গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান চৌধুরী এবং ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা এহসানুল হক।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শ্রীপুর উপজেলার আবদার বাজার এলাকায় জনসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান চৌধুরী অভিযোগ করেন, ধানের শীষের প্রার্থী সাধারণ ভোটারদের কাছে না গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং তাদের বিএনপিতে যোগ দিতে উৎসাহিত করছেন।
তিনি বলেন, যাদের এতদিন ফ্যাসিস্ট বলা হয়েছে, এখন তাদেরই আত্মীয়করণ করা হচ্ছে এবং মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে বিএনপিতে ভেড়ানো হচ্ছে। এতে প্রমাণ হয়, আওয়ামী লীগের ভোট ছাড়া তাদের নিজস্ব কোনো ভোট ব্যাংক নেই। ইজাদুর রহমান চৌধুরী আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দুর্নীতিতে জড়িত হয়ে আত্মগোপনে থাকা কয়েকজনকে পলিটিক্যাল জামিনে মুক্ত করে বিএনপিতে যুক্ত করা হচ্ছে। এসব ব্যক্তিকে দিয়ে নির্বাচনের দিন মব সৃষ্টি, সিল মারা এবং ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, একই দিনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা এহসানুল হক নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রতিবাদ করায় তার কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। লাইভে তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আমার প্রচারণার সামগ্রী সরানো হচ্ছে। এতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার সলিং মোড় এলাকা থেকে বড় আকারের একটি ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রীপুর-টেংরা রাস্তার মোড়, সাইটালিয়া বাজারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে পোস্টার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। মাওলানা এহসানুল হক প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজীপুর-৩ আসনে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় মাঠ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে। এ অবস্থায় আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন এবং প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন তারা। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজীপুর -৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী এস এম ডা: রফিকুল ইসলাম কে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজিব আহমেদ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান চৌধুরী এবং ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা এহসানুল হক।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শ্রীপুর উপজেলার আবদার বাজার এলাকায় জনসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান চৌধুরী অভিযোগ করেন, ধানের শীষের প্রার্থী সাধারণ ভোটারদের কাছে না গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং তাদের বিএনপিতে যোগ দিতে উৎসাহিত করছেন।
তিনি বলেন, যাদের এতদিন ফ্যাসিস্ট বলা হয়েছে, এখন তাদেরই আত্মীয়করণ করা হচ্ছে এবং মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে বিএনপিতে ভেড়ানো হচ্ছে। এতে প্রমাণ হয়, আওয়ামী লীগের ভোট ছাড়া তাদের নিজস্ব কোনো ভোট ব্যাংক নেই। ইজাদুর রহমান চৌধুরী আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দুর্নীতিতে জড়িত হয়ে আত্মগোপনে থাকা কয়েকজনকে পলিটিক্যাল জামিনে মুক্ত করে বিএনপিতে যুক্ত করা হচ্ছে। এসব ব্যক্তিকে দিয়ে নির্বাচনের দিন মব সৃষ্টি, সিল মারা এবং ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, একই দিনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা এহসানুল হক নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রতিবাদ করায় তার কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। লাইভে তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আমার প্রচারণার সামগ্রী সরানো হচ্ছে। এতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার সলিং মোড় এলাকা থেকে বড় আকারের একটি ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রীপুর-টেংরা রাস্তার মোড়, সাইটালিয়া বাজারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে পোস্টার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। মাওলানা এহসানুল হক প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজীপুর-৩ আসনে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় মাঠ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে। এ অবস্থায় আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন এবং প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন তারা। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজীপুর -৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী এস এম ডা: রফিকুল ইসলাম কে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজিব আহমেদ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন