ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪নং পরাণগঞ্জ ইউনিয়নের বাঘাডোবা গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কৃষকের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা নগদ ৪ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, মূল্যবান কাগজপত্রসহ দুইটি ষাঁড় ও একটি গাভি নিয়ে গেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী হারুন অর রশিদ জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় হামলাকারীরা রামদা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে বাড়ির বিভিন্ন স্থাপনা ও আসবাবপত্রে হামলা চালান। তাঁরা ঘরের দরজা-জানালা, শোকেস, আলমারি, ফ্রিজ ও এলইডি টেলিভিশন ভাঙচুর করেন। পাশাপাশি থালা-বাসন, কাপড়চোপড়, মূল্যবান দলিলপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তছনছ করার অভিযোগও করা হয়েছে।হারুন অর রশিদের অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়ি থেকে নগদ ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এ ছাড়া গোয়ালঘরে থাকা দুইটি ষাঁড় ও একটি গাভি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই গবাদিপশুর আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বলে দাবি পরিবারের।এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন, পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, ডুবে গেল রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু
হামলায় মিনারুল, আমিরুল ও মনিরুল নামে তিনজন আহত হন। পরে তাঁদের ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম, ফজলুল হক, ফারুক মিয়া, বিল্লাল মিয়া, সজিব, হযরত আলী, রশিদ, তোফাজ্জল, আব্দুল হাই, শামীম, আব্দুল গফর, খোরশেদ, কেরামত, মাদারী, মোসলেম, মতিন, মিতুল, বাধন, কালাম, আনোয়ারা, সুইটি, সালমা ও রাজিয়া খাতুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে হামলা, মারামারি, লুটপাট ও চুরির অভিযোগে আরও তিনটি মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় ২ মার্চ মামলা করা হয় যার মামলার নম্বর ৪। পরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৪ নম্বর আমলি আদালতে ৭ মে ২০২৬ তারিখে ৮৫৮/২০২৬ নম্বর মোকদ্দমা দায়ের করা হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে।কোতোয়ালী মডেল থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এসআই আব্দুর রহিম বলেন, “অধিকাংশ আসামি জামিনে আছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হবে।”ভুক্তভোগী পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
বিষয় : জমি-সংক্রান্ত গরু লুট কৃষকের বাড়ি

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪নং পরাণগঞ্জ ইউনিয়নের বাঘাডোবা গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কৃষকের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা নগদ ৪ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, মূল্যবান কাগজপত্রসহ দুইটি ষাঁড় ও একটি গাভি নিয়ে গেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী হারুন অর রশিদ জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় হামলাকারীরা রামদা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে বাড়ির বিভিন্ন স্থাপনা ও আসবাবপত্রে হামলা চালান। তাঁরা ঘরের দরজা-জানালা, শোকেস, আলমারি, ফ্রিজ ও এলইডি টেলিভিশন ভাঙচুর করেন। পাশাপাশি থালা-বাসন, কাপড়চোপড়, মূল্যবান দলিলপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তছনছ করার অভিযোগও করা হয়েছে।হারুন অর রশিদের অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়ি থেকে নগদ ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এ ছাড়া গোয়ালঘরে থাকা দুইটি ষাঁড় ও একটি গাভি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই গবাদিপশুর আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বলে দাবি পরিবারের।এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন, পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, ডুবে গেল রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু
হামলায় মিনারুল, আমিরুল ও মনিরুল নামে তিনজন আহত হন। পরে তাঁদের ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম, ফজলুল হক, ফারুক মিয়া, বিল্লাল মিয়া, সজিব, হযরত আলী, রশিদ, তোফাজ্জল, আব্দুল হাই, শামীম, আব্দুল গফর, খোরশেদ, কেরামত, মাদারী, মোসলেম, মতিন, মিতুল, বাধন, কালাম, আনোয়ারা, সুইটি, সালমা ও রাজিয়া খাতুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে হামলা, মারামারি, লুটপাট ও চুরির অভিযোগে আরও তিনটি মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় ২ মার্চ মামলা করা হয় যার মামলার নম্বর ৪। পরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৪ নম্বর আমলি আদালতে ৭ মে ২০২৬ তারিখে ৮৫৮/২০২৬ নম্বর মোকদ্দমা দায়ের করা হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে।কোতোয়ালী মডেল থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এসআই আব্দুর রহিম বলেন, “অধিকাংশ আসামি জামিনে আছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হবে।”ভুক্তভোগী পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

আপনার মতামত লিখুন