ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানাধীন দারোগারহাট রোডের প্রায় ৩০০-৩৫০ বৎসরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বার্মা মসজিদ ও স্কুল সংলগ্ন একটি গলিতে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার হটস্পটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা। তাদের অভিযোগে আয়েশা ওরফে জিল্লি, লাভলী এবং তাদের ভাই ইকবালের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ সেখানে সংঘবদ্ধভাবে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের অভিযোগও করেছেন।মসজিদ পাশেই স্কুল থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের উদ্বেগ বেশি। তাদের দাবি, প্রশাসন অতিদ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনবে পাশাপাশি এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, নেটওয়ার্কের শিকড়, অর্থায়নের উৎস, সহযোগী নেটওয়ার্ক এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ উদ্ধার সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় এনে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত 'জিরো টলারেন্স নীতি' বাস্তবায়ন করবে।এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে লাভলী বলে দাবি করা এক নারীকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ইয়াবা সংক্রান্ত কথোপকথন করতে শোনা যায়।কথোপকথনে ‘১৫ হাজার ইয়াবা’, অন্য একজনের ‘তিন হাজার ইয়াবা’ এবং প্রতিদিন ‘১০-১৫ লাখ টাকার মাল’ সরবরাহের কথা শোনা যায়।
আড়ও পড়ুন, টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো চলছে তিনদিনব্যাপী ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’
ভিডিওতে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘পার্টি’ ১৫ হাজার ইয়াবাসহ ধরা পড়েছে। যাদের কাছ থেকে ইয়াবা দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছিল, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য ৩/৪ দিনের সময় নেওয়ার কথাও উঠে আসে। ওই ‘পার্টি’কে দীর্ঘদিনের পরিচিত উল্লেখ করে নিয়মিত বড় অঙ্কের ‘মাল’ বাকিতে দেওয়ার কথাও বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে ধরা পড়া ব্যক্তি প্রশাসনের কাছে তার বাড়ির অবস্থান জানিয়ে দিতে পারে কি না এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেও শোনা যায়।অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে লাভলী মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন।তিনি বলেন, “আমি কাপড়ের ব্যবসা করি। আমি কোনো ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কথোপকথনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততাও অস্বীকার করেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে আয়েশা প্রকাশ (জিল্লি) বলে দাবি করা এক নারীকে এলাকায় পুলিশ আসার বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওতে তিনি বলেন, “কালকে গলিতে পুলিশ আসছে।” পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, “ব্যবসা করলে পুলিশ তো আসবে।” জবাবে ওই নারী বলেন আমাদের ‘পুরোনো ব্যবসা’ 'পুলিশ আমাদের কিছুই করতে পারবে না।' উল্লেখ্য যে, একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি তার বিরুদ্ধে অতীতের একাধিক মামলা রয়েছে।আয়েশার সঙ্গে মুঠোফোনে মাদক ব্যবসার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। স্থানীয়দের অভিযোগে আয়েশা ও লাভলীর ভাই ইকবালের নামও উঠে এসেছে। তাদের দাবি, কথিত মাদক ব্যবসায় তিনি সহযোগিতা করেন। ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, তার বোন অতীতে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল তবে পরবর্তীতে সামাজিকভাবে অঙ্গীকার করার পর এখন আর সে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নেই। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত কথা বলার আগ্রহও প্রকাশ করেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, দারোগারহাটের ওই স্থানে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের ভাষায়, বিষয়টি এলাকায় অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’। কয়েকজনের দাবি, সেখানে শুধু খুচরা পর্যায়ে ইয়াবা বিক্রি নয়, নগরীর অন্য এলাকার মাদক বিক্রেতাদের কাছেও সরবরাহ করা হয়।আয়েশা- লাভলী -ইকবালকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উপরে উল্লেখিত মাদকের লেনদেনের কথোপকথন নগরীতে মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত বরিশাল কলোনী এলাকার অতীতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ফারুকের তৎকালীন সেকেন্ডইন কমান্ড ‘শাকিল’ গংয়ের ব্যক্তিদের কথোপকথন বলে দাবি করেছেন।এলাকার একাধিক বাসিন্দা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে মাদকবিরোধী অবস্থান নিলে ভয়ভীতি/মারধর/ হয়রানির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।বরং এই মাদক নেটওয়ার্কের শিকড়, অর্থায়নের উৎস, সহযোগী নেটওয়ার্ক এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ উদ্ধার সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা জরুরি। বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তব অর্থে সফল হতে হলে অভিযোগের প্রতিটি দিক নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
আড়ও পড়ুন, নিখোঁজের চার দিন পর জিকে খালে বৃদ্ধার মরদেহ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা শুধু একটি নিষিদ্ধ মাদক নয় এটি জনস্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার জন্য বহুমাত্রিক হুমকি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি এলাকায় মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠলে তার প্রভাব শুধু ব্যবহারকারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক সামাজিক কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মাদকবিরোধী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য শুধু খুচরা বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক অনুসন্ধান, সম্পদের উৎস যাচাই, ব্যাংকিং লেনদেন বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার মাদক নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।একজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর অনেক পরিবার প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে চায় না। এক অভিভাবক বলেন, “মসজিদ ও স্কুলের পাশে মাদক কেনাবেচা খুবই উদ্বেগজনক। স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের নিয়ে আমরা চিন্তিত। বিষয়টি নিয়ে অতি দ্রুত ব্যবস্থা চাই।”বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা শুধু একটি নিষিদ্ধ মাদক নয় এটি জনস্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার জন্য বহুমাত্রিক হুমকি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি এলাকায় মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠলে তার প্রভাব শুধু ব্যবহারকারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক সামাজিক কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মাদকবিরোধী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য শুধু খুচরা বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক অনুসন্ধান, সম্পদের উৎস যাচাই, ব্যাংকিং লেনদেন বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার মাদক নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।এ বিষয়ে সদরঘাট থানার সদ্য যোগদান করা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হায়দার বলেন, “আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। সদরঘাট এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীর স্থান হবে না।" তিনি আরও বলেন, “হয় তাদের মাদক ব্যবসা ও সেবন ছাড়তে হবে, নয়তো এলাকা ছাড়তে হবে, আর তা না হলে আইনের মুখোমুখি হয়ে জেলে যেতে হবে। আমি যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন মসজিদ ও সচেতনতামূলক সভায় এলাকাবাসীকে এ বিষয়ে সতর্ক করে আসছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু খুচরা পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে থেমে না থেকে সম্ভাব্য সরবরাহচক্র, সহযোগী এবং অর্থের উৎসও তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, মসজিদ ও স্কুলসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত ও আকস্মিক মাদকবিরোধী অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানাধীন দারোগারহাট রোডের প্রায় ৩০০-৩৫০ বৎসরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বার্মা মসজিদ ও স্কুল সংলগ্ন একটি গলিতে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার হটস্পটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা। তাদের অভিযোগে আয়েশা ওরফে জিল্লি, লাভলী এবং তাদের ভাই ইকবালের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ সেখানে সংঘবদ্ধভাবে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের অভিযোগও করেছেন।মসজিদ পাশেই স্কুল থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের উদ্বেগ বেশি। তাদের দাবি, প্রশাসন অতিদ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনবে পাশাপাশি এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, নেটওয়ার্কের শিকড়, অর্থায়নের উৎস, সহযোগী নেটওয়ার্ক এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ উদ্ধার সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় এনে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত 'জিরো টলারেন্স নীতি' বাস্তবায়ন করবে।এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে লাভলী বলে দাবি করা এক নারীকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ইয়াবা সংক্রান্ত কথোপকথন করতে শোনা যায়।কথোপকথনে ‘১৫ হাজার ইয়াবা’, অন্য একজনের ‘তিন হাজার ইয়াবা’ এবং প্রতিদিন ‘১০-১৫ লাখ টাকার মাল’ সরবরাহের কথা শোনা যায়।
আড়ও পড়ুন, টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো চলছে তিনদিনব্যাপী ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’
ভিডিওতে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘পার্টি’ ১৫ হাজার ইয়াবাসহ ধরা পড়েছে। যাদের কাছ থেকে ইয়াবা দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছিল, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য ৩/৪ দিনের সময় নেওয়ার কথাও উঠে আসে। ওই ‘পার্টি’কে দীর্ঘদিনের পরিচিত উল্লেখ করে নিয়মিত বড় অঙ্কের ‘মাল’ বাকিতে দেওয়ার কথাও বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে ধরা পড়া ব্যক্তি প্রশাসনের কাছে তার বাড়ির অবস্থান জানিয়ে দিতে পারে কি না এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেও শোনা যায়।অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে লাভলী মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন।তিনি বলেন, “আমি কাপড়ের ব্যবসা করি। আমি কোনো ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কথোপকথনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততাও অস্বীকার করেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে আয়েশা প্রকাশ (জিল্লি) বলে দাবি করা এক নারীকে এলাকায় পুলিশ আসার বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওতে তিনি বলেন, “কালকে গলিতে পুলিশ আসছে।” পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, “ব্যবসা করলে পুলিশ তো আসবে।” জবাবে ওই নারী বলেন আমাদের ‘পুরোনো ব্যবসা’ 'পুলিশ আমাদের কিছুই করতে পারবে না।' উল্লেখ্য যে, একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি তার বিরুদ্ধে অতীতের একাধিক মামলা রয়েছে।আয়েশার সঙ্গে মুঠোফোনে মাদক ব্যবসার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। স্থানীয়দের অভিযোগে আয়েশা ও লাভলীর ভাই ইকবালের নামও উঠে এসেছে। তাদের দাবি, কথিত মাদক ব্যবসায় তিনি সহযোগিতা করেন। ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, তার বোন অতীতে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল তবে পরবর্তীতে সামাজিকভাবে অঙ্গীকার করার পর এখন আর সে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নেই। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত কথা বলার আগ্রহও প্রকাশ করেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, দারোগারহাটের ওই স্থানে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের ভাষায়, বিষয়টি এলাকায় অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’। কয়েকজনের দাবি, সেখানে শুধু খুচরা পর্যায়ে ইয়াবা বিক্রি নয়, নগরীর অন্য এলাকার মাদক বিক্রেতাদের কাছেও সরবরাহ করা হয়।আয়েশা- লাভলী -ইকবালকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উপরে উল্লেখিত মাদকের লেনদেনের কথোপকথন নগরীতে মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত বরিশাল কলোনী এলাকার অতীতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ফারুকের তৎকালীন সেকেন্ডইন কমান্ড ‘শাকিল’ গংয়ের ব্যক্তিদের কথোপকথন বলে দাবি করেছেন।এলাকার একাধিক বাসিন্দা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে মাদকবিরোধী অবস্থান নিলে ভয়ভীতি/মারধর/ হয়রানির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।বরং এই মাদক নেটওয়ার্কের শিকড়, অর্থায়নের উৎস, সহযোগী নেটওয়ার্ক এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ উদ্ধার সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা জরুরি। বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তব অর্থে সফল হতে হলে অভিযোগের প্রতিটি দিক নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
আড়ও পড়ুন, নিখোঁজের চার দিন পর জিকে খালে বৃদ্ধার মরদেহ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা শুধু একটি নিষিদ্ধ মাদক নয় এটি জনস্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার জন্য বহুমাত্রিক হুমকি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি এলাকায় মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠলে তার প্রভাব শুধু ব্যবহারকারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক সামাজিক কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মাদকবিরোধী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য শুধু খুচরা বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক অনুসন্ধান, সম্পদের উৎস যাচাই, ব্যাংকিং লেনদেন বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার মাদক নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।একজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর অনেক পরিবার প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে চায় না। এক অভিভাবক বলেন, “মসজিদ ও স্কুলের পাশে মাদক কেনাবেচা খুবই উদ্বেগজনক। স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের নিয়ে আমরা চিন্তিত। বিষয়টি নিয়ে অতি দ্রুত ব্যবস্থা চাই।”বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা শুধু একটি নিষিদ্ধ মাদক নয় এটি জনস্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার জন্য বহুমাত্রিক হুমকি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি এলাকায় মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠলে তার প্রভাব শুধু ব্যবহারকারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক সামাজিক কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মাদকবিরোধী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য শুধু খুচরা বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক অনুসন্ধান, সম্পদের উৎস যাচাই, ব্যাংকিং লেনদেন বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার মাদক নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।এ বিষয়ে সদরঘাট থানার সদ্য যোগদান করা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হায়দার বলেন, “আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। সদরঘাট এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীর স্থান হবে না।" তিনি আরও বলেন, “হয় তাদের মাদক ব্যবসা ও সেবন ছাড়তে হবে, নয়তো এলাকা ছাড়তে হবে, আর তা না হলে আইনের মুখোমুখি হয়ে জেলে যেতে হবে। আমি যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন মসজিদ ও সচেতনতামূলক সভায় এলাকাবাসীকে এ বিষয়ে সতর্ক করে আসছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু খুচরা পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে থেমে না থেকে সম্ভাব্য সরবরাহচক্র, সহযোগী এবং অর্থের উৎসও তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, মসজিদ ও স্কুলসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত ও আকস্মিক মাদকবিরোধী অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন