দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

সেনানিবাসেই গ্রেপ্তার ও গুমকক্ষের শিকার সাবেক সেনা কর্মকর্তা

সেনানিবাসেই গ্রেপ্তার ও গুমকক্ষের শিকার সাবেক সেনা কর্মকর্তা
গুমকক্ষের শিকার সাবেক সেনা কর্মকর্তা

হাসিনার শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি দিয়েছেন শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসিনুর রহমান। 

 (২৫ জানুয়ারি) ছিল দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ। জবানবন্দিতে মো. হাসিনুর রহমান জানান, ময়মনসিংহ সেনানিবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাকে গুম করে রাখা হয়। হরকাতুল জিহাদ নামক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথিত অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। এরপর দেড় বছর কাটাতে হয় আয়নাঘরে। সেই অন্ধকার আয়নাঘরের বিছানা আর দেওয়াল ছিল রক্তমাখা। এমনকি দেওয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা ছিল মোবাইল নম্বর। 

দ্বিতীয় সাক্ষী হিসাবে হাসিনুর রহমানের জবানবন্দি রেকর্ড করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। বাকি সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জবানবন্দির শুরুতে গুমের বর্ণনা দেন হাসিনুর রহমান। ২০১১ সালের ৯ জুলাই ময়মনসিংহ সেনানিবাসে কর্মরত অবস্থায় তাকে গুম করা হয়। ৪৩ দিন গুম থাকার পর সেনা আদালতে তাকে চার বছরের সাজা দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ছিল বলে জানান তিনি। 

আরো পড়ুন , নতুন অধ্যাদেশ জুলাই যোদ্ধাদের দেওয়া হলো আইনি সুরক্ষা

হাসিনুর রহমান জানান, তিনি দ্বিতীয় দফায় গুম হন ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট। মুক্তি পান ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফায় গুমের দিন সন্ধ্যায় মিরপুর ডিওএইচএস-এ আমার বাসায় আসেন বন্ধু লেফটেন্যান্ট কর্নেল যায়িদ আবদুল্লাহ। বাইরে ঘুরতে বের হওয়ার জন্য অনেক চাপাচাপি করেন তিনি। পরে আমরা ঘুরতে বের হই। দুই ঘণ্টা ঘোরাঘুরি শেষে একই এলাকায় মেজর মহসিনের বাসায় যাই।

 সেখান থেকে রাত ১০টায় বের হই। আমার পেছনে ছিলেন যায়িদ। পকেট গেটের দিকে আসতেই ৮-১০ জন লোকের উপস্থিতি লক্ষ করি। রাতে এত লোকের উপস্থিতি অস্বাভাবিক ছিল। একপর্যায়ে তারা আমার দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। তখন পেছনে ফিরতেই দেখি আমার বন্ধু যায়িদ নেই।

তিনি বলেন, সামনেই আমার শ্যালিকার বাসা ছিল। তখন ওই বাসার কেয়ারটেকার সেকান্দারকে ডেকে আনি। আর আমার লাইসেন্স করা অস্ত্র দেখিয়ে ওই লোকদের হাত উঁচু করতে বলি। তাদের একসঙ্গে জড়ো হতে বলে সামনে থাকা একটি মাইক্রোবাসের দিকে নেওয়ার চেষ্ট করি। ওই সময় আরও চারটি মাইক্রো ঢোকে। ঘটনা আমি একা সামলাতে না পেরে দ্বিতীয় কেয়ারটেকার মুক্তারকে ডাকি।

 একপর্যায়ে তাকে মাইক্রোবাসের ছবি তুলতে বলি। ছবি তুলতে গেলে মুক্তারকে শকবাটনে আঘাত করে মাইক্রোবাসের ভেতরে নিয়ে যায় তারা। ওই সময় পেছনে থাকা গাড়ির লোকজন এসে আমার কোমরে আঘাত করে। একই সঙ্গে ৫-৭ জন ঝাপটে ধরেন। তখন তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি চলতে থাকে। কিছুক্ষণ পর পেছন থেকে আরেকটি মাইক্রোবাস এসে আমাকে জোর করে তুলে ফেলে।

বিষয় : গ্রেপ্তার সেনা কর্মকর্তা গুমের মামলা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


সেনানিবাসেই গ্রেপ্তার ও গুমকক্ষের শিকার সাবেক সেনা কর্মকর্তা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

হাসিনার শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি দিয়েছেন শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসিনুর রহমান। 

 (২৫ জানুয়ারি) ছিল দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ। জবানবন্দিতে মো. হাসিনুর রহমান জানান, ময়মনসিংহ সেনানিবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাকে গুম করে রাখা হয়। হরকাতুল জিহাদ নামক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথিত অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। এরপর দেড় বছর কাটাতে হয় আয়নাঘরে। সেই অন্ধকার আয়নাঘরের বিছানা আর দেওয়াল ছিল রক্তমাখা। এমনকি দেওয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা ছিল মোবাইল নম্বর। 

দ্বিতীয় সাক্ষী হিসাবে হাসিনুর রহমানের জবানবন্দি রেকর্ড করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। বাকি সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জবানবন্দির শুরুতে গুমের বর্ণনা দেন হাসিনুর রহমান। ২০১১ সালের ৯ জুলাই ময়মনসিংহ সেনানিবাসে কর্মরত অবস্থায় তাকে গুম করা হয়। ৪৩ দিন গুম থাকার পর সেনা আদালতে তাকে চার বছরের সাজা দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ছিল বলে জানান তিনি। 

আরো পড়ুন , নতুন অধ্যাদেশ জুলাই যোদ্ধাদের দেওয়া হলো আইনি সুরক্ষা

হাসিনুর রহমান জানান, তিনি দ্বিতীয় দফায় গুম হন ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট। মুক্তি পান ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফায় গুমের দিন সন্ধ্যায় মিরপুর ডিওএইচএস-এ আমার বাসায় আসেন বন্ধু লেফটেন্যান্ট কর্নেল যায়িদ আবদুল্লাহ। বাইরে ঘুরতে বের হওয়ার জন্য অনেক চাপাচাপি করেন তিনি। পরে আমরা ঘুরতে বের হই। দুই ঘণ্টা ঘোরাঘুরি শেষে একই এলাকায় মেজর মহসিনের বাসায় যাই।

 সেখান থেকে রাত ১০টায় বের হই। আমার পেছনে ছিলেন যায়িদ। পকেট গেটের দিকে আসতেই ৮-১০ জন লোকের উপস্থিতি লক্ষ করি। রাতে এত লোকের উপস্থিতি অস্বাভাবিক ছিল। একপর্যায়ে তারা আমার দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। তখন পেছনে ফিরতেই দেখি আমার বন্ধু যায়িদ নেই।

তিনি বলেন, সামনেই আমার শ্যালিকার বাসা ছিল। তখন ওই বাসার কেয়ারটেকার সেকান্দারকে ডেকে আনি। আর আমার লাইসেন্স করা অস্ত্র দেখিয়ে ওই লোকদের হাত উঁচু করতে বলি। তাদের একসঙ্গে জড়ো হতে বলে সামনে থাকা একটি মাইক্রোবাসের দিকে নেওয়ার চেষ্ট করি। ওই সময় আরও চারটি মাইক্রো ঢোকে। ঘটনা আমি একা সামলাতে না পেরে দ্বিতীয় কেয়ারটেকার মুক্তারকে ডাকি।

 একপর্যায়ে তাকে মাইক্রোবাসের ছবি তুলতে বলি। ছবি তুলতে গেলে মুক্তারকে শকবাটনে আঘাত করে মাইক্রোবাসের ভেতরে নিয়ে যায় তারা। ওই সময় পেছনে থাকা গাড়ির লোকজন এসে আমার কোমরে আঘাত করে। একই সঙ্গে ৫-৭ জন ঝাপটে ধরেন। তখন তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি চলতে থাকে। কিছুক্ষণ পর পেছন থেকে আরেকটি মাইক্রোবাস এসে আমাকে জোর করে তুলে ফেলে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত