ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার। এ পরিস্থিতিতে নাগরিকের কাছে সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সাতক্ষীরার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ শুধু নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করে না, একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথও সুগম করে।‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসে। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রিপন বিশ্বাস, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তৈয়ব হাসান শামসুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মো. সাকিবুর রহমান, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, পল্টু বাসার, কোস্টাল সংস্থার শাহীন এবং সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও রসুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী।আলোচনায় বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে তথ্য এখন মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে যাচাই-বাছাইহীন, বিভ্রান্তিকর ও অপতথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন, আশাশুনিতে বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ধস, প্লাবনের শঙ্কায় কয়েক গ্রামের মানুষ
ফলে তথ্যের উৎস যাচাই, সঠিক তথ্য শনাক্তকরণ এবং দায়িত্বশীলভাবে তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করা জরুরি।তারা বলেন, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো গেলে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নাগরিকরা প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ার পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।বক্তারা আরও বলেন, তথ্য গোপন বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার কোনোভাবেই একটি জবাবদিহিমূলক সমাজের জন্য সহায়ক নয়। নাগরিকের প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ যত সহজ ও কার্যকর হবে, রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মানুষের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা তত বাড়বে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তারও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।সভায় তথ্য অধিকার আইনকে শুধু সরকারি তথ্য পাওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে না দেখে নাগরিক ক্ষমতায়ন, সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর প্রবন্ধ উপস্থাপনার মাধ্যমে আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম।আলোচনায় বক্তাদের অভিন্ন মত ছিল—ডিজিটাল যুগে তথ্যের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও। তাই তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল প্রচার এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে অপতথ্য মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর পথ।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার। এ পরিস্থিতিতে নাগরিকের কাছে সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সাতক্ষীরার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ শুধু নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করে না, একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথও সুগম করে।‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসে। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রিপন বিশ্বাস, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তৈয়ব হাসান শামসুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মো. সাকিবুর রহমান, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, পল্টু বাসার, কোস্টাল সংস্থার শাহীন এবং সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও রসুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী।আলোচনায় বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে তথ্য এখন মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে যাচাই-বাছাইহীন, বিভ্রান্তিকর ও অপতথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন, আশাশুনিতে বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ধস, প্লাবনের শঙ্কায় কয়েক গ্রামের মানুষ
ফলে তথ্যের উৎস যাচাই, সঠিক তথ্য শনাক্তকরণ এবং দায়িত্বশীলভাবে তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করা জরুরি।তারা বলেন, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো গেলে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নাগরিকরা প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ার পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।বক্তারা আরও বলেন, তথ্য গোপন বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার কোনোভাবেই একটি জবাবদিহিমূলক সমাজের জন্য সহায়ক নয়। নাগরিকের প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ যত সহজ ও কার্যকর হবে, রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মানুষের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা তত বাড়বে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তারও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।সভায় তথ্য অধিকার আইনকে শুধু সরকারি তথ্য পাওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে না দেখে নাগরিক ক্ষমতায়ন, সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর প্রবন্ধ উপস্থাপনার মাধ্যমে আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম।আলোচনায় বক্তাদের অভিন্ন মত ছিল—ডিজিটাল যুগে তথ্যের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও। তাই তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল প্রচার এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে অপতথ্য মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর পথ।

আপনার মতামত লিখুন