ফরিদপুর পৌর এলাকার প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত সরকারি হেলিপোর্ট বাজার, চাঁদা না দেয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে ফুটপাত ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে এ বাজারে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) আনুমানিক দুপুর সাড়ে ৩ টার সময় শহরের পশ্চিম গোয়ালচামট সরকারি হেলিপোর্ট বাজারের পশ্চিম গেটের সম্মুখ অংশে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আহত ব্যবসায়ীর নাম মিন্টু পাটোয়ারী।বাজার পার্শ্ববর্তী পশ্চিম গোয়ালচামট এলাকার মৃত খাঁজা আহমেদ এর ছেলে সে। বাজার সংলগ্ন রাস্তায় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ভ্যানে করে সে বিভিন্ন ধরনের ফল বিক্রি করেন বলে জানা যায়। সে দীর্ঘদিন যাবত হেলিপোর্ট বাজার সংলগ্ন ফুটপাতে ব্যবসা করে আসছে বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরে হেলিপোর্ট বাজার এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বাজারের খন্ডকালীন সবজি বিক্রেতা ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায় করে আসছে একটি চক্র। অভিযোগ রয়েছে, মোঃ বক্কার শেখ ওরফে টুন্ডা বক্কার দীর্ঘদিন যাবত হালিপোর্ট বাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় এই চাঁদাবাজির কর্মযজ্ঞ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তার রয়েছে একটি শক্তিশালী সন্ত্রাসী বাহিনী। হেলিপোর্ট বাজারে কাঁচামাল ব্যবসায়ী পরিচয়ের ছদ্মবেশে চলে তার নিরব চাঁদাবাজি। তার ছেলে তন্ময় শেখ সহ আরও কয়েকজন এই চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় সদস্য। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য দীর্ঘদিন সক্রিয় রয়েছে চক্রটি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্তে মেলে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা এই চক্রের কাছে জিম্মি,প্রতিবাদ করলেই প্রাননাশের হুমকি। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হচ্ছে হর হামেশাই"- এমন অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাধারণ ব্যবসায়ীদের। এই চক্রটির দ্বারা প্রতিনিয়ত হেনস্থার শিকার হচ্ছে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাগন। এ জাতীয় ঘটনা এবারই প্রথম নয় জানিয়ে নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী আফসোস করে বলেন, চাঁদাবাজি-মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম অনিয়ম এ বাজারে প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির নেই কোন শোকতাপ, তারা যেন নীরব দর্শক মাত্র। এই বক্কার গংদের কথার বাইরে কেউ কিছু করলেই পেশীশক্তি ব্যবহার করেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের এক প্রবীণ ব্যবসায়ী বলেন, গত ৩-৪ দিন আগেও সকাল বেলায় বয়স্ক এক গৃহস্থ (খন্ডকালীন কাঁচামাল বিক্রেতা) ব্যবসায়ী'কে বক্কার নিজে মেরেছে, সেতো মাঝে মাঝেই কারো না কারো গায়ে হাত দেয়।
সক্রিয় এই চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। চক্রটির মূল হোতা বক্কার শেখ ওরফে টুন্ডা বক্কার নিজেকে বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা বলে পরিচয় দেন বলেও জানা যায়। অভিযুক্ত বক্কার শেখ পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ড ভুক্ত রঘুনন্দনপুর গ্রামের হাসেম শেখ এর ছেলে। ভুক্তভোগী মিন্টু পাটোয়ারী সংবাদ দিগন্ত প্রতিনিধিকে জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে অভিযুক্তরা তার কাছে বরাবরের মতো চাঁদার টাকা দাবি করে, বলে যে এখন থেকে প্রতি মাসে ছয় হাজার টাকা দিতে পারলে এখানে ব্যবসা করবি। না হলে ব্যবসা করতে পারবি না। তিনি এতো টাকা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ পূর্বক অস্বীকৃতি জানালে বাক বিতন্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্ত বক্কারের নির্দেশে তার ছেলে তন্ময় শেখ ও সঙ্গে থাকা নাম না জানা কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত যখন করে। প্রাণ বাঁচাতে মিন্টু পাটোয়ারী রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে পালানোর সময় হামলাকারী তন্ময় শেখ তার সঙ্গীকে বলে "গুলি কর গুলি কর"। সেই অবস্থায় মিন্টু তার সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অন্য এক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেলে উঠে বসে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়। হামলার সময় তার পকেটে থাকা প্রায় এক লক্ষ সাতাশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো কথা বললে হামলাকারীরা তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার পকেটে থাকা টাকা তিনজন পার্শ্ব ব্যবসায়ীর নিকট হতে রমজান উপলক্ষে মালামাল ক্রয়ের জন্য হাওলাত গ্রহণ করেছিলেন বলে জানান তিনি।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আহত ব্যবসায়ী মিন্টু প্রতিবেদককে বলেন, “ওরা আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছে। প্রথম কোপ'টাই আমি হাত দিয়ে ফিরিয়েছি, হাত কেটেছে। না হলে আমার মাথা দু'ভাগ হয়ে যেত। কিছুদিন আগেই আমার স্ত্রী মারা গেছে। আজ যদি আমি মরে যেতাম, তাহলে আমার তিনটি ছোট সন্তানকে দেখার কেউ থাকত না। ওদের হাত থেকে আমি আজ প্রাণে বেঁচে গেলেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচার চাই। এ ঘটনায় বাজারজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিরব চাঁদাবাজির শিকার হলেও প্রাণভয়ে প্রতিবাদ করতে সক্ষম হননি তারা। এমন প্রকাশ্যে হামলার ঘটনায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান। তাদের ভাষ্যমতে, দিনের আলোয় এমন নৃশংস হামলা শুধু একজন ব্যবসায়ীর ওপর নয়—সমগ্র বাজার ব্যবস্থার ওপর একটি অশুভ বার্তা। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা না হলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরও ভয় ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন, বনানীতে হোটেল ‘মার্ভেল ইন’ নিয়ে বিতর্ক, স্কর্ট সার্ভিসের আড়ালে ভয়ংকর চিত্র! (পর্ব-২)
সচেতন মহল মনে করছেন, ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীরা কঠোর শাস্তির আওতায় এলে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে আসবে। একই সঙ্গে এমন চাঁদাবাজ চক্রের দৌরাত্ম্য রুখে দিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপেই একমাত্র আস্থা সবার ।
এ বিষয়ে সরকারি হেলিপোর্ট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মোল্লার সাথে বারংবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তদের পক্ষ হতে ইতিমধ্যেই বিষয়টি আপস মীমাংসার চাপ রয়েছে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, আইন-ই আমাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। আমরা ন্যায় বিচার চাই, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।
বিষয় : ফরিদপুর

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফরিদপুর পৌর এলাকার প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত সরকারি হেলিপোর্ট বাজার, চাঁদা না দেয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে ফুটপাত ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে এ বাজারে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) আনুমানিক দুপুর সাড়ে ৩ টার সময় শহরের পশ্চিম গোয়ালচামট সরকারি হেলিপোর্ট বাজারের পশ্চিম গেটের সম্মুখ অংশে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আহত ব্যবসায়ীর নাম মিন্টু পাটোয়ারী।বাজার পার্শ্ববর্তী পশ্চিম গোয়ালচামট এলাকার মৃত খাঁজা আহমেদ এর ছেলে সে। বাজার সংলগ্ন রাস্তায় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ভ্যানে করে সে বিভিন্ন ধরনের ফল বিক্রি করেন বলে জানা যায়। সে দীর্ঘদিন যাবত হেলিপোর্ট বাজার সংলগ্ন ফুটপাতে ব্যবসা করে আসছে বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরে হেলিপোর্ট বাজার এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বাজারের খন্ডকালীন সবজি বিক্রেতা ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায় করে আসছে একটি চক্র। অভিযোগ রয়েছে, মোঃ বক্কার শেখ ওরফে টুন্ডা বক্কার দীর্ঘদিন যাবত হালিপোর্ট বাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় এই চাঁদাবাজির কর্মযজ্ঞ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তার রয়েছে একটি শক্তিশালী সন্ত্রাসী বাহিনী। হেলিপোর্ট বাজারে কাঁচামাল ব্যবসায়ী পরিচয়ের ছদ্মবেশে চলে তার নিরব চাঁদাবাজি। তার ছেলে তন্ময় শেখ সহ আরও কয়েকজন এই চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় সদস্য। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য দীর্ঘদিন সক্রিয় রয়েছে চক্রটি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্তে মেলে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা এই চক্রের কাছে জিম্মি,প্রতিবাদ করলেই প্রাননাশের হুমকি। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হচ্ছে হর হামেশাই"- এমন অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাধারণ ব্যবসায়ীদের। এই চক্রটির দ্বারা প্রতিনিয়ত হেনস্থার শিকার হচ্ছে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাগন। এ জাতীয় ঘটনা এবারই প্রথম নয় জানিয়ে নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী আফসোস করে বলেন, চাঁদাবাজি-মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম অনিয়ম এ বাজারে প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির নেই কোন শোকতাপ, তারা যেন নীরব দর্শক মাত্র। এই বক্কার গংদের কথার বাইরে কেউ কিছু করলেই পেশীশক্তি ব্যবহার করেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের এক প্রবীণ ব্যবসায়ী বলেন, গত ৩-৪ দিন আগেও সকাল বেলায় বয়স্ক এক গৃহস্থ (খন্ডকালীন কাঁচামাল বিক্রেতা) ব্যবসায়ী'কে বক্কার নিজে মেরেছে, সেতো মাঝে মাঝেই কারো না কারো গায়ে হাত দেয়।
সক্রিয় এই চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। চক্রটির মূল হোতা বক্কার শেখ ওরফে টুন্ডা বক্কার নিজেকে বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা বলে পরিচয় দেন বলেও জানা যায়। অভিযুক্ত বক্কার শেখ পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ড ভুক্ত রঘুনন্দনপুর গ্রামের হাসেম শেখ এর ছেলে। ভুক্তভোগী মিন্টু পাটোয়ারী সংবাদ দিগন্ত প্রতিনিধিকে জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে অভিযুক্তরা তার কাছে বরাবরের মতো চাঁদার টাকা দাবি করে, বলে যে এখন থেকে প্রতি মাসে ছয় হাজার টাকা দিতে পারলে এখানে ব্যবসা করবি। না হলে ব্যবসা করতে পারবি না। তিনি এতো টাকা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ পূর্বক অস্বীকৃতি জানালে বাক বিতন্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্ত বক্কারের নির্দেশে তার ছেলে তন্ময় শেখ ও সঙ্গে থাকা নাম না জানা কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত যখন করে। প্রাণ বাঁচাতে মিন্টু পাটোয়ারী রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে পালানোর সময় হামলাকারী তন্ময় শেখ তার সঙ্গীকে বলে "গুলি কর গুলি কর"। সেই অবস্থায় মিন্টু তার সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অন্য এক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেলে উঠে বসে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়। হামলার সময় তার পকেটে থাকা প্রায় এক লক্ষ সাতাশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো কথা বললে হামলাকারীরা তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার পকেটে থাকা টাকা তিনজন পার্শ্ব ব্যবসায়ীর নিকট হতে রমজান উপলক্ষে মালামাল ক্রয়ের জন্য হাওলাত গ্রহণ করেছিলেন বলে জানান তিনি।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আহত ব্যবসায়ী মিন্টু প্রতিবেদককে বলেন, “ওরা আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছে। প্রথম কোপ'টাই আমি হাত দিয়ে ফিরিয়েছি, হাত কেটেছে। না হলে আমার মাথা দু'ভাগ হয়ে যেত। কিছুদিন আগেই আমার স্ত্রী মারা গেছে। আজ যদি আমি মরে যেতাম, তাহলে আমার তিনটি ছোট সন্তানকে দেখার কেউ থাকত না। ওদের হাত থেকে আমি আজ প্রাণে বেঁচে গেলেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচার চাই। এ ঘটনায় বাজারজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিরব চাঁদাবাজির শিকার হলেও প্রাণভয়ে প্রতিবাদ করতে সক্ষম হননি তারা। এমন প্রকাশ্যে হামলার ঘটনায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান। তাদের ভাষ্যমতে, দিনের আলোয় এমন নৃশংস হামলা শুধু একজন ব্যবসায়ীর ওপর নয়—সমগ্র বাজার ব্যবস্থার ওপর একটি অশুভ বার্তা। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা না হলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরও ভয় ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন, বনানীতে হোটেল ‘মার্ভেল ইন’ নিয়ে বিতর্ক, স্কর্ট সার্ভিসের আড়ালে ভয়ংকর চিত্র! (পর্ব-২)
সচেতন মহল মনে করছেন, ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীরা কঠোর শাস্তির আওতায় এলে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে আসবে। একই সঙ্গে এমন চাঁদাবাজ চক্রের দৌরাত্ম্য রুখে দিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপেই একমাত্র আস্থা সবার ।
এ বিষয়ে সরকারি হেলিপোর্ট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মোল্লার সাথে বারংবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তদের পক্ষ হতে ইতিমধ্যেই বিষয়টি আপস মীমাংসার চাপ রয়েছে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, আইন-ই আমাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। আমরা ন্যায় বিচার চাই, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।

আপনার মতামত লিখুন