দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নরসিংদীতে হারপিক খেয়ে মা-মেয়ের মৃত্যু, হাসপাতালে আড়াই বছরের ছেলে, বাবা আটক

নরসিংদীতে হারপিক খেয়ে মা-মেয়ের মৃত্যু, হাসপাতালে আড়াই বছরের ছেলে, বাবা আটক
হারপিক খেয়ে মা-মেয়ের মৃত্যু

 নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক কলহের জেরে একই পরিবারের তিন সদস্য বিষপান করেছেন। এতে মা ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আড়াই বছর বয়সী এক ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এ ঘটনায় নিহত উর্মির মা নার্গিস বেগম মাধবদী থানায় বাদী হয়ে মামলা ডায়ের করেন। রাতেই শিশুদের বাবা মিলন মিয়াকে আটক করেন পুলিশ।বিষয়টি আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিশ্চিত করেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি জানান, এর আগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া একটার দিকে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।মারা যাওয়া দুজন হলেন উর্মি (২২) ও তাঁর মেয়ে মিম (৫)। চিকিৎসাধীন শিশুটির নাম আবির হোসেন, বয়স আড়াই বছর। উর্মির স্বামী মিলন পেশায় গাড়িচালক। তাঁরা মাধবদী থানার বসুন্ধরা এলাকার কান্দাপাড়া এলাকার শেফালী বেগম নামে এক নারীর বাড়িতে ভাড়া করা বাসায় থাকতেন।ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে উর্মি ও তাঁর স্বামী মিলনের মধ্যে ঝগড়া ও মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে মিলন উর্মিকে জুতা দিয়ে মারধর করেন। এরই জেরে উর্মি দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে যান।

আরও  পড়ুন, গঙ্গাচড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী আলোচনা সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত

পরে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় গিয়ে উর্মি হারপিকের বিষজাতীয় তরল পদার্থ পান করেন এবং দুই শিশুকেও তা পান করান। এতে তিনজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে অটোরিকশায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উর্মিকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুই শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মিম ও আবিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক মিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আবিরকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।ওসি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী মিলন ড্রাইভারকে আটক করা হয়েছে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক মিলনকে আজ দুপুরে নরসিংদীর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়। 

বিষয় : মা-মেয়ের মৃত্যু, হারপিক খেয়ে পারিবারিক কলহ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নরসিংদীতে হারপিক খেয়ে মা-মেয়ের মৃত্যু, হাসপাতালে আড়াই বছরের ছেলে, বাবা আটক

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

 নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক কলহের জেরে একই পরিবারের তিন সদস্য বিষপান করেছেন। এতে মা ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আড়াই বছর বয়সী এক ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এ ঘটনায় নিহত উর্মির মা নার্গিস বেগম মাধবদী থানায় বাদী হয়ে মামলা ডায়ের করেন। রাতেই শিশুদের বাবা মিলন মিয়াকে আটক করেন পুলিশ।বিষয়টি আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিশ্চিত করেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি জানান, এর আগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া একটার দিকে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।মারা যাওয়া দুজন হলেন উর্মি (২২) ও তাঁর মেয়ে মিম (৫)। চিকিৎসাধীন শিশুটির নাম আবির হোসেন, বয়স আড়াই বছর। উর্মির স্বামী মিলন পেশায় গাড়িচালক। তাঁরা মাধবদী থানার বসুন্ধরা এলাকার কান্দাপাড়া এলাকার শেফালী বেগম নামে এক নারীর বাড়িতে ভাড়া করা বাসায় থাকতেন।ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে উর্মি ও তাঁর স্বামী মিলনের মধ্যে ঝগড়া ও মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে মিলন উর্মিকে জুতা দিয়ে মারধর করেন। এরই জেরে উর্মি দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে যান।

আরও  পড়ুন, গঙ্গাচড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী আলোচনা সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত

পরে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় গিয়ে উর্মি হারপিকের বিষজাতীয় তরল পদার্থ পান করেন এবং দুই শিশুকেও তা পান করান। এতে তিনজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে অটোরিকশায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উর্মিকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুই শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মিম ও আবিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক মিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আবিরকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।ওসি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী মিলন ড্রাইভারকে আটক করা হয়েছে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক মিলনকে আজ দুপুরে নরসিংদীর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়। 


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত