দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার পরিবারের আত্মার ও আবেগের সম্পর্ক: তারেক রহমান

চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার পরিবারের আত্মার ও আবেগের সম্পর্ক: তারেক রহমান
চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার পরিবারের আত্মার ও আবেগের সম্পর্ক: তারেক রহমান

চট্টগ্রামের সঙ্গে নিজের ও পরিবারের আত্মিক ও আবেগী সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই বন্দরনগরী শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবাহী জনপদ। এখান থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে এই চট্টগ্রামেই তিনি শাহাদাতবরণ করেন। একইসঙ্গে এই মাটিতেই বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। 

গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও তার পরিবারের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং আবেগ ও আত্মার সম্পর্ক। এই শহর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতা ছিল জাতির অস্তিত্বের সংগ্রাম, আর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি বাস্তব পরিবর্তন চায়, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হবে।

বিরোধী দল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনা করলেই মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হয় না। কেবল বক্তব্য নয়, প্রয়োজন বাস্তব কাজ। বিএনপি যতবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, ততবার জনগণের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, উৎপাদন না বাড়ালে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে সরকারি সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা পাবে। চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নগরের খাল ও নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় তিনি জনসাধারণকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন, শিবচরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের ব্যস্ত প্রচারণা

চট্টগ্রামে শিল্পায়নের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির শাসনামলেই একাধিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আরও নতুন ইপিজেড স্থাপন করা হবে এবং চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে। নিরাপত্তা ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বিএনপি শাসনামলে দলের কেউ অন্যায় করলেও ছাড় দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতেও সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমনে দৃঢ় ভূমিকা রেখেছিলেন, ভবিষ্যতেও দুর্নীতিবাজদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

শেষে তারেক রহমান ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিন। ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে, ফজরের নামাজ আদায় করে কেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়ান। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। আবারও সেই অধিকার হরণ করার ষড়যন্ত্র চলছে। তাই দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় এবার ধানের শীষেই ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই।

বিষয় : চট্টগ্রাম তারেক রহমান

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার পরিবারের আত্মার ও আবেগের সম্পর্ক: তারেক রহমান

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের সঙ্গে নিজের ও পরিবারের আত্মিক ও আবেগী সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই বন্দরনগরী শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবাহী জনপদ। এখান থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে এই চট্টগ্রামেই তিনি শাহাদাতবরণ করেন। একইসঙ্গে এই মাটিতেই বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। 

গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও তার পরিবারের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং আবেগ ও আত্মার সম্পর্ক। এই শহর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতা ছিল জাতির অস্তিত্বের সংগ্রাম, আর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি বাস্তব পরিবর্তন চায়, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হবে।

বিরোধী দল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনা করলেই মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হয় না। কেবল বক্তব্য নয়, প্রয়োজন বাস্তব কাজ। বিএনপি যতবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, ততবার জনগণের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, উৎপাদন না বাড়ালে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে সরকারি সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা পাবে। চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নগরের খাল ও নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় তিনি জনসাধারণকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন, শিবচরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের ব্যস্ত প্রচারণা

চট্টগ্রামে শিল্পায়নের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির শাসনামলেই একাধিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আরও নতুন ইপিজেড স্থাপন করা হবে এবং চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে। নিরাপত্তা ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বিএনপি শাসনামলে দলের কেউ অন্যায় করলেও ছাড় দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতেও সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমনে দৃঢ় ভূমিকা রেখেছিলেন, ভবিষ্যতেও দুর্নীতিবাজদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

শেষে তারেক রহমান ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিন। ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে, ফজরের নামাজ আদায় করে কেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়ান। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। আবারও সেই অধিকার হরণ করার ষড়যন্ত্র চলছে। তাই দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় এবার ধানের শীষেই ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত