দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

বারহাট্টায় সারের কৃত্রিম সংকট চাহিদার সমান বরাদ্দ থাকলেও সরকারি মূল্য কাগজে কলমে

বারহাট্টায় সারের কৃত্রিম সংকট চাহিদার সমান বরাদ্দ থাকলেও সরকারি মূল্য কাগজে কলমে
বারহাট্টায় সারের কৃত্রিম সংকট চাহিদার সমান বরাদ্দ থাকলেও সরকারি মূল্য কাগজে কলমে

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় কৃষি অফিসের চরম অবহেলা ও অসাধু ডিলারদের সিন্ডিকেটে সারের তীব্র কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। ডিলাররা সরকারি মূল্যের তোয়াক্কা না করে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ৩৭০ টাকা পর্যন্ত বেশি দরে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলায় বিসিআইসির ১১ জন এবং বিএডিসির ২৪ জন অনুমোদিত ডিলার থাকলেও অধিকাংশের গোডাউনে সার পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, অনেক ডিলার লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে রেখেছেন অথবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে বরাদ্দের সার গুদামে না এনেই বাইরে বেশি দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

সরেজমিনে চলতি জানুয়ারি মাসের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, এক ডিলারের নামে ৬০৩ বস্তা সার বরাদ্দ থাকলেও তিনি গুদামে এনেছেন মাত্র ৩০০ বস্তা। অথচ কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বরাদ্দের সম্পূর্ণ সার বুঝে পাওয়ার নথিতে স্বাক্ষর করেছেন। এমনকি শ্রমিক সর্দার ইসলাম উদ্দিনের দাবি অনুযায়ী, এক রাতে ৮০ বস্তা ডিএপি ও ৮০ বস্তা  মোট ১৬০ বস্তা সার খালাস করা হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি বস্তা ডিএপি সারের দাম ১০৫০ টাকা হলেও কৃষকদের কিনতে হচ্ছে ১৪২০ টাকায়। সাহতা ইউনিয়নের কৃষক রুবেল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দোকানে গেলে বলে সার নাই। বাধ্য হয়ে ১৪২০ টাকা দিয়ে সার কিনেছি। না কিনলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। সাহতা ইউনিয়নের কদম দেউলী গ্রামের কৃষক আনিস মিয়া বলেন, আমরা ডিলারের গোদামের সামনে সার নিতে এসেও সার পাচ্ছি না। কারণ সাহতা ইউনিয়নের ডিলার মলয় সরকারের বিসিআইসি ডিলার পয়েন্ট সবসময় বন্ধ থাকে।

আরও পড়ুন, কালোবাজারে পাচারকালে গাইবান্ধায় ভর্তুকিপ্রাপ্ত ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ, জরিমানা ২০ হাজার

এদিকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রাশেদুজ্জামান আজাদ নথিতে স্বাক্ষর করার কথা স্বীকার করলেও সারের এই গরমিল নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বিষয়টি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা কি বসে রয়েছি? আমরা কাজ করছি।এটা কোন ধরনের উত্তর জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিনিধির সাথে আর কোনো উত্তর দেয়নি। তবে কর্মকর্তাদের এমন দায়সারা বক্তব্যে কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এবিষয়ে নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ রাকিবুল হাসান বলেন, নেত্রকোনা জেলার কোনো জায়গায় সারের সংকট পরেনি,এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও সারের সংকট পরেছে কি না তা আমার জানা নেই,কারণ সারের সংকট বিষয়ে কেউ এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি,আর আমাদের কোনো ডিলার যদি সার নিয়ে সিন্ডিকেট করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে বারহাট্টা উপজেলার সচেতন মহলের মতে, দ্রুত তদন্ত করে এই সার ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট না ভাঙলে বারহাট্টায় খাদ্য উৎপাদনে ধস নামতে পারে। অবিলম্বে অসাধু ডিলার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয় কৃষকরা।

বিষয় : বারহাট্টা কৃত্রিম সংকট

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


বারহাট্টায় সারের কৃত্রিম সংকট চাহিদার সমান বরাদ্দ থাকলেও সরকারি মূল্য কাগজে কলমে

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় কৃষি অফিসের চরম অবহেলা ও অসাধু ডিলারদের সিন্ডিকেটে সারের তীব্র কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। ডিলাররা সরকারি মূল্যের তোয়াক্কা না করে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ৩৭০ টাকা পর্যন্ত বেশি দরে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলায় বিসিআইসির ১১ জন এবং বিএডিসির ২৪ জন অনুমোদিত ডিলার থাকলেও অধিকাংশের গোডাউনে সার পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, অনেক ডিলার লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে রেখেছেন অথবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে বরাদ্দের সার গুদামে না এনেই বাইরে বেশি দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

সরেজমিনে চলতি জানুয়ারি মাসের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, এক ডিলারের নামে ৬০৩ বস্তা সার বরাদ্দ থাকলেও তিনি গুদামে এনেছেন মাত্র ৩০০ বস্তা। অথচ কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বরাদ্দের সম্পূর্ণ সার বুঝে পাওয়ার নথিতে স্বাক্ষর করেছেন। এমনকি শ্রমিক সর্দার ইসলাম উদ্দিনের দাবি অনুযায়ী, এক রাতে ৮০ বস্তা ডিএপি ও ৮০ বস্তা  মোট ১৬০ বস্তা সার খালাস করা হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি বস্তা ডিএপি সারের দাম ১০৫০ টাকা হলেও কৃষকদের কিনতে হচ্ছে ১৪২০ টাকায়। সাহতা ইউনিয়নের কৃষক রুবেল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দোকানে গেলে বলে সার নাই। বাধ্য হয়ে ১৪২০ টাকা দিয়ে সার কিনেছি। না কিনলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। সাহতা ইউনিয়নের কদম দেউলী গ্রামের কৃষক আনিস মিয়া বলেন, আমরা ডিলারের গোদামের সামনে সার নিতে এসেও সার পাচ্ছি না। কারণ সাহতা ইউনিয়নের ডিলার মলয় সরকারের বিসিআইসি ডিলার পয়েন্ট সবসময় বন্ধ থাকে।

আরও পড়ুন, কালোবাজারে পাচারকালে গাইবান্ধায় ভর্তুকিপ্রাপ্ত ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ, জরিমানা ২০ হাজার

এদিকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রাশেদুজ্জামান আজাদ নথিতে স্বাক্ষর করার কথা স্বীকার করলেও সারের এই গরমিল নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বিষয়টি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা কি বসে রয়েছি? আমরা কাজ করছি।এটা কোন ধরনের উত্তর জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিনিধির সাথে আর কোনো উত্তর দেয়নি। তবে কর্মকর্তাদের এমন দায়সারা বক্তব্যে কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এবিষয়ে নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ রাকিবুল হাসান বলেন, নেত্রকোনা জেলার কোনো জায়গায় সারের সংকট পরেনি,এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও সারের সংকট পরেছে কি না তা আমার জানা নেই,কারণ সারের সংকট বিষয়ে কেউ এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি,আর আমাদের কোনো ডিলার যদি সার নিয়ে সিন্ডিকেট করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে বারহাট্টা উপজেলার সচেতন মহলের মতে, দ্রুত তদন্ত করে এই সার ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট না ভাঙলে বারহাট্টায় খাদ্য উৎপাদনে ধস নামতে পারে। অবিলম্বে অসাধু ডিলার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয় কৃষকরা।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত