দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সুদখোর মহাজনের চাপ সইতে না পেরে স্ত্রীকে চিঠি দিয়ে যুবকের আত্মহনন

সুদখোর মহাজনের চাপ সইতে না পেরে স্ত্রীকে চিঠি দিয়ে যুবকের আত্মহনন
সুদখোর মহাজনের চাপ সইতে না পেরে স্ত্রীকে চিঠি দিয়ে যুবকের আত্মহনন

ধামরাইয়ের সুদখোর মহাজন শাহিন আলম ও জাহাঙ্গীর আলমের মানসিক চাপ সইতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বাইসাকান্দা ইউনিয়ন সদরের সুমন রাজবংশী ওরফে অপু রাজবংশী।শনিবার এ ঘটনার আগে তিনি স্ত্রী ফুলমালা রাজবংশীকে লেখা তিন পাতার শেষ চিঠিতে এর কারণ ও দায়ীদের ব্যাপারে বিস্তারিত লিখে গেছেন।

অপু রাজবংশী চিঠিতে লিখেছেন, ‘তোমায় বড় বেশি ভালবাসতাম আমি। সুদখোর মহাজন শাহিন আলম ও জাহাঙ্গীর আলমের মানসিক চাপে আমি নিলাম চিরবিদায়। পারলে আমায় ক্ষমা করে দিও প্রিয়তমা। ওরা আমাকে বাঁচতে দিল না। আমার এই মৃত্যুর জন্য ওরা দুজনই দায়ী। ওরা আমার ভিটে-মাটি, জায়গা-জমি লিখে নিয়েছে। আমার শেষ সম্বল একটি ভ্যান গাড়িও বিক্রি করে টাকা নিয়েছে। এর পরও পরিশোধ করতে পারিনি ওদের ঋণের বোঝা। এতসব কেড়ে নেওয়ার পরও ওরা আমার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছে। তারা প্রতিনিয়ত আমাকে দিচ্ছে কঠোর চাপ। আমি ওদের এ চাপ সইতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আÍহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হলাম। পারলে আমায় ক্ষমা করে দিও প্রিয়তমা। এ আমার মিনতি নয় এ আমার দাবি। এরপরও তোমার প্রতি রইল আমার বিশেষ অনুরোধ। তুমি ওদের ক্ষমা করো না। তুমি ওদের বিচার করো। তুমি ওদের শাস্তি দিও। তাহলেই আমার আত্মা শান্তি পাবে।’ 

আরও পড়ুন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সেন্ট মার্টিনে ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ

অপু রাজবংশী কুশুরা ইউনিয়নের কান্টাহাটি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও আমছিমুর গ্রামের শাহিন আলমের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকায় প্রতি সপ্তাহে ১০০০ টাকা করে সুদে টাকা নিয়েছিলেন। নিয়মিত সুদ দিতে না পারায় ওই টাকার চক্রবৃদ্ধি আকারে বিশাল ঋণে পরিণত হয়। ঋণ পরিশোধের জন্য তারা প্রতিনিয়ত চাপ দিয়ে আসছিল। এ চাপ সইতে না পেরে অপু এ পথ বেছে নেন।  ধামরাই থানার এসআই লিজা আক্তার বলেন, অপু রাজবংশীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিষয় : ধামরাই আত্মহনন মহাজন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


সুদখোর মহাজনের চাপ সইতে না পেরে স্ত্রীকে চিঠি দিয়ে যুবকের আত্মহনন

প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ধামরাইয়ের সুদখোর মহাজন শাহিন আলম ও জাহাঙ্গীর আলমের মানসিক চাপ সইতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বাইসাকান্দা ইউনিয়ন সদরের সুমন রাজবংশী ওরফে অপু রাজবংশী।শনিবার এ ঘটনার আগে তিনি স্ত্রী ফুলমালা রাজবংশীকে লেখা তিন পাতার শেষ চিঠিতে এর কারণ ও দায়ীদের ব্যাপারে বিস্তারিত লিখে গেছেন।

অপু রাজবংশী চিঠিতে লিখেছেন, ‘তোমায় বড় বেশি ভালবাসতাম আমি। সুদখোর মহাজন শাহিন আলম ও জাহাঙ্গীর আলমের মানসিক চাপে আমি নিলাম চিরবিদায়। পারলে আমায় ক্ষমা করে দিও প্রিয়তমা। ওরা আমাকে বাঁচতে দিল না। আমার এই মৃত্যুর জন্য ওরা দুজনই দায়ী। ওরা আমার ভিটে-মাটি, জায়গা-জমি লিখে নিয়েছে। আমার শেষ সম্বল একটি ভ্যান গাড়িও বিক্রি করে টাকা নিয়েছে। এর পরও পরিশোধ করতে পারিনি ওদের ঋণের বোঝা। এতসব কেড়ে নেওয়ার পরও ওরা আমার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছে। তারা প্রতিনিয়ত আমাকে দিচ্ছে কঠোর চাপ। আমি ওদের এ চাপ সইতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আÍহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হলাম। পারলে আমায় ক্ষমা করে দিও প্রিয়তমা। এ আমার মিনতি নয় এ আমার দাবি। এরপরও তোমার প্রতি রইল আমার বিশেষ অনুরোধ। তুমি ওদের ক্ষমা করো না। তুমি ওদের বিচার করো। তুমি ওদের শাস্তি দিও। তাহলেই আমার আত্মা শান্তি পাবে।’ 

আরও পড়ুন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সেন্ট মার্টিনে ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ

অপু রাজবংশী কুশুরা ইউনিয়নের কান্টাহাটি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও আমছিমুর গ্রামের শাহিন আলমের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকায় প্রতি সপ্তাহে ১০০০ টাকা করে সুদে টাকা নিয়েছিলেন। নিয়মিত সুদ দিতে না পারায় ওই টাকার চক্রবৃদ্ধি আকারে বিশাল ঋণে পরিণত হয়। ঋণ পরিশোধের জন্য তারা প্রতিনিয়ত চাপ দিয়ে আসছিল। এ চাপ সইতে না পেরে অপু এ পথ বেছে নেন।  ধামরাই থানার এসআই লিজা আক্তার বলেন, অপু রাজবংশীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত