ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বান্দরবান–৩০০ আসনে নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই সরগরম হয়ে উঠছে। এই ধারাবাহিকতায় শাপলা কলির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন (২৮/১/২৬) তারিখে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গুলিস্তান বাজারে এক পথসভা ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ গুলিস্তান বাজার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন।
পথসভা শুরুর আগে এমপি প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন বাজারের বিভিন্ন দোকান, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন। এ সময় তিনি বলেন, রাজনীতি তাঁর কাছে ক্ষমতার নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মাধ্যম। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাই তাঁর রাজনীতির মূল শক্তি।
পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন বলেন, বান্দরবান একটি সম্ভাবনাময় জেলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পাহাড়ি ও সমতলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বান্দরবানকে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও মানবিক জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান—এই চারটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “শহর ও গ্রামের মধ্যে যে বৈষম্য রয়েছে, তা কমিয়ে আনাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
পথসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে এমপি প্রার্থী বলেন, রাজনীতিতে শুদ্ধতা ও মানবিকতা ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে এলাকার প্রতিটি মানুষের কথা সংসদে তুলে ধরবেন। কোনো অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে আপস না করার কথাও তিনি দৃঢ়ভাবে জানান।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর কাছ থেকে এমন খোলামেলা ও আন্তরিক আচরণ তাঁদের কাছে আশাব্যঞ্জক মনে হয়েছে। ফাঁসিয়াখালি এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, “উনি আমাদের সঙ্গে বসে কথা শুনেছেন, সমস্যার কথা জানতে চেয়েছেন। এতে মনে হয়েছে, উনি সত্যিই মানুষের জন্য কাজ করতে চান।”
পথসভায় বক্তারা বলেন, বান্দরবান–৩০০ আসন একটি বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক এলাকা। এখানে পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। এই বৈচিত্র্যকে শক্তিতে রূপান্তর করে ঐক্যের রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা। তাঁরা বলেন, আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ, যিনি এলাকার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।গণসংযোগকালে এমপি প্রার্থী তরুণদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তাঁদের হাতেই। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদক ও সহিংসতা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।
নারীদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। পথসভায় উপস্থিত নারী ভোটাররা জানান, তাঁরা চান এমন একজন প্রতিনিধি, যিনি নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবেন। এ বিষয়ে আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন বলেন, নারীদের ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
পথসভা শেষে সংক্ষিপ্ত মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন কামনা করা হয়।স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়নে এই পথসভা ও গণসংযোগ শাপলা কলির প্রার্থীর প্রচারণায় নতুন গতি এনেছে। সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমস্যা শোনার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বান্দরবান–৩০০ আসনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণা যত এগোচ্ছে, ততই ভোটারদের আগ্রহ ও আলোচনা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিনের পথসভা ও গণসংযোগ এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বান্দরবান–৩০০ আসনে নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই সরগরম হয়ে উঠছে। এই ধারাবাহিকতায় শাপলা কলির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন (২৮/১/২৬) তারিখে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গুলিস্তান বাজারে এক পথসভা ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ গুলিস্তান বাজার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন।
পথসভা শুরুর আগে এমপি প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন বাজারের বিভিন্ন দোকান, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন। এ সময় তিনি বলেন, রাজনীতি তাঁর কাছে ক্ষমতার নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মাধ্যম। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাই তাঁর রাজনীতির মূল শক্তি।
পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন বলেন, বান্দরবান একটি সম্ভাবনাময় জেলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পাহাড়ি ও সমতলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বান্দরবানকে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও মানবিক জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান—এই চারটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “শহর ও গ্রামের মধ্যে যে বৈষম্য রয়েছে, তা কমিয়ে আনাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
পথসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে এমপি প্রার্থী বলেন, রাজনীতিতে শুদ্ধতা ও মানবিকতা ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে এলাকার প্রতিটি মানুষের কথা সংসদে তুলে ধরবেন। কোনো অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে আপস না করার কথাও তিনি দৃঢ়ভাবে জানান।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর কাছ থেকে এমন খোলামেলা ও আন্তরিক আচরণ তাঁদের কাছে আশাব্যঞ্জক মনে হয়েছে। ফাঁসিয়াখালি এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, “উনি আমাদের সঙ্গে বসে কথা শুনেছেন, সমস্যার কথা জানতে চেয়েছেন। এতে মনে হয়েছে, উনি সত্যিই মানুষের জন্য কাজ করতে চান।”
পথসভায় বক্তারা বলেন, বান্দরবান–৩০০ আসন একটি বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক এলাকা। এখানে পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। এই বৈচিত্র্যকে শক্তিতে রূপান্তর করে ঐক্যের রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা। তাঁরা বলেন, আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ, যিনি এলাকার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।গণসংযোগকালে এমপি প্রার্থী তরুণদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তাঁদের হাতেই। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদক ও সহিংসতা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।
নারীদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। পথসভায় উপস্থিত নারী ভোটাররা জানান, তাঁরা চান এমন একজন প্রতিনিধি, যিনি নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবেন। এ বিষয়ে আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন বলেন, নারীদের ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
পথসভা শেষে সংক্ষিপ্ত মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন কামনা করা হয়।স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়নে এই পথসভা ও গণসংযোগ শাপলা কলির প্রার্থীর প্রচারণায় নতুন গতি এনেছে। সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমস্যা শোনার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বান্দরবান–৩০০ আসনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণা যত এগোচ্ছে, ততই ভোটারদের আগ্রহ ও আলোচনা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিনের পথসভা ও গণসংযোগ এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন