সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই তিনটি হাওর রক্ষা বাঁধ কাটলো কৃষকরা। এরমাঝে সোলডোয়ারী বাঁধ কাটতে গিয়ে, বাঁধের মাটি ধ্বসে ছাপায় পড়ে আরমান নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
১২ মার্চ রবিবার সকাল ১১ টার দিকে বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য, গোড়াডোবা সোলডোয়ারী ৮ নং পিআইসি'র হাওর রক্ষা বাঁধ কাটার সময় মাটি ধ্বসে ছাপায় পড়ে ঐ যুবকের মৃত্যু হয়। জানা যায়,মধ্যনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের, শালিয়ানী গ্রামের প্রায় অর্ধশতাদিক কৃষক হাওরের পানি তাড়াতাড়ি নিষ্কাশনের জন্য কাটা বাঁধের গভীরতা বাড়াতে কাজে নামেন। এসময় ঐ গ্রামের মোঃ চানফর আলীর একমাত্র ছেলে মোঃ আরমান আলী (১৯) এর বাঁধের মাটি ছাপায় মৃত্যু হয়েছে। এসময় সাথে থাকা কর্মরত অন্য কৃষকরা প্রাণে বেঁচে গেলেও, আরমান আলী বাঁচতে পারেনি। ঘটনা স্থলে থাকা কৃষকরা মাটি সরিয়ে আরমানকে উদ্ধার করে স্হানীয় চিকিৎসককে দেখানোর পর, ধর্মপাশা উপজেলা হাসপাতালে নিলে, কর্মরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইতিমধ্যে এলাকার কৃষকরা তিনটি হাওর রক্ষা বাঁধ কাটার খবর পাওয়া গেছে। বৃষ্টির পানি কবলিত ভুক্তভোগী কৃষকরা দিশেহারা হয়ে বাঁধ কেটে হাওরের জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরমাঝে টগার হাওরের টঙ্গির বাঁধ, ফারুকনগর ও বলরামের কুজো'র বাঁধ, বোয়ালা হাওরের সোলডোয়ারী বাঁধ কাটতে গিয়ে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রাকৃতির দুর্যোগে লাগাতার ১৫ দিনের অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ার কারণে, হাওরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে এ-সব এলাকায় বোরোধান ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অর্ধেকে দাড়িয়েছে। দিশেহারা কৃষক প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বাঁধ কাটার উদ্যোগ নিয়েছে।
এরমধ্যে দেখা গেছে,নীচু জমির কাঁচা বোরোধান টেবলার পানির নীচে তলিয়ে যায়। তাছাড়া ভারতের মেঘালয় রাজ্যে বৃষ্টি না হওয়ায়,নদীতে পাহাড়ি ঢল না থাকার কারণে, ধীরে ধীরে নদীর পানি কমতে থাকে। এতে হাওর থেকে নদীর পানি কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ ফুট পানি নীচে ছলে গেছে। এলাকার উঁচু জমির বাকী অর্ধেক ফসল বাঁচতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কৃষকরা হাওর রক্ষা বাঁধ কেটে, হাওরের পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরমাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, এতে আরমানে মর্মান্তিক অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া পড়েছে।
আরও পড়ুন, নবাগত ডিসির সঙ্গে রংপুর জেলা ক্রিকেট দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
এবিষয়ে মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ বলেন, প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই কৃষকরা বাঁধ কেটে দিয়েছে। যার ফলে অন্যান্য হাওর হুমকির শঙ্কা রয়েছে, যেমন দেখার হাওরের বাঁধ ভেঙে ফসল হানীর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও পানি নিষ্কাশনের পর পূণরায় বাঁধ নির্মাণ কিভাবে হবে? প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কৃষকের উদ্যোগে বাঁধ কেটেছে এবং কৃষকরাই পূণরায় বাঁধ নির্মাণ করে দিবে। তবে মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই তিনটি হাওর রক্ষা বাঁধ কাটলো কৃষকরা। এরমাঝে সোলডোয়ারী বাঁধ কাটতে গিয়ে, বাঁধের মাটি ধ্বসে ছাপায় পড়ে আরমান নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
১২ মার্চ রবিবার সকাল ১১ টার দিকে বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য, গোড়াডোবা সোলডোয়ারী ৮ নং পিআইসি'র হাওর রক্ষা বাঁধ কাটার সময় মাটি ধ্বসে ছাপায় পড়ে ঐ যুবকের মৃত্যু হয়। জানা যায়,মধ্যনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের, শালিয়ানী গ্রামের প্রায় অর্ধশতাদিক কৃষক হাওরের পানি তাড়াতাড়ি নিষ্কাশনের জন্য কাটা বাঁধের গভীরতা বাড়াতে কাজে নামেন। এসময় ঐ গ্রামের মোঃ চানফর আলীর একমাত্র ছেলে মোঃ আরমান আলী (১৯) এর বাঁধের মাটি ছাপায় মৃত্যু হয়েছে। এসময় সাথে থাকা কর্মরত অন্য কৃষকরা প্রাণে বেঁচে গেলেও, আরমান আলী বাঁচতে পারেনি। ঘটনা স্থলে থাকা কৃষকরা মাটি সরিয়ে আরমানকে উদ্ধার করে স্হানীয় চিকিৎসককে দেখানোর পর, ধর্মপাশা উপজেলা হাসপাতালে নিলে, কর্মরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইতিমধ্যে এলাকার কৃষকরা তিনটি হাওর রক্ষা বাঁধ কাটার খবর পাওয়া গেছে। বৃষ্টির পানি কবলিত ভুক্তভোগী কৃষকরা দিশেহারা হয়ে বাঁধ কেটে হাওরের জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরমাঝে টগার হাওরের টঙ্গির বাঁধ, ফারুকনগর ও বলরামের কুজো'র বাঁধ, বোয়ালা হাওরের সোলডোয়ারী বাঁধ কাটতে গিয়ে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রাকৃতির দুর্যোগে লাগাতার ১৫ দিনের অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ার কারণে, হাওরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে এ-সব এলাকায় বোরোধান ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অর্ধেকে দাড়িয়েছে। দিশেহারা কৃষক প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বাঁধ কাটার উদ্যোগ নিয়েছে।
এরমধ্যে দেখা গেছে,নীচু জমির কাঁচা বোরোধান টেবলার পানির নীচে তলিয়ে যায়। তাছাড়া ভারতের মেঘালয় রাজ্যে বৃষ্টি না হওয়ায়,নদীতে পাহাড়ি ঢল না থাকার কারণে, ধীরে ধীরে নদীর পানি কমতে থাকে। এতে হাওর থেকে নদীর পানি কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ ফুট পানি নীচে ছলে গেছে। এলাকার উঁচু জমির বাকী অর্ধেক ফসল বাঁচতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কৃষকরা হাওর রক্ষা বাঁধ কেটে, হাওরের পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরমাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, এতে আরমানে মর্মান্তিক অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া পড়েছে।
আরও পড়ুন, নবাগত ডিসির সঙ্গে রংপুর জেলা ক্রিকেট দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
এবিষয়ে মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ বলেন, প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই কৃষকরা বাঁধ কেটে দিয়েছে। যার ফলে অন্যান্য হাওর হুমকির শঙ্কা রয়েছে, যেমন দেখার হাওরের বাঁধ ভেঙে ফসল হানীর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও পানি নিষ্কাশনের পর পূণরায় বাঁধ নির্মাণ কিভাবে হবে? প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কৃষকের উদ্যোগে বাঁধ কেটেছে এবং কৃষকরাই পূণরায় বাঁধ নির্মাণ করে দিবে। তবে মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক।

আপনার মতামত লিখুন