জামালপুর মাদারগঞ্জে প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বালিজুড়ি ইউনিয়নে চর নাংলা বাঁধের মাথায় -এর আশ্রায়ন প্রকল্পের সংরক্ষিত পুকুর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে।স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট প্রতিদিন কোটি টাকার বালু বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এই অবৈধ বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দিনের আলোতেও চলে ড্রেজারের তাণ্ডব। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,
আশ্রায়ন প্রকল্পের ভেতরের পুকুরে একাধীক শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। নদীর বুক থেকে বালু তোলার মতো করে পাইপলাইন টেনে এই বালু সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন নির্মাণাধীন স্থাপনা ও আশেপাশে বাড়ির পুকুর ও বসত ভিটায়। সরাসরি দিনরাত পাইপ লাইনের মাধ্যমে এই বালু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ঝুঁকিতে পড়বে আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর, রাস্তা ও আশে পাশের কৃষি জমি। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি পুকুর থেকে মাটি বা বালু কাটার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু সিন্ডিকেটটি পুকুরটিকে অনির্দৃষ্ট গভীর করে বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আশপাশের কৃষিজমি ভাঙন ও ধসের ঝুঁকিতে পড়বে । প্রতিদিন সিন্ডিকেটটি লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করছে। প্রতি ঘনফুট বালু পানির দরে তুলে তা বাজারমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন ,নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ১০
এ বিষয়ে ড্রেজার মালিক আব্দু রহিম সবুজ (৩৮) সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন প্রতি ১হাজার বালু ৬০০০/- টাকা করে বিক্রি করছেন। চর নাংলা আদর্শগ্রাম আশ্রয়নের ৩৭টি পরিবারের মাঝে এই পুকুরটি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। পরিবারে কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান মাছ চাষে পানির গভিরতা না থাকায় তারা এ বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। এভাবে টানা এক সপ্তাহে ধরে তারা কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্য করেছে। বালু উত্তোলনের এই লাভজনক ব্যবসার কারণেই স্থানীয় প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের। সাংবাদিকরা একাধিকবার জানালেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন।
সরেজমিনে তদন্ত শেষে গত ১১জুন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও- বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ বলে তিনি স্বীকার করেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও - আরো বলেন, "আশ্রায়ন প্রকল্পের পুকুর থেকে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি নেই। অভিযোগ পেয়েছি, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কয়েক দিন কেটে গেলেও ড্রেজার বন্ধের কোন ব্যবস্থা নেন নাই প্রশাসন | এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বক্তব্য জানতে গেলে তিনি ছুটিতে থাকার কারণে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নাই |"স্থানীয় অভিযোগ সূত্রে জানা যায় প্রশাসনের সহযোগিতায় এই অবৈধ বালু উত্তোলনে করা হচ্ছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিষয় : বালু উত্তোলন মহোৎসব কোটি টাকা

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
জামালপুর মাদারগঞ্জে প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বালিজুড়ি ইউনিয়নে চর নাংলা বাঁধের মাথায় -এর আশ্রায়ন প্রকল্পের সংরক্ষিত পুকুর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে।স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট প্রতিদিন কোটি টাকার বালু বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এই অবৈধ বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দিনের আলোতেও চলে ড্রেজারের তাণ্ডব। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,
আশ্রায়ন প্রকল্পের ভেতরের পুকুরে একাধীক শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। নদীর বুক থেকে বালু তোলার মতো করে পাইপলাইন টেনে এই বালু সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন নির্মাণাধীন স্থাপনা ও আশেপাশে বাড়ির পুকুর ও বসত ভিটায়। সরাসরি দিনরাত পাইপ লাইনের মাধ্যমে এই বালু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ঝুঁকিতে পড়বে আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর, রাস্তা ও আশে পাশের কৃষি জমি। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি পুকুর থেকে মাটি বা বালু কাটার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু সিন্ডিকেটটি পুকুরটিকে অনির্দৃষ্ট গভীর করে বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আশপাশের কৃষিজমি ভাঙন ও ধসের ঝুঁকিতে পড়বে । প্রতিদিন সিন্ডিকেটটি লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করছে। প্রতি ঘনফুট বালু পানির দরে তুলে তা বাজারমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন ,নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ১০
এ বিষয়ে ড্রেজার মালিক আব্দু রহিম সবুজ (৩৮) সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন প্রতি ১হাজার বালু ৬০০০/- টাকা করে বিক্রি করছেন। চর নাংলা আদর্শগ্রাম আশ্রয়নের ৩৭টি পরিবারের মাঝে এই পুকুরটি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। পরিবারে কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান মাছ চাষে পানির গভিরতা না থাকায় তারা এ বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। এভাবে টানা এক সপ্তাহে ধরে তারা কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্য করেছে। বালু উত্তোলনের এই লাভজনক ব্যবসার কারণেই স্থানীয় প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের। সাংবাদিকরা একাধিকবার জানালেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন।
সরেজমিনে তদন্ত শেষে গত ১১জুন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও- বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ বলে তিনি স্বীকার করেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও - আরো বলেন, "আশ্রায়ন প্রকল্পের পুকুর থেকে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি নেই। অভিযোগ পেয়েছি, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কয়েক দিন কেটে গেলেও ড্রেজার বন্ধের কোন ব্যবস্থা নেন নাই প্রশাসন | এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বক্তব্য জানতে গেলে তিনি ছুটিতে থাকার কারণে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নাই |"স্থানীয় অভিযোগ সূত্রে জানা যায় প্রশাসনের সহযোগিতায় এই অবৈধ বালু উত্তোলনে করা হচ্ছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন