দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ক্রুড সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল ইউনিট বন্ধ জ্বালানি উৎপাদনে তীব্র চাপ

ক্রুড সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল ইউনিট বন্ধ জ্বালানি উৎপাদনে তীব্র চাপ
ক্রুড সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল ইউনিট বন্ধ জ্বালানি উৎপাদনে তীব্র চাপ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চট্টগ্রামের রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দেশের জ্বালানি উৎপাদন ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

রিফাইনারি সূত্র জানায়, গত ১২ এপ্রিল রাত থেকে ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। মূলত দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে না পৌঁছানোয় মজুত শেষ হয়ে যাওয়াই এই পরিস্থিতির কারণ। বর্তমানে রিফাইনারির অন্যান্য ইউনিট এসফল্টিক বিটুমিন প্ল্যান্ট, ভিসব্রেকার ইউনিট, ক্যাটালাইটিক রিফরমিং ইউনিট এবং কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে।

আরও পড়ুন, হাসনাত–সারজিস ফোন ধরেন না, অভিযোগ সাদমানের মায়ের

প্রতিষ্ঠানটির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার একটি বড় অংশই অপরিশোধিত তেল। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন ক্রুড অয়েল আসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের মাধ্যমে এলপিজি, পেট্রল, অকটেন, ডিজেলসহ প্রায় ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করা হয়।

তবে সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দেশে নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান পৌঁছায়নি। সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ জাহাজে করে আসা চালানটি চট্টগ্রামে খালাস করা হয়। বর্তমানে ‘নর্ডিক পোলক্স’ নামের একটি জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে, যা হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে আরেকটি চালান মে মাসের আগে আসার সম্ভাবনা নেই।

আরও পড়ুন, মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেওয়ার কারণে দিনে দুপুরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

এদিকে বিকল্প উৎস হিসেবে মালয়েশিয়া থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জামানত (পিজি) জমা না দেওয়ায় তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংকট মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষ মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং সংরক্ষণ ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেড স্টকের একটি অংশ ব্যবহার করে সীমিতভাবে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা দিয়ে ইউনিট চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব হয় এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি নিশ্চিত করা না গেলে সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রিফাইনারির কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইউনিট বন্ধ রাখা হলেও সরবরাহ সংকটজনিত কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া উদ্বেগজনক। তাই জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প আমদানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিষয় : বন্ধ জ্বালানি মধ্যপ্রাচ্য

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ক্রুড সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল ইউনিট বন্ধ জ্বালানি উৎপাদনে তীব্র চাপ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চট্টগ্রামের রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দেশের জ্বালানি উৎপাদন ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

রিফাইনারি সূত্র জানায়, গত ১২ এপ্রিল রাত থেকে ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। মূলত দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে না পৌঁছানোয় মজুত শেষ হয়ে যাওয়াই এই পরিস্থিতির কারণ। বর্তমানে রিফাইনারির অন্যান্য ইউনিট এসফল্টিক বিটুমিন প্ল্যান্ট, ভিসব্রেকার ইউনিট, ক্যাটালাইটিক রিফরমিং ইউনিট এবং কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে।

আরও পড়ুন, হাসনাত–সারজিস ফোন ধরেন না, অভিযোগ সাদমানের মায়ের

প্রতিষ্ঠানটির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার একটি বড় অংশই অপরিশোধিত তেল। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন ক্রুড অয়েল আসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের মাধ্যমে এলপিজি, পেট্রল, অকটেন, ডিজেলসহ প্রায় ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করা হয়।

তবে সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দেশে নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান পৌঁছায়নি। সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ জাহাজে করে আসা চালানটি চট্টগ্রামে খালাস করা হয়। বর্তমানে ‘নর্ডিক পোলক্স’ নামের একটি জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে, যা হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে আরেকটি চালান মে মাসের আগে আসার সম্ভাবনা নেই।

আরও পড়ুন, মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেওয়ার কারণে দিনে দুপুরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

এদিকে বিকল্প উৎস হিসেবে মালয়েশিয়া থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জামানত (পিজি) জমা না দেওয়ায় তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংকট মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষ মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং সংরক্ষণ ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেড স্টকের একটি অংশ ব্যবহার করে সীমিতভাবে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা দিয়ে ইউনিট চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব হয় এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি নিশ্চিত করা না গেলে সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রিফাইনারির কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইউনিট বন্ধ রাখা হলেও সরবরাহ সংকটজনিত কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া উদ্বেগজনক। তাই জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প আমদানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত