কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে টানা কয়েকদিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে অবশেষে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এ জটিল পরিস্থিতির অবসান ঘটে।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন ভোরে ভারতের অভ্যন্তর থেকে ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে তাদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত তথ্য না ।
পাওয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে বলে এবং বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে।দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় চার দিন ধরে মানবেতর অবস্থায় ছিলেন ওই ১২ জন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। খোলা আকাশের নিচে অবস্থান, তীব্র গরম, বৃষ্টির আশঙ্কা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটান।স্থানীয় বাসিন্দারা মানবিক কারণে তাদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেন। এ সময় বিজিবি সদস্যরাও তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন , টঙ্গীতে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ ৫৮ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার
বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক বৈঠকগুলোতে কোনো সমঝোতা না হলেও সর্বশেষ বৈঠকে বিএসএফ ওই ১২ জনকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে এবং তাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়। পরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানের কারণে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিশেষ করে শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির এক কর্মকর্তা বলেন, “সীমান্তে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন রোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমঝোতার ভিত্তিতেই বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।”সীমান্ত এলাকায় পুশইন সংক্রান্ত ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে লোকজনকে প্রবেশ করানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনা ও সমন্বয় বৃদ্ধি পেয়েছে।বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।
বিষয় : সীমান্তরক্ষী শূন্যরেখা নারী, পুরুষ

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে টানা কয়েকদিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে অবশেষে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এ জটিল পরিস্থিতির অবসান ঘটে।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন ভোরে ভারতের অভ্যন্তর থেকে ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে তাদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত তথ্য না ।
পাওয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে বলে এবং বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে।দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় চার দিন ধরে মানবেতর অবস্থায় ছিলেন ওই ১২ জন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। খোলা আকাশের নিচে অবস্থান, তীব্র গরম, বৃষ্টির আশঙ্কা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটান।স্থানীয় বাসিন্দারা মানবিক কারণে তাদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেন। এ সময় বিজিবি সদস্যরাও তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন , টঙ্গীতে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ ৫৮ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার
বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক বৈঠকগুলোতে কোনো সমঝোতা না হলেও সর্বশেষ বৈঠকে বিএসএফ ওই ১২ জনকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে এবং তাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়। পরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানের কারণে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিশেষ করে শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির এক কর্মকর্তা বলেন, “সীমান্তে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন রোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমঝোতার ভিত্তিতেই বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।”সীমান্ত এলাকায় পুশইন সংক্রান্ত ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে লোকজনকে প্রবেশ করানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনা ও সমন্বয় বৃদ্ধি পেয়েছে।বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন