দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

প্রধান শিক্ষক অবসরের পর সুবরাজপুর স্কুলে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

প্রধান শিক্ষক অবসরের পর সুবরাজপুর স্কুলে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
সুবরাজপুর স্কুলে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সুবরাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সম্প্রতি অবসরে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি তে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এই দায়িত্ব প্রদানকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, জ্যেষ্ঠতা ও নির্ধারিত বিধান উপেক্ষা করে একজন জুনিয়র শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম এর গতকাল ছিল শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি অবসরে যান। এর পরপরই বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। কিন্তু এই প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, পদমর্যাদা এবং যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। কিন্তু এসব বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে বিদ্যালয়ের জুনিয়র শিক্ষক বিশ্বনাথ দাসকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন , বিজ্ঞান মেলায় রংপুরে শীর্ষস্থান দখল করে জাতীয় পর্বে মিঠাপুকুর মডেল স্কুল

সহকারী প্রধান মোসাদ্দেক হোসেনসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও তাদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে একটি পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নীতিমালার অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশও ব্যাহত হতে পারে।এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের অনেকেই মনে করছেন, বিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিতর্ক বা অনিয়মের সুযোগ থাকা উচিত নয়। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুরুন হোসেন চৌধুরী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তবে একটি ফোনালাপে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোরশেদুল আলম বলেন, “এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো আমাদের কাছে আসেনি। 

আরও  পড়ুন , কসবায় পূবালী ব্যাংকের এটিএম বুথ উদ্বোধন, ক্যাশলেস বাংলাদেশ গঠনে মতবিনিময় সভা

তবে সরকারি নীতিমালা অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রধান শিক্ষক অবসরে গেলে প্রথমে সহকারী প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন। যদি সহকারী প্রধান শিক্ষক লিখিতভাবে অপারগতা প্রকাশ করেন, তাহলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পরবর্তী শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হবে। নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই।”তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধি-বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে দ্রুত এবং নীতিমালা অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তাদের মতে, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব প্রদান করা হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হবে না।বর্তমানে সুবরাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি এলাকাবাসীর আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

বিষয় : অভিযোগ প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব অভিযোগ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


প্রধান শিক্ষক অবসরের পর সুবরাজপুর স্কুলে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সুবরাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সম্প্রতি অবসরে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি তে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এই দায়িত্ব প্রদানকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, জ্যেষ্ঠতা ও নির্ধারিত বিধান উপেক্ষা করে একজন জুনিয়র শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম এর গতকাল ছিল শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি অবসরে যান। এর পরপরই বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। কিন্তু এই প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, পদমর্যাদা এবং যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। কিন্তু এসব বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে বিদ্যালয়ের জুনিয়র শিক্ষক বিশ্বনাথ দাসকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন , বিজ্ঞান মেলায় রংপুরে শীর্ষস্থান দখল করে জাতীয় পর্বে মিঠাপুকুর মডেল স্কুল

সহকারী প্রধান মোসাদ্দেক হোসেনসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও তাদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে একটি পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নীতিমালার অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশও ব্যাহত হতে পারে।এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের অনেকেই মনে করছেন, বিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিতর্ক বা অনিয়মের সুযোগ থাকা উচিত নয়। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুরুন হোসেন চৌধুরী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তবে একটি ফোনালাপে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোরশেদুল আলম বলেন, “এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো আমাদের কাছে আসেনি। 

আরও  পড়ুন , কসবায় পূবালী ব্যাংকের এটিএম বুথ উদ্বোধন, ক্যাশলেস বাংলাদেশ গঠনে মতবিনিময় সভা

তবে সরকারি নীতিমালা অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রধান শিক্ষক অবসরে গেলে প্রথমে সহকারী প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন। যদি সহকারী প্রধান শিক্ষক লিখিতভাবে অপারগতা প্রকাশ করেন, তাহলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পরবর্তী শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হবে। নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই।”তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধি-বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে দ্রুত এবং নীতিমালা অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তাদের মতে, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব প্রদান করা হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হবে না।বর্তমানে সুবরাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি এলাকাবাসীর আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত