দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঢাকার ১০৬ কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ‘হ্যাঁ’

ঢাকার ১০৬ কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ‘হ্যাঁ’
ঢাকার ১০৬ কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ‘হ্যাঁ’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই জনসমর্থন বেশি দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারিভাবে পাওয়া ঢাকার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ১০৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা গেছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৯ হাজার ৩৪৭টি। বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছে ১৯ হাজার ৯৪৫টি। গণভোটে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের সংবিধানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধানে যেসব পরিবর্তন আসবে— 

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি

বর্তমানে রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন। নতুন সনদ কার্যকর হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দিতে পারবেন। (উল্লেখ্য, এ বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত পোষণ করেছে)।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি

বর্তমানে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সনদ অনুযায়ী, উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

উচ্চকক্ষ গঠন

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট ‘উচ্চকক্ষ’ গঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে এর আসন বণ্টন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী পদের সময়সীমা

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর (দুই মেয়াদ) প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবেন না।

আরও পড়ুন, শুক্রবার বাদ জুমা দেশব্যাপী বিশেষ দোয়া

সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা (৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন)

অর্থবিল ও অনাস্থা ভোট ছাড়া অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।

বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার

সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদটি বাধ্যতামূলকভাবে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবে।

বিচার বিভাগীয় সংস্কার

সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ সরাসরি আপিল বিভাগ থেকে বাধ্যতামূলক করা হবে। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে ন্যস্ত হবে।

মৌলিক অধিকার ও অন্যান্য

জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার খর্ব না করা, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে এই সনদে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশন গঠন পদ্ধতি এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকারেও বড় পরিবর্তন আসবে, যেখানে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মতিতে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করতে পারবেন।

বিষয় : নির্বাচন গণভোট

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ঢাকার ১০৬ কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ‘হ্যাঁ’

প্রকাশের তারিখ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই জনসমর্থন বেশি দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারিভাবে পাওয়া ঢাকার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ১০৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা গেছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৯ হাজার ৩৪৭টি। বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছে ১৯ হাজার ৯৪৫টি। গণভোটে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের সংবিধানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধানে যেসব পরিবর্তন আসবে— 

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি

বর্তমানে রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন। নতুন সনদ কার্যকর হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দিতে পারবেন। (উল্লেখ্য, এ বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত পোষণ করেছে)।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি

বর্তমানে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সনদ অনুযায়ী, উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

উচ্চকক্ষ গঠন

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট ‘উচ্চকক্ষ’ গঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে এর আসন বণ্টন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী পদের সময়সীমা

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর (দুই মেয়াদ) প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবেন না।

আরও পড়ুন, শুক্রবার বাদ জুমা দেশব্যাপী বিশেষ দোয়া

সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা (৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন)

অর্থবিল ও অনাস্থা ভোট ছাড়া অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।

বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার

সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদটি বাধ্যতামূলকভাবে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবে।

বিচার বিভাগীয় সংস্কার

সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ সরাসরি আপিল বিভাগ থেকে বাধ্যতামূলক করা হবে। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে ন্যস্ত হবে।

মৌলিক অধিকার ও অন্যান্য

জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার খর্ব না করা, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে এই সনদে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশন গঠন পদ্ধতি এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকারেও বড় পরিবর্তন আসবে, যেখানে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মতিতে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করতে পারবেন।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত