ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নাটিমা ও মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব নিরাপদ ভবন না থাকায় পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সেবা দিতে হচ্ছে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও কর্মচারীদের। একই সঙ্গে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও থাকছেন আতঙ্কে। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাটিমা ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো ভবনের ছাদের প্লেষ্টার বড় অংশ খসে পড়েছে। অনেক জায়গায় ছাদ ভেঙে ভেতরের লোহার রড বের হয়ে গেছে। ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা গেছে এবং কোথাও কোথাও ঝুলে আছে ভাঙা প্লাষ্টারের অংশ। যে কোনো সময় সে গুলো ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অফিস কক্ষের ভেতরে ছাদের চাঙড় খসে পড়ে মেঝেতে ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অল্প বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কর্মচারীরা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্থানে পলিথিন বা প্লাস্টিক (পলিথিন) ব্যবহার করে কাগজপত্র রক্ষার চেষ্টা করে থাকেন।
আরও পড়ুন, নরসিংদীতে আলোচিত আমেনা হত্যায় জরিত বাবাসহ গেফতার ৯
স্থানীয়রা জানান, এরই মধ্যে ছাদের প্লাষ্টারারের বড় অংশ খসে পড়ে কয়েকজন সেবা গ্রহীতা আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে এসে অনেকেই আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। নাটিমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাকির হোসেন বলেন, আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। কখন ছাদের প্লাষ্টার খসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে সেই ভয় সব সময় থাকে। নাটিমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মাস্টার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। তিনি বলেন, ভবনটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে যে এখানে বসে কাজ করা সত্যিই কষ্টকর। তবু জনগণের সেবা দিতে বাধ্য হয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন, মহেশপুর সীমান্তে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার
একই ধরনের অবস্থা দেখা গেছে মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনেও। সেখানেও পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। সেবা নিতে আসা নাজমা খাতুন নামের এক নারী বলেন,এখানে সেবা নিতে এলে সব সময় ভয় লাগে। ছাদেও অবস্থা খুব খারাপ। কখন কী ঘটে বলা যায় না। স্থানীয় বাসিন্দারা আজাদ জানান, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই জনগণের নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পরিবর্তে নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, নাটিমা ও মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে চেষ্টা করছি। আশা করছি খুব দ্রুতই এই দুটি ইউনিয়নের জন্য নতুন ভবন পাওয়া যাবে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নাটিমা ও মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব নিরাপদ ভবন না থাকায় পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সেবা দিতে হচ্ছে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও কর্মচারীদের। একই সঙ্গে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও থাকছেন আতঙ্কে। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাটিমা ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো ভবনের ছাদের প্লেষ্টার বড় অংশ খসে পড়েছে। অনেক জায়গায় ছাদ ভেঙে ভেতরের লোহার রড বের হয়ে গেছে। ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা গেছে এবং কোথাও কোথাও ঝুলে আছে ভাঙা প্লাষ্টারের অংশ। যে কোনো সময় সে গুলো ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অফিস কক্ষের ভেতরে ছাদের চাঙড় খসে পড়ে মেঝেতে ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অল্প বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কর্মচারীরা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্থানে পলিথিন বা প্লাস্টিক (পলিথিন) ব্যবহার করে কাগজপত্র রক্ষার চেষ্টা করে থাকেন।
আরও পড়ুন, নরসিংদীতে আলোচিত আমেনা হত্যায় জরিত বাবাসহ গেফতার ৯
স্থানীয়রা জানান, এরই মধ্যে ছাদের প্লাষ্টারারের বড় অংশ খসে পড়ে কয়েকজন সেবা গ্রহীতা আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে এসে অনেকেই আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। নাটিমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাকির হোসেন বলেন, আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। কখন ছাদের প্লাষ্টার খসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে সেই ভয় সব সময় থাকে। নাটিমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মাস্টার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। তিনি বলেন, ভবনটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে যে এখানে বসে কাজ করা সত্যিই কষ্টকর। তবু জনগণের সেবা দিতে বাধ্য হয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন, মহেশপুর সীমান্তে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার
একই ধরনের অবস্থা দেখা গেছে মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনেও। সেখানেও পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। সেবা নিতে আসা নাজমা খাতুন নামের এক নারী বলেন,এখানে সেবা নিতে এলে সব সময় ভয় লাগে। ছাদেও অবস্থা খুব খারাপ। কখন কী ঘটে বলা যায় না। স্থানীয় বাসিন্দারা আজাদ জানান, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই জনগণের নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পরিবর্তে নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, নাটিমা ও মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে চেষ্টা করছি। আশা করছি খুব দ্রুতই এই দুটি ইউনিয়নের জন্য নতুন ভবন পাওয়া যাবে।

আপনার মতামত লিখুন