আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকায় চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে একমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা। বিএনপির প্রেস উইং সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দল ঘোষিত ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে তাঁর একক উপস্থিতি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন, গংগাচড়ায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন
হাটহাজারী উপজেলার কৃতী এই আইনজীবীর শ্বশুরবাড়ি পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণঘাটা এলাকায়। তাঁর স্বামী বাহাউদ্দীন পটিয়ার একটি সুপরিচিত ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে বেড়ে ওঠা সাকিলা ফারজানার রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা অনেকটাই পারিবারিক ধারাবাহিকতার অংশ। তাঁর পিতা প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম বিএনপির মনোনয়নে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই উত্তরাধিকার সূত্র ধরেই ২০০৯ সালে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন তিনি।
শিক্ষাজীবনেও রয়েছে উজ্জ্বল সাফল্য। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি লন্ডনের দ্য সিটি ল’ কলেজ থেকে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাও সম্পন্ন করেন তিনি। রাজনৈতিক পথচলায় নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১০ মাস কারাভোগ করেন সাকিলা ফারজানা। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন, প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে সোনারগাঁয়ে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, উচ্চ আদালতে রাজনৈতিক মামলাগুলোতে সক্রিয় ও দক্ষ ভূমিকা পালন, পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত সম্পৃক্ততা এই দুই বিষয় তাঁর মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও সুদৃঢ় হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সাকিলা ফারজানা বলেন, দলের এই আস্থা তাঁর জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বড় দায়িত্বও। তিনি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন।
আরও পড়ুন, মাদারীপুরে ডিবির অভিযানে ইয়াবা-অস্ত্রসহ ৩ জন গ্রেফতার
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও সমর্থকদের অবদান তাঁর এই অর্জনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে হাটহাজারীর মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে চট্টগ্রাম থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া সাকিলা ফারজানার জন্য যেমন একটি বড় সুযোগ, তেমনি দলের জন্যও এটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর মনোনয়নকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে।
বিষয় : নির্বাচন চট্টগ্রাম সাকিলা ফারজানা

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকায় চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে একমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা। বিএনপির প্রেস উইং সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দল ঘোষিত ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে তাঁর একক উপস্থিতি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন, গংগাচড়ায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন
হাটহাজারী উপজেলার কৃতী এই আইনজীবীর শ্বশুরবাড়ি পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণঘাটা এলাকায়। তাঁর স্বামী বাহাউদ্দীন পটিয়ার একটি সুপরিচিত ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে বেড়ে ওঠা সাকিলা ফারজানার রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা অনেকটাই পারিবারিক ধারাবাহিকতার অংশ। তাঁর পিতা প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম বিএনপির মনোনয়নে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই উত্তরাধিকার সূত্র ধরেই ২০০৯ সালে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন তিনি।
শিক্ষাজীবনেও রয়েছে উজ্জ্বল সাফল্য। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি লন্ডনের দ্য সিটি ল’ কলেজ থেকে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাও সম্পন্ন করেন তিনি। রাজনৈতিক পথচলায় নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১০ মাস কারাভোগ করেন সাকিলা ফারজানা। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন, প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে সোনারগাঁয়ে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, উচ্চ আদালতে রাজনৈতিক মামলাগুলোতে সক্রিয় ও দক্ষ ভূমিকা পালন, পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত সম্পৃক্ততা এই দুই বিষয় তাঁর মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও সুদৃঢ় হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সাকিলা ফারজানা বলেন, দলের এই আস্থা তাঁর জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বড় দায়িত্বও। তিনি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন।
আরও পড়ুন, মাদারীপুরে ডিবির অভিযানে ইয়াবা-অস্ত্রসহ ৩ জন গ্রেফতার
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও সমর্থকদের অবদান তাঁর এই অর্জনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে হাটহাজারীর মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে চট্টগ্রাম থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া সাকিলা ফারজানার জন্য যেমন একটি বড় সুযোগ, তেমনি দলের জন্যও এটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর মনোনয়নকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন