দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
আপডেট : সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

পেঁয়াজের ফলন ভালো হলেও লোকসানে ফরিদপুর কৃষক

পেঁয়াজের ফলন ভালো হলেও লোকসানে ফরিদপুর কৃষক
পেঁয়াজের ফলন ভালো হলেও লোকসানে ফরিদপুর কৃষক

​দক্ষিণাঞ্চলের পেঁয়াজ ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন হয়েছে। তবে মাঠজুড়ে থোকায় থোকায় লাল টকটকে পেঁয়াজ দেখেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারণ, বর্তমান বাজারদর উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে যেখানে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় হাজার টাকা, সেখানে বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১১০০ টাকায়।

​জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ফরিদপুরের প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। সালথা, নগরকান্দা, ভাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আবাদ লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়  সার, বীজ, শ্রমিক ও সেচসহ প্রতি মণে খরচ প্রায় ১৪০০-১৫০০ টাকা। মানভেদে প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৭০০- ১১০০ টাকা। প্রতি মণে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৫০০-৬০০ টাকা। ​সালথা উপজেলার ভুক্তভোগী এক কৃষক তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ধার-দেনা করে আবাদ করেছি। ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম নেই। এখন মহাজনের টাকা দেব নাকি পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।"

আরও পড়ুন, যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর ওপর নির্যাতন ও বিষ প্রয়োগের অভিযোগে মামলা

​কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহের তুলনায় চাহিদা কম থাকা এবং কৃষকদের দ্রুত নগদ অর্থের প্রয়োজনই এই দরপতনের প্রধান কারণ। সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন সিকদার জানান, এনজিও বা ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে কৃষকরা ঘরে পেঁয়াজ ধরে রাখতে পারছেন না। হাটে একসাথে প্রচুর পেঁয়াজ আসায় ক্রেতারা দর কমিয়ে দিচ্ছেন। এই বিপর্যয় থেকে বাঁচতে চাষিরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। ধান-গমের মতো পেঁয়াজেরও একটি সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা। প্রতিটি ইউনিয়নে বিশেষায়িত কোল্ডস্টোরেজ বা পেঁয়াজ সংরক্ষনাগার তৈরি করা, যাতে মৌসুমের শেষে ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়।​

আরও পড়ুন, সেনানিবাস এলাকায় হত্যাকাণ্ড তনুর রহস্য উন্মোচনে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন "আবাদ বেশি হওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া কৃষকদের এই লোকসান থেকে রক্ষা করা কঠিন।"​ তীব্র গরম আর রোদে পুড়ে ফলানো পেঁয়াজ যখন পানির দরে বিক্রি হয়, তখন তার প্রভাব আগামী মৌসুমের আবাদেও পড়ার শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ চায় ফরিদপুরের সাধারণ কৃষকরা।

বিষয় : পেঁয়াজ কৃষক লোকসানে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


পেঁয়াজের ফলন ভালো হলেও লোকসানে ফরিদপুর কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

​দক্ষিণাঞ্চলের পেঁয়াজ ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন হয়েছে। তবে মাঠজুড়ে থোকায় থোকায় লাল টকটকে পেঁয়াজ দেখেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারণ, বর্তমান বাজারদর উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে যেখানে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় হাজার টাকা, সেখানে বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১১০০ টাকায়।

​জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ফরিদপুরের প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। সালথা, নগরকান্দা, ভাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আবাদ লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়  সার, বীজ, শ্রমিক ও সেচসহ প্রতি মণে খরচ প্রায় ১৪০০-১৫০০ টাকা। মানভেদে প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৭০০- ১১০০ টাকা। প্রতি মণে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৫০০-৬০০ টাকা। ​সালথা উপজেলার ভুক্তভোগী এক কৃষক তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ধার-দেনা করে আবাদ করেছি। ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম নেই। এখন মহাজনের টাকা দেব নাকি পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।"

আরও পড়ুন, যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর ওপর নির্যাতন ও বিষ প্রয়োগের অভিযোগে মামলা

​কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহের তুলনায় চাহিদা কম থাকা এবং কৃষকদের দ্রুত নগদ অর্থের প্রয়োজনই এই দরপতনের প্রধান কারণ। সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন সিকদার জানান, এনজিও বা ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে কৃষকরা ঘরে পেঁয়াজ ধরে রাখতে পারছেন না। হাটে একসাথে প্রচুর পেঁয়াজ আসায় ক্রেতারা দর কমিয়ে দিচ্ছেন। এই বিপর্যয় থেকে বাঁচতে চাষিরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। ধান-গমের মতো পেঁয়াজেরও একটি সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা। প্রতিটি ইউনিয়নে বিশেষায়িত কোল্ডস্টোরেজ বা পেঁয়াজ সংরক্ষনাগার তৈরি করা, যাতে মৌসুমের শেষে ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়।​

আরও পড়ুন, সেনানিবাস এলাকায় হত্যাকাণ্ড তনুর রহস্য উন্মোচনে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন "আবাদ বেশি হওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া কৃষকদের এই লোকসান থেকে রক্ষা করা কঠিন।"​ তীব্র গরম আর রোদে পুড়ে ফলানো পেঁয়াজ যখন পানির দরে বিক্রি হয়, তখন তার প্রভাব আগামী মৌসুমের আবাদেও পড়ার শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ চায় ফরিদপুরের সাধারণ কৃষকরা।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত