কক্সবাজার সীমান্তের ইয়াবা সমস্যা নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা নতুন নয়, বীজ বোনা বহু আগেই। ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবা পাচারের নেটওয়ার্ক এতটাই জটিল, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা আইন প্রয়োগ করে এর বিস্তার থামানো সম্ভব হয়নি। জেলার এমপি হওয়ায় এখানকার ইয়াবা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তার দায়ভার শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়েও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই ইয়াবার চালান ঢোকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জব্দের পরিমাণ বাড়লেও বাজারে ইয়াবার সহজলভ্যতা কমেনি। স্থানীয়ভাবে এটিকে দেখা হচ্ছে ‘সরবরাহ বেড়েছে, তাই ধরা পড়ার সংখ্যাও বাড়ছে’ এই সংকেত হিসেবে।
স্থানীয়দের ভাষায়, এই জেলার মানুষ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি জানেন ইয়াবা সমস্যা সমাধানে কোথায় দুর্বলতা, কে গডফাদার। তাই তার কাছে প্রত্যাশাও বেশি। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের ওপরও চাপ বাড়ছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশ, টেকনাফ মডেল থানার কর্মকর্তারা বলছেন, সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিটি বাহিনী অতিরিক্ত সতর্ক।বিশেষ করে ইয়াবা রুট, মাঝরাতের ‘নৌ-চলাচল’ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরের সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন , আজকের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের ভেতরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সীমান্তে নতুন ধরনের অপারেশনাল মডেল চালুর সম্ভাবনা। দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতিতে কার্যত কোনো পরিবর্তন না আসায় এবার সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও সোর্সভিত্তিক অপারেশনের কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়। টেকনাফ ও নাফ নদীর ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে ড্রোন নজরদারি, সীমান্তের ১২টি প্রধান রুটে বিশেষ মোবাইল ইউনিট, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় সশস্ত্র উপস্থিতি বাড়ানো এবং ইয়াবা মামলার তদন্তে সিআইডি, মাদক অধিদপ্তর ও বিজিবির যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের মতো বিষয়গুলো এখন আলোচনায় আসছে।
মাদকবিরোধী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগের ব্যর্থ অভিজ্ঞতার পর এবার মডেল বদল জরুরি।তা না হলে একই চক্র আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তারা বলছেন, সামগ্রিকভাবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছাড়াও কক্সবাজারের মাদক সংকটই নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম তিন থেকে ছয় মাসই বলে দেবে দীর্ঘদিনের ‘মাদক সাম্রাজ্য’ ভাঙতে তিনি কতটা সক্ষম।
বিষয় : ঝুঁকিপূর্ণ প্রশাস মন্ত্রী দায়িত্ব

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজার সীমান্তের ইয়াবা সমস্যা নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা নতুন নয়, বীজ বোনা বহু আগেই। ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবা পাচারের নেটওয়ার্ক এতটাই জটিল, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা আইন প্রয়োগ করে এর বিস্তার থামানো সম্ভব হয়নি। জেলার এমপি হওয়ায় এখানকার ইয়াবা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তার দায়ভার শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়েও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই ইয়াবার চালান ঢোকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জব্দের পরিমাণ বাড়লেও বাজারে ইয়াবার সহজলভ্যতা কমেনি। স্থানীয়ভাবে এটিকে দেখা হচ্ছে ‘সরবরাহ বেড়েছে, তাই ধরা পড়ার সংখ্যাও বাড়ছে’ এই সংকেত হিসেবে।
স্থানীয়দের ভাষায়, এই জেলার মানুষ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি জানেন ইয়াবা সমস্যা সমাধানে কোথায় দুর্বলতা, কে গডফাদার। তাই তার কাছে প্রত্যাশাও বেশি। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের ওপরও চাপ বাড়ছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশ, টেকনাফ মডেল থানার কর্মকর্তারা বলছেন, সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিটি বাহিনী অতিরিক্ত সতর্ক।বিশেষ করে ইয়াবা রুট, মাঝরাতের ‘নৌ-চলাচল’ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরের সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন , আজকের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের ভেতরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সীমান্তে নতুন ধরনের অপারেশনাল মডেল চালুর সম্ভাবনা। দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতিতে কার্যত কোনো পরিবর্তন না আসায় এবার সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও সোর্সভিত্তিক অপারেশনের কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়। টেকনাফ ও নাফ নদীর ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে ড্রোন নজরদারি, সীমান্তের ১২টি প্রধান রুটে বিশেষ মোবাইল ইউনিট, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় সশস্ত্র উপস্থিতি বাড়ানো এবং ইয়াবা মামলার তদন্তে সিআইডি, মাদক অধিদপ্তর ও বিজিবির যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের মতো বিষয়গুলো এখন আলোচনায় আসছে।
মাদকবিরোধী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগের ব্যর্থ অভিজ্ঞতার পর এবার মডেল বদল জরুরি।তা না হলে একই চক্র আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তারা বলছেন, সামগ্রিকভাবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছাড়াও কক্সবাজারের মাদক সংকটই নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম তিন থেকে ছয় মাসই বলে দেবে দীর্ঘদিনের ‘মাদক সাম্রাজ্য’ ভাঙতে তিনি কতটা সক্ষম।

আপনার মতামত লিখুন