রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিপণন প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড এ শ্রমিক-কর্মচারীদের পদোন্নতি, গ্রেডিং ও বিশেষ আর্থিক সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে অনেক কর্মচারী তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর অধীনে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে গ্রেডিং ও বিশেষ ইনক্রিমেন্ট বন্ধ থাকায় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে বলে জানা গেছে।
কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় চাকরি সম্পন্ন করলে শ্রমিক কর্মচারীরা গ্রেডিং বা পদোন্নতির সুযোগ পান। সাধারণত সি গ্রেড থেকে সিলেকশন গ্রেডে যেতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাস্তবে অনেক কর্মচারী এক দশকের বেশি সময় একই গ্রেডে আটকে আছেন।
আরও পড়ুন, বগুড়া কাহালুতে ৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ শহিদুল গ্রেফতার
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গ্রেডিং দেওয়া হয়েছে ২০২১ সালে। এরপর অসংখ্য কর্মচারী গ্রেডিংয়ের যোগ্যতা অর্জন করলেও তা কার্যকর হয়নি। একই পদ ও গ্রেডে বছরের পর বছর আটকে আছেন অনেক শ্রমিক কর্মচারী এ পরিস্থিতিতে কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী গ্রেডিং হলে অনেক আগেই আমাদের পদোন্নতি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”
কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর মোট শ্রমিক-কর্মচারীর ৪ শতাংশ বার্ষিক কর্মমূল্যায়ন (এসিআর) এর ভিত্তিতে বিশেষ ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু কর্মচারীদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থাটিও কার্যত স্থবির হয়ে আছে। তাদের দাবি সর্বশেষ বিশেষ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়েছে ২০২৩ সালে এরপর আর কোনো কর্মচারী এই সুবিধা পাননি। এতে কর্মীদের কর্মস্পৃহা কমে যাচ্ছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ ইনক্রিমেন্ট কর্মীদের ভালো কাজের স্বীকৃতি। কিন্তু দুই বছর ধরে এটি বন্ধ থাকায় কর্মীদের মনোবল কমছে।”
আরও পড়ুন, দাঁতের মাজনের কারখানায় হারপিক উৎপাদন কারখানায় অভিযানের সিলগালা
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক মহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিক সংগঠন সিবিএ এর তিনজন নির্বাচিত নেতাকে গত মাসে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শ্রমিকদের একটি অংশের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের যোগসাজশে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ওই নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সিবিএ নেতা নাসির উদ্দিন বলেন, দেশ থেকে বৈষম্য দূর করার কথা বলা হলেও যমুনা অয়েলে এখনো সেই বৈষম্য রয়ে গেছে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আমরা আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবো।”তার মতে, গ্রেডিং, বিশেষ ইনক্রিমেন্ট এবং সাসপেন্ডের বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। বিষয়টি জানতে কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (এইচআর) মাসুদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিশেষ ইনক্রিমেন্ট ও শ্রমিক কর্মচারীর গ্রেডিংয়ের বিষয়গুলো নিয়ে অবগত আছি এবং আমরা দেখছি।
আরও পড়ুন, গঙ্গাচড়ায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর) হাসান ইমাম বলেন, বিশেষ ইনক্রিমেন্ট ও শ্রমিক কর্মচারীদের গ্রেডিংয়ের বিলম্বের বিষয়টি সত্য বিভিন্ন জটিলতার কারন উল্লেখ করে বলেন আশা করছি ঈদুল ফিতরের পর উক্ত বিষয়ে সমাধান মিলবে। উল্লেখ্য যে, ১৯৬০ এর দশকে প্রতিষ্ঠিত যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড দেশের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি বিপণন প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন ডিপো ও টার্মিনালের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেনসহ বিভিন্ন জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। তবে শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিযোগের দ্রুত সমাধান না হলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬
রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিপণন প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড এ শ্রমিক-কর্মচারীদের পদোন্নতি, গ্রেডিং ও বিশেষ আর্থিক সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে অনেক কর্মচারী তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর অধীনে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে গ্রেডিং ও বিশেষ ইনক্রিমেন্ট বন্ধ থাকায় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে বলে জানা গেছে।
কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় চাকরি সম্পন্ন করলে শ্রমিক কর্মচারীরা গ্রেডিং বা পদোন্নতির সুযোগ পান। সাধারণত সি গ্রেড থেকে সিলেকশন গ্রেডে যেতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাস্তবে অনেক কর্মচারী এক দশকের বেশি সময় একই গ্রেডে আটকে আছেন।
আরও পড়ুন, বগুড়া কাহালুতে ৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ শহিদুল গ্রেফতার
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গ্রেডিং দেওয়া হয়েছে ২০২১ সালে। এরপর অসংখ্য কর্মচারী গ্রেডিংয়ের যোগ্যতা অর্জন করলেও তা কার্যকর হয়নি। একই পদ ও গ্রেডে বছরের পর বছর আটকে আছেন অনেক শ্রমিক কর্মচারী এ পরিস্থিতিতে কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী গ্রেডিং হলে অনেক আগেই আমাদের পদোন্নতি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”
কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর মোট শ্রমিক-কর্মচারীর ৪ শতাংশ বার্ষিক কর্মমূল্যায়ন (এসিআর) এর ভিত্তিতে বিশেষ ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু কর্মচারীদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থাটিও কার্যত স্থবির হয়ে আছে। তাদের দাবি সর্বশেষ বিশেষ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়েছে ২০২৩ সালে এরপর আর কোনো কর্মচারী এই সুবিধা পাননি। এতে কর্মীদের কর্মস্পৃহা কমে যাচ্ছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ ইনক্রিমেন্ট কর্মীদের ভালো কাজের স্বীকৃতি। কিন্তু দুই বছর ধরে এটি বন্ধ থাকায় কর্মীদের মনোবল কমছে।”
আরও পড়ুন, দাঁতের মাজনের কারখানায় হারপিক উৎপাদন কারখানায় অভিযানের সিলগালা
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক মহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিক সংগঠন সিবিএ এর তিনজন নির্বাচিত নেতাকে গত মাসে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শ্রমিকদের একটি অংশের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের যোগসাজশে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ওই নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সিবিএ নেতা নাসির উদ্দিন বলেন, দেশ থেকে বৈষম্য দূর করার কথা বলা হলেও যমুনা অয়েলে এখনো সেই বৈষম্য রয়ে গেছে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আমরা আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবো।”তার মতে, গ্রেডিং, বিশেষ ইনক্রিমেন্ট এবং সাসপেন্ডের বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। বিষয়টি জানতে কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (এইচআর) মাসুদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিশেষ ইনক্রিমেন্ট ও শ্রমিক কর্মচারীর গ্রেডিংয়ের বিষয়গুলো নিয়ে অবগত আছি এবং আমরা দেখছি।
আরও পড়ুন, গঙ্গাচড়ায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর) হাসান ইমাম বলেন, বিশেষ ইনক্রিমেন্ট ও শ্রমিক কর্মচারীদের গ্রেডিংয়ের বিলম্বের বিষয়টি সত্য বিভিন্ন জটিলতার কারন উল্লেখ করে বলেন আশা করছি ঈদুল ফিতরের পর উক্ত বিষয়ে সমাধান মিলবে। উল্লেখ্য যে, ১৯৬০ এর দশকে প্রতিষ্ঠিত যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড দেশের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি বিপণন প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন ডিপো ও টার্মিনালের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেনসহ বিভিন্ন জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। তবে শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিযোগের দ্রুত সমাধান না হলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন