফ্ল্যাশ বার্নে দগ্ধ হয়েছিল। আতিয়ার শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।এরপর ৮২ শতাংশ দগ্ধ জিদনি আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিল। বুধবার সকাল ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।বর্তমানে ৫৫ শতাংশ দগ্ধ লামিয়া আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। অপর দুই শিক্ষার্থী আসিয়া ও সুমাইয়া তুলনামূলক কম দগ্ধ হওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তাদের আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কীভাবে শিক্ষার্থীরা বিদ্যুতের সংস্পর্শে এলো এবং ভবনের ছাদে নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে মাদ্রাসা ও স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদ ও আশপাশে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ফতুল্লায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ দুই মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু
0:00 0:00
1.0x