দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ যুক্তি

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ যুক্তি
দ্রুত নতুন জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে

দ্রুত নতুন জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি (কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি)।স্মারকলিপিতে পাঁচটি যুক্তি দেখিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল সোমবার (২ মার্চ) সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্যসচিব আশিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন।

প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব সেবামূলক কার্যক্রমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে উল্লেখ করতে হচ্ছে যে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণার পর প্রায় ১১ বছর অতিক্রান্ত হলেও নবম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি।


আরো পড়ুন , আজ জানানো হবে জুলাই সনদ ও গণভোট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত


বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যয় অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। এতে তাদের জীবনমান দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের পক্ষে তাদের যুক্তিসমূহ হলো—

১. দীর্ঘ সময় বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত সাধারণত প্রতি ৫ বছর পর পর নতুন পে স্কেল ঘোষণা করার প্রচলন থাকলেও প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন পে স্কেল ঘোষণা হয়নি।

এতে সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

২. দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ২০১৫ সালের তুলনায় বর্তমানে খাদ্যদ্রব্য, পরিবহন, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ সেই তুলনায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে।

৩. সরকারি চাকরির মর্যাদা ও আকর্ষণ কমে যাওয়া বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তব জীবনের ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং কর্মচারীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

৪. প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি যদি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা হয়, তাহলে তাদের কর্মস্পৃহা ও দায়িত্ববোধ আরো বৃদ্ধি পাবে, যা রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।

৫. সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের জীবনমান উন্নত হলে তা রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিষয় : পে স্কেল স্মারকলিপি গেজেট

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ যুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

দ্রুত নতুন জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি (কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি)।স্মারকলিপিতে পাঁচটি যুক্তি দেখিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল সোমবার (২ মার্চ) সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্যসচিব আশিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন।

প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব সেবামূলক কার্যক্রমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে উল্লেখ করতে হচ্ছে যে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণার পর প্রায় ১১ বছর অতিক্রান্ত হলেও নবম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি।


আরো পড়ুন , আজ জানানো হবে জুলাই সনদ ও গণভোট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত


বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যয় অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। এতে তাদের জীবনমান দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের পক্ষে তাদের যুক্তিসমূহ হলো—

১. দীর্ঘ সময় বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত সাধারণত প্রতি ৫ বছর পর পর নতুন পে স্কেল ঘোষণা করার প্রচলন থাকলেও প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন পে স্কেল ঘোষণা হয়নি।

এতে সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

২. দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ২০১৫ সালের তুলনায় বর্তমানে খাদ্যদ্রব্য, পরিবহন, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ সেই তুলনায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে।

৩. সরকারি চাকরির মর্যাদা ও আকর্ষণ কমে যাওয়া বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তব জীবনের ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং কর্মচারীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

৪. প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি যদি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা হয়, তাহলে তাদের কর্মস্পৃহা ও দায়িত্ববোধ আরো বৃদ্ধি পাবে, যা রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।

৫. সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের জীবনমান উন্নত হলে তা রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত