দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

বৈধ আমদানি নেই, তবু ১১ হাজার কোটি টাকার হীরার বাজার

বৈধ আমদানি নেই, তবু ১১ হাজার কোটি টাকার হীরার বাজার
বাংলাদেশে হীরার বাজারে বড় রহস্য

রাজধানীর শ্যামলী স্কয়ার শপিং মলের একটি গয়নার দোকানের ফেসবুক পেজে মাত্র ৪ হাজার ৯৯৯ টাকায় ‘ডায়মন্ড নাকফুল’ বিক্রির বিজ্ঞাপন ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে দেশের হীরার বাজার নিয়ে। বিজ্ঞাপনে প্রাকৃতিক হীরা ও আকর্ষণীয় উপহারের কথা বলা হলেও খাতসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—বৈধ পথে হীরা আমদানি যেখানে প্রায় বন্ধ, সেখানে বাজারে এত হীরার উৎস কী?দেশে হীরার খনি নেই, উৎপাদনও হয় না। অথচ ব্যবসায়ীদের হিসাবে বর্তমানে বাংলাদেশে হীরার গয়নার বাজার ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দেশে হীরা আমদানির পরিমাণ প্রায় শূন্যের কোঠায় ছিল। ফলে বৈধ আমদানি না থাকলেও বাজারে বিপুল পরিমাণ হীরার উপস্থিতি চোরাচালান ও ল্যাবে তৈরি হীরার ব্যবহার নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।একসময় বাংলাদেশে হীরা আমদানি ও রপ্তানির সম্ভাবনাময় একটি খাত ছিল। ২০০৭ সালে সাভারের ব্রিলিয়ান্ট হীরা লিমিটেড বেলজিয়ামে মসৃণ হীরা রপ্তানি শুরু করে। পরে রেনেসান্স জুয়েলারি ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডও এ খাতে যুক্ত হয়।২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে হীরা রপ্তানি করে প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার আয় হয়। একই সময়ে ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে প্রায় ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের হীরা ও হীরার গয়না আমদানি হয়। এর প্রায় ৮৭ শতাংশই এসেছিল ভারত থেকে।

আরও  পড়ুন, বিদেশিদের ব্যাংক হিসাব খোলায় নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

কিন্তু ২০১৮ সালের পর বৈধভাবে হীরা আমদানির চিত্র প্রায় উধাও। গত কয়েক বছরে বৈধ আমদানির রেকর্ড নেই বললেই চলে। অথচ একই সময়ে দেশে হীরার গয়নার দোকান ও বিক্রি বেড়েছে।খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশের হীরার বাজারের বড় একটি অংশ চোরাচালানের মাধ্যমে আসা হীরার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে হীরা ও হীরার গয়না আসার অভিযোগ রয়েছে।এর সাম্প্রতিক উদাহরণও রয়েছে। গত ২ এপ্রিল যশোরে পাচারের সময় প্রায় ৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা মূল্যের ১৫৫ দশমিক ৭৬ গ্রাম হীরা ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ ভারতের তামিলনাড়ুর এক নাগরিককে আটক করা হয়।এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি যশোরের পাঁচভুলোট সীমান্ত এলাকা থেকে ভারত থেকে আসা প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের হীরার গয়নাসহ এক বাংলাদেশিকে আটক করে বিজিবি। ২০২১ সালেও সাতক্ষীরায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা মূল্যের ১৪৪টি হীরার গয়না জব্দ করা হয়েছিল।এসব ঘটনা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সীমান্তপথে নিয়মিতভাবেই হীরা ঢুকছে। তবে জব্দ হওয়া চালানের তুলনায় প্রকৃত চোরাচালানের পরিমাণ আরও বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বিষয় : চোরাচালান বৈধ আমদানি হীরার বাজার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


বৈধ আমদানি নেই, তবু ১১ হাজার কোটি টাকার হীরার বাজার

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানীর শ্যামলী স্কয়ার শপিং মলের একটি গয়নার দোকানের ফেসবুক পেজে মাত্র ৪ হাজার ৯৯৯ টাকায় ‘ডায়মন্ড নাকফুল’ বিক্রির বিজ্ঞাপন ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে দেশের হীরার বাজার নিয়ে। বিজ্ঞাপনে প্রাকৃতিক হীরা ও আকর্ষণীয় উপহারের কথা বলা হলেও খাতসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—বৈধ পথে হীরা আমদানি যেখানে প্রায় বন্ধ, সেখানে বাজারে এত হীরার উৎস কী?দেশে হীরার খনি নেই, উৎপাদনও হয় না। অথচ ব্যবসায়ীদের হিসাবে বর্তমানে বাংলাদেশে হীরার গয়নার বাজার ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দেশে হীরা আমদানির পরিমাণ প্রায় শূন্যের কোঠায় ছিল। ফলে বৈধ আমদানি না থাকলেও বাজারে বিপুল পরিমাণ হীরার উপস্থিতি চোরাচালান ও ল্যাবে তৈরি হীরার ব্যবহার নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।একসময় বাংলাদেশে হীরা আমদানি ও রপ্তানির সম্ভাবনাময় একটি খাত ছিল। ২০০৭ সালে সাভারের ব্রিলিয়ান্ট হীরা লিমিটেড বেলজিয়ামে মসৃণ হীরা রপ্তানি শুরু করে। পরে রেনেসান্স জুয়েলারি ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডও এ খাতে যুক্ত হয়।২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে হীরা রপ্তানি করে প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার আয় হয়। একই সময়ে ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে প্রায় ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের হীরা ও হীরার গয়না আমদানি হয়। এর প্রায় ৮৭ শতাংশই এসেছিল ভারত থেকে।

আরও  পড়ুন, বিদেশিদের ব্যাংক হিসাব খোলায় নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

কিন্তু ২০১৮ সালের পর বৈধভাবে হীরা আমদানির চিত্র প্রায় উধাও। গত কয়েক বছরে বৈধ আমদানির রেকর্ড নেই বললেই চলে। অথচ একই সময়ে দেশে হীরার গয়নার দোকান ও বিক্রি বেড়েছে।খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশের হীরার বাজারের বড় একটি অংশ চোরাচালানের মাধ্যমে আসা হীরার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে হীরা ও হীরার গয়না আসার অভিযোগ রয়েছে।এর সাম্প্রতিক উদাহরণও রয়েছে। গত ২ এপ্রিল যশোরে পাচারের সময় প্রায় ৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা মূল্যের ১৫৫ দশমিক ৭৬ গ্রাম হীরা ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ ভারতের তামিলনাড়ুর এক নাগরিককে আটক করা হয়।এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি যশোরের পাঁচভুলোট সীমান্ত এলাকা থেকে ভারত থেকে আসা প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের হীরার গয়নাসহ এক বাংলাদেশিকে আটক করে বিজিবি। ২০২১ সালেও সাতক্ষীরায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা মূল্যের ১৪৪টি হীরার গয়না জব্দ করা হয়েছিল।এসব ঘটনা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সীমান্তপথে নিয়মিতভাবেই হীরা ঢুকছে। তবে জব্দ হওয়া চালানের তুলনায় প্রকৃত চোরাচালানের পরিমাণ আরও বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত