দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

শিক্ষার মানোন্নয়নে মোবাইল ব্যবহারে সংযমের আহ্বান পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির

শিক্ষার মানোন্নয়নে মোবাইল ব্যবহারে সংযমের আহ্বান পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির

কিশোরগঞ্জে  মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

কক্সবাজারের আইফোনসহ  হারানো বিভিন্ন প্রকার  ৬০টি মোবাইল  উদ্ধার - মালিকদের কাছে হস্তান্তর

কক্সবাজারের আইফোনসহ হারানো বিভিন্ন প্রকার ৬০টি মোবাইল উদ্ধার - মালিকদের কাছে হস্তান্তর

কিশোরগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৬ সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৬ সম্পন্ন

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার তীর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস, ঝুঁকিতে ইউপি ভবন ও মসজিদ

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার তীর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস, ঝুঁকিতে ইউপি ভবন ও মসজিদ

শিক্ষা ও স্বাবলম্বিতায় নতুন উদ্যোগ: বদলগাছীতে শিক্ষার্থী ও নারীদের সহায়তা

শিক্ষা ও স্বাবলম্বিতায় নতুন উদ্যোগ: বদলগাছীতে শিক্ষার্থী ও নারীদের সহায়তা

পটিয়ার পাহাড়ে ডিবির অভিযান: মাটির নিচ থেকে উদ্ধার ৪ আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেপ্তার ২

পটিয়ার পাহাড়ে ডিবির অভিযান: মাটির নিচ থেকে উদ্ধার ৪ আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেপ্তার ২

স্কুলে যেতে হাঁটু পানি, দুর্ভোগে সিরাজগঞ্জের ২১৮ শিক্ষার্থী

স্কুলে যেতে হাঁটু পানি, দুর্ভোগে সিরাজগঞ্জের ২১৮ শিক্ষার্থী

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার তীর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস, ঝুঁকিতে ইউপি ভবন ও মসজিদ

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার তীর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস, ঝুঁকিতে ইউপি ভবন ও মসজিদ
তিস্তার তীর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস

তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের গোডাউনের হাট এলাকায় তীর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া এ ধসে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, একটি মসজিদ এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ভাঙনস্থল থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে অবস্থিত শহর রক্ষা বাঁধও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ওই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে রংপুর শহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০ মিটার এলাকাজুড়ে তীর রক্ষা বাঁধের কংক্রিট ব্লক একের পর এক নদীতে ধসে পড়ছে। এতে প্রায় ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ধসের ফলে নদীর তীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে এবং ঝুঁকির পরিধি ক্রমেই বাড়ছে।গোডাউনের হাট এলাকার বাসিন্দা সেল্টু মিয়া বলেন, “শুক্রবার রাত থেকেই ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রায় ২০ মিটার জায়গা নদীতে চলে গেছে। সারারাত আতঙ্কে কাটিয়েছি। শুধু জিওব্যাগ নয়, দ্রুত কংক্রিট ব্লক ফেলতে হবে। তা না হলে বাঁধ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”

আরও পড়ুন, শিক্ষা ও স্বাবলম্বিতায় নতুন উদ্যোগ: বদলগাছীতে শিক্ষার্থী ও নারীদের সহায়তা

স্থানীয় বাসিন্দা ময়না আক্তার বলেন, “আগেই নদী আমাদের বাপ-দাদার সব জমি নিয়ে গেছে। এখন শুধু বসতভিটাটুকুই আছে। গতকাল থেকে বাড়ির পাশেই ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটাও নদীতে চলে যাবে। তখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, জানি না।”ধসের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম।পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, “ধসের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে এসেছি। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদ ও আশপাশের মানুষের জানমাল রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করেছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। মানুষের জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় যা যা করণীয়, সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, “তীর রক্ষা বাঁধ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগে মাটি ভরে নদীতে ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভাঙন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।”এদিকে ভাঙনের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে জিওব্যাগ ফেলার পাশাপাশি দ্রুত টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তিস্তার ভয়াল ভাঙনে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনপদ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

বিষয় : তীব্র স্রোতে ভয়াবহ ধস

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬


গঙ্গাচড়ায় তিস্তার তীর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস, ঝুঁকিতে ইউপি ভবন ও মসজিদ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের গোডাউনের হাট এলাকায় তীর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া এ ধসে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, একটি মসজিদ এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ভাঙনস্থল থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে অবস্থিত শহর রক্ষা বাঁধও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ওই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে রংপুর শহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০ মিটার এলাকাজুড়ে তীর রক্ষা বাঁধের কংক্রিট ব্লক একের পর এক নদীতে ধসে পড়ছে। এতে প্রায় ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ধসের ফলে নদীর তীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে এবং ঝুঁকির পরিধি ক্রমেই বাড়ছে।গোডাউনের হাট এলাকার বাসিন্দা সেল্টু মিয়া বলেন, “শুক্রবার রাত থেকেই ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রায় ২০ মিটার জায়গা নদীতে চলে গেছে। সারারাত আতঙ্কে কাটিয়েছি। শুধু জিওব্যাগ নয়, দ্রুত কংক্রিট ব্লক ফেলতে হবে। তা না হলে বাঁধ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”

আরও পড়ুন, শিক্ষা ও স্বাবলম্বিতায় নতুন উদ্যোগ: বদলগাছীতে শিক্ষার্থী ও নারীদের সহায়তা

স্থানীয় বাসিন্দা ময়না আক্তার বলেন, “আগেই নদী আমাদের বাপ-দাদার সব জমি নিয়ে গেছে। এখন শুধু বসতভিটাটুকুই আছে। গতকাল থেকে বাড়ির পাশেই ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটাও নদীতে চলে যাবে। তখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, জানি না।”ধসের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম।পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, “ধসের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে এসেছি। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদ ও আশপাশের মানুষের জানমাল রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করেছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। মানুষের জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় যা যা করণীয়, সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, “তীর রক্ষা বাঁধ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগে মাটি ভরে নদীতে ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভাঙন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।”এদিকে ভাঙনের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে জিওব্যাগ ফেলার পাশাপাশি দ্রুত টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তিস্তার ভয়াল ভাঙনে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনপদ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত