পবিত্র রমজান মাসে বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একাধিক জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্দর পূর্ণকালীন ২৪/৭ নিরবচ্ছিন্ন অপারেশন মোডে কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সভায় আসন্ন রমজান উপলক্ষে বাজারে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং খেজুর, ফলমূল, মসলা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাস ও ডেলিভারি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসকে দ্রুত শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দেয়।
ঢাকা আইসিডিগামী কনটেইনার জট নিরসনে একটি বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্দরে বর্তমানে থাকা প্রায় ২ হাজার ঢাকামুখী কনটেইনার দ্রুত সরিয়ে নিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মাধ্যমে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক-রপ্তানিকারকদের সঙ্গে জরুরি সভা করার সিদ্ধান্ত হয়। বন্দরের অভ্যন্তরে কাস্টমস পরিচালিত কয়েকটি স্ক্যানার অচল থাকায় স্ক্যানিংয়ের অপেক্ষায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। স্ক্যানারগুলো দ্রুত মেরামত ও আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অপারেশনাল কার্যক্রম ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের জন্য দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বন্দরের প্রতিটি ইকুইপমেন্ট সচল রাখতে একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। জেটিগুলোতে কনটেইনার জট কমাতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা জোরদার করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন, ফকিরহাট বাজারে টাস্কফোর্স অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
একই দিনে বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আরিফ আবদুল্লাহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে অপারেশনাল লজিস্টিকস ও টেকনিক্যাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন। সভায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠন, শিপিং এজেন্ট, কনটেইনার অপারেটর, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, রমজান মাসে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দ্রুততর করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কনটেইনার জট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের বৃহত্তর স্বার্থে সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসে বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একাধিক জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্দর পূর্ণকালীন ২৪/৭ নিরবচ্ছিন্ন অপারেশন মোডে কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সভায় আসন্ন রমজান উপলক্ষে বাজারে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং খেজুর, ফলমূল, মসলা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাস ও ডেলিভারি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসকে দ্রুত শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দেয়।
ঢাকা আইসিডিগামী কনটেইনার জট নিরসনে একটি বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্দরে বর্তমানে থাকা প্রায় ২ হাজার ঢাকামুখী কনটেইনার দ্রুত সরিয়ে নিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মাধ্যমে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক-রপ্তানিকারকদের সঙ্গে জরুরি সভা করার সিদ্ধান্ত হয়। বন্দরের অভ্যন্তরে কাস্টমস পরিচালিত কয়েকটি স্ক্যানার অচল থাকায় স্ক্যানিংয়ের অপেক্ষায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। স্ক্যানারগুলো দ্রুত মেরামত ও আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অপারেশনাল কার্যক্রম ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের জন্য দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বন্দরের প্রতিটি ইকুইপমেন্ট সচল রাখতে একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। জেটিগুলোতে কনটেইনার জট কমাতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা জোরদার করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন, ফকিরহাট বাজারে টাস্কফোর্স অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
একই দিনে বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আরিফ আবদুল্লাহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে অপারেশনাল লজিস্টিকস ও টেকনিক্যাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন। সভায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠন, শিপিং এজেন্ট, কনটেইনার অপারেটর, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, রমজান মাসে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দ্রুততর করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কনটেইনার জট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের বৃহত্তর স্বার্থে সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন