যমুনা অয়েলের মাসুদুল ইসলামকে ঘিরে ষড়যন্ত্রমূলক অসত্য ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারে তুমুল সমালোচনার ঝড়
যোগাযোগমাধ্যমে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের জিএম (এইচআর) মোঃ মাসুদুল ইসলামকে ঘিরে ধারাবাহিকভাবে একাধিক বিভ্রান্তিকর, একপাক্ষিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, তথ্য যাচাই ছাড়াই ব্যক্তিগত আক্রমণ, মানহানিকর বক্তব্য এবং অসত্য তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও মাসুদুল ইসলামের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কার্যক্রম, বদলি, পদোন্নতি কিংবা শৃঙ্খলামূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সেই বিষয়গুলোকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ব্যক্তি বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানো দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। বিভিন্ন প্রতিবেদনে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও তা নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আদালত গ্রহণযোগ্য কোনো দলিল উপস্থাপন করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে একজন কর্মকর্তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরিজীবন, ব্যক্তিগত সম্পদ ও পারিবারিক বিষয় এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন , রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ, ডাকাত সদস্য নিহত তাদের ভাষ্য, “অভিযোগ উঠেছে” কিংবা “সূত্র জানিয়েছে” এমন অস্পষ্ট ও যাচাইবিহীন বক্তব্যের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হয়েছে।এছাড়া যমুনা অয়েলের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বদলি, পদোন্নতি কিংবা সাময়িক বরখাস্তের মতো সিদ্ধান্ত কোম্পানির নীতিমালা, বিভাগীয় সুপারিশ এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের মাধ্যমেই কার্যকর হয়। কিন্তু একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে মাসুদুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে বদলি কিংবা পদোন্নতি হচ্ছে। কোনো একক কর্মকর্তা পুরো প্রতিষ্ঠানের সকল সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করেন এমন দাবি বাস্তবতা বিবর্জিত ও অতিরঞ্জিত বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।যমুনা অয়েলের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একটি স্বার্থান্বেষী মহল অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক পরিবর্তন ও শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইনভিত্তিক পোর্টালে যাচাইবিহীন তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আরও পড়ুন , টিকটক ভিডিওকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গায় গৃহবধূর দাফন নিয়ে তীব্র উত্তেজনা পর দাফন সম্পন্নএ বিষয়ে মোঃ মাসুদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,“একটি স্বার্থান্বেষী মহল সুযোগ-সুবিধা নিতে ব্যর্থ হয়ে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর, অসত্য ও মানহানিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। আমি কোনো অন্যায় বা অনিয়ম করিনি। সরকার ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছি। হয়তো আমাকে সরানোর লক্ষ্যেই একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি আল্লাহর ওপর বিচার ছেড়ে দিয়েছি।”তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও গ্রাহকদের সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ অপপ্রচার চালাতে পারে, তবে সত্য একদিন প্রকাশ হবেই।”সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ তবে সেই স্বাধীনতার আড়ালে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ লেনদেন বা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুতর অভিযোগ আনতে হলে সুনির্দিষ্ট তদন্ত, গ্রহণযোগ্য প্রমাণ ও আইনগত ভিত্তি থাকা জরুরি। বিচারিক বা প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া কাউকে “দুর্নীতিবাজ” কিংবা “সিন্ডিকেট প্রধান” আখ্যা দেওয়া দায়িত্বশীল গণমাধ্যমচর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।আরও পড়ুন , পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে বরিশালে মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, দুই কিশোর আটক