দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ঢাকা সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় ছেলে নিহত বাবা নিখোঁজ, গ্রামজুড়ে ঈদের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে

ঢাকা সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় ছেলে নিহত বাবা নিখোঁজ, গ্রামজুড়ে ঈদের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে
ঢাকা সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় ছেলে নিহত বাবা নিখোঁজ, গ্রামজুড়ে ঈদের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে সবার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে চেয়েছিলেন সোহেল ফকির। মা ও নাবালক তিন বোন বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন।  বাবার সঙ্গে রাজধানী থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন সোহেল ফকির ও তার স্ত্রী। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে পৌঁছাতেন। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুরা ইউনিয়নের চরকাটা গ্রামের ফকির বাড়িতে থাকতো ঈদের আনন্দ। বুধবার বিকেলে ঢাকা সদরঘাটের দুর্ঘটনা শুধু ফকির বাড়িতে নয়, পুরো গ্রামেই ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। ।  উপার্জনক্ষম দুইজনকে হারিয়ে সোহেলের পরিবার অনিশ্চিত জীবনের মুখে পড়েছে। 

আরও পড়ুন, ফরিদপুরে প্রজন্ম বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ)২০২৬ সকালে সোহেলের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছায়। বাবা মিরাজ ফকির এখনও বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ। রাজধানীর মির্ডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার। মা ও বোনসহ স্বজদের কান্না- আহাজারিতে ওই বাড়িতে আসা অনেক গ্রামবাসী চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।  

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে সড়কপথে সোহেলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার খবর জানার পর বুধবার রাত থেকেই মৃধা বাড়িতে গ্রামাবাসীর ভিড় ছিল। মরদেহ পৌঁছার পর মা ও বোনসহ স্বজনদের আর্ত চিৎকারে উপস্থিত সকলে আবেগ আপ্লুত হন। জোহরের নামাজের পর গ্রামের নুর মোহম্মদ মৃধা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে সোহেলকে চির নিন্দ্রায় শায়িত করা হয়। 

আরও পড়ুন, প্রেসক্লাব গংগাচড়ার দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদ থেকে সাংবাদিক আব্দুস সালামের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ

তার চাচা ফারুক ফকির জানান, ভাই মিরাজ ফকির (সোহেলের বাবা) ১৫ থেকে ২০ বছর আগে ঢাকায় যান। সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। ৫ বছর আগে একমাত্র ছেলে সোহেলকেও নিয়ে যান। সে বাবার পেশায় যুক্ত হয়। বছর দুয়েক আগে সোহেল বিয়ে করে। স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকতেন। বৃহস্পতিবার বোনাস পেলে ঈদ উদযাপনের জন্য তারা বাড়িতে রওনা হয়েছিলেন। 

ফারুক ফকির জানান, সোহেলর মা নাবালক তিন মেয়ে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। মিরাজ ও ভাতিজা সোহেল ছিল পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের অনুপস্থিতিতে মা ও তিন বোনের দেখার কেউ রইলো না। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফারুক ফকির। 

আরও পড়ুন, ফুলবাড়ীয়া উপজেলা প্রশাসক হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট মোঃ আজিজুর রহমান আলোচনায়

প্রসঙ্গত, মিরাজ ফকির, সোহেল ও তার স্ত্রী মেহেন্দিগঞ্জ যাওযার জন্য বুধবার (১৮ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে একটি ট্রলারে রাজধানীর সদরঘাটে পৌঁছান। ট্রলার থেকে তারা ‘আসা-যাওয়া’ নামক লঞ্চে উঠছিলেন। এ সময়ে জাকির সম্রাট-৩ নামের আরেকটি লঞ্চ চাপা দিলে সোহেল নিহত হন। তার বাবা মিরাজ বুড়িগঙ্গায় পড়ে নিঁখোজ এবং সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

বিষয় : বরিশাল দুর্ঘটনা নিখোঁজ লঞ্চ সদরঘাট সোহেল বুড়িগঙ্গা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ঢাকা সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় ছেলে নিহত বাবা নিখোঁজ, গ্রামজুড়ে ঈদের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে

প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৬

featured Image

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে সবার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে চেয়েছিলেন সোহেল ফকির। মা ও নাবালক তিন বোন বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন।  বাবার সঙ্গে রাজধানী থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন সোহেল ফকির ও তার স্ত্রী। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে পৌঁছাতেন। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুরা ইউনিয়নের চরকাটা গ্রামের ফকির বাড়িতে থাকতো ঈদের আনন্দ। বুধবার বিকেলে ঢাকা সদরঘাটের দুর্ঘটনা শুধু ফকির বাড়িতে নয়, পুরো গ্রামেই ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। ।  উপার্জনক্ষম দুইজনকে হারিয়ে সোহেলের পরিবার অনিশ্চিত জীবনের মুখে পড়েছে। 

আরও পড়ুন, ফরিদপুরে প্রজন্ম বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ)২০২৬ সকালে সোহেলের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছায়। বাবা মিরাজ ফকির এখনও বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ। রাজধানীর মির্ডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার। মা ও বোনসহ স্বজদের কান্না- আহাজারিতে ওই বাড়িতে আসা অনেক গ্রামবাসী চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।  

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে সড়কপথে সোহেলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার খবর জানার পর বুধবার রাত থেকেই মৃধা বাড়িতে গ্রামাবাসীর ভিড় ছিল। মরদেহ পৌঁছার পর মা ও বোনসহ স্বজনদের আর্ত চিৎকারে উপস্থিত সকলে আবেগ আপ্লুত হন। জোহরের নামাজের পর গ্রামের নুর মোহম্মদ মৃধা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে সোহেলকে চির নিন্দ্রায় শায়িত করা হয়। 

আরও পড়ুন, প্রেসক্লাব গংগাচড়ার দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদ থেকে সাংবাদিক আব্দুস সালামের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ

তার চাচা ফারুক ফকির জানান, ভাই মিরাজ ফকির (সোহেলের বাবা) ১৫ থেকে ২০ বছর আগে ঢাকায় যান। সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। ৫ বছর আগে একমাত্র ছেলে সোহেলকেও নিয়ে যান। সে বাবার পেশায় যুক্ত হয়। বছর দুয়েক আগে সোহেল বিয়ে করে। স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকতেন। বৃহস্পতিবার বোনাস পেলে ঈদ উদযাপনের জন্য তারা বাড়িতে রওনা হয়েছিলেন। 

ফারুক ফকির জানান, সোহেলর মা নাবালক তিন মেয়ে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। মিরাজ ও ভাতিজা সোহেল ছিল পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের অনুপস্থিতিতে মা ও তিন বোনের দেখার কেউ রইলো না। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফারুক ফকির। 

আরও পড়ুন, ফুলবাড়ীয়া উপজেলা প্রশাসক হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট মোঃ আজিজুর রহমান আলোচনায়

প্রসঙ্গত, মিরাজ ফকির, সোহেল ও তার স্ত্রী মেহেন্দিগঞ্জ যাওযার জন্য বুধবার (১৮ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে একটি ট্রলারে রাজধানীর সদরঘাটে পৌঁছান। ট্রলার থেকে তারা ‘আসা-যাওয়া’ নামক লঞ্চে উঠছিলেন। এ সময়ে জাকির সম্রাট-৩ নামের আরেকটি লঞ্চ চাপা দিলে সোহেল নিহত হন। তার বাবা মিরাজ বুড়িগঙ্গায় পড়ে নিঁখোজ এবং সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুরুতর আহত হন।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত