কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র মজমপুর গেট থেকে ঝিনাইদহ ও ঈশ্বরদীমুখী সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার আইল্যান্ডজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে রং-বেরঙের ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ। ফুলে ফুলে ছেয়ে যাওয়া এই সড়ক বদলে দিয়েছে পুরো জেলা শহরের চিত্র। মনোরম এই দৃশ্য নগরবাসীর পাশাপাশি আগত পর্যটকদের মনেও প্রশান্তি জোগাচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্লিন কুষ্টিয়া-গ্রিন কুষ্টিয়া (জিকে-কেকে)-এর উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই কর্মসূচি ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বমহলে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কুষ্টিয়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রবেশদ্বার বটতৈল মোড় ও ত্রিমোহনী থেকে মজমপুর গেট পর্যন্ত দীর্ঘ এই সড়কের আইল্যান্ডে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও ফুল রোপণ করা হয়েছে। গাছের ফাঁকে ফাঁকে বেড়ে ওঠা ঘাস শহরের পরিবেশকে আরও সবুজ করে তুলেছে। শহরে নতুন আগত মানুষজন গাড়ির জানালা খুলে এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৌন্দর্যবর্ধক এসব বৃক্ষ জিকে-কেকের নিজস্ব অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে রোপণ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করছে কুষ্টিয়া পৌরসভা। প্রয়োজনে পৌরসভার গাড়ির মাধ্যমে গাছের গোড়ায় পানি সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিন সকালেই নিয়ম করে স্বেচ্ছাসেবীরা গাছের পরিচর্যায় অংশ নেন। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে সংগঠনের সদস্যরা গাছের পরিচর্যার পাশাপাশি সড়কের পাশে ছড়িয়ে থাকা পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করেন। এর ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। অনেক দোকানদারও এখন রাস্তায় পলিথিন ফেলার ক্ষেত্রে সতর্ক হচ্ছেন। এই সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, “পরিবেশ নিয়ে যে যেভাবেই কাজ করুক না কেন, সেটি অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। এতদিন রোড ডিভাইডার থাকলেও এমন পরিকল্পিতভাবে সৌন্দর্য বাড়ানো হয়নি। উদ্যোগটি খুব ভালো।
আরও পড়ুন, বগুড়ায় মোটরসাইকেলে মিনিবাসের ধাক্কায় জামায়াত কর্মী নিহত
তবে আরও বিজ্ঞানসম্মতভাবে করলে এটি দীর্ঘমেয়াদে আরও টেকসই হবে। জিকে-কেকের উদ্যোক্তা ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার দাবি করেন, গাছ রোপণে শতভাগ প্রকৌশল বিদ্যার সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কোনো গাছ এলোমেলোভাবে লাগাইনি। গার্ডেন ইঞ্জিনিয়ারিং বাংলাদেশ আমাদের কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেছে। কোন গাছ কত বছরে কত উচ্চতা হবে—সব পরিকল্পনা অনুযায়ী রোপণ ও পরিচর্যা করা হচ্ছে। এতে সড়কে কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে না। তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগের স্বপ্ন তার অনেক দিনের। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কাজ শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের মার্চে সড়কের পুরো ৮ কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ সম্পন্ন হয়। বর্তমানে প্রায় ৯ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
আরও পড়ুন, মধ্যনগরে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল
গাছ রোপণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জাকির সরকার বলেন, “আইল্যান্ডে ধারাবাহিকভাবে আটটি বেড তৈরি করা হয়েছে। সাতটি বেডে সৌন্দর্যবর্ধক ফুলের গাছ এবং একটি বেডে ফলজ গাছ লাগানো হয়েছে, যাতে পাখিরা এখান থেকেই খাবার সংগ্রহ করতে পারে। কুষ্টিয়া পৌরসভার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে পৌরসভার প্রশাসক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, “গাছগুলো যে বা যারাই লাগাক, এখন এগুলো সবার সম্পদ। তাই এগুলো রক্ষায় পৌরসভাও তৎপর। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দেওয়া হচ্ছে এবং সার্বিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ ও পৌরসভার সমন্বয়ে কুষ্টিয়া শহরের এই সড়ক এখন পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন নগর উন্নয়নের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র মজমপুর গেট থেকে ঝিনাইদহ ও ঈশ্বরদীমুখী সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার আইল্যান্ডজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে রং-বেরঙের ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ। ফুলে ফুলে ছেয়ে যাওয়া এই সড়ক বদলে দিয়েছে পুরো জেলা শহরের চিত্র। মনোরম এই দৃশ্য নগরবাসীর পাশাপাশি আগত পর্যটকদের মনেও প্রশান্তি জোগাচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্লিন কুষ্টিয়া-গ্রিন কুষ্টিয়া (জিকে-কেকে)-এর উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই কর্মসূচি ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বমহলে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কুষ্টিয়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রবেশদ্বার বটতৈল মোড় ও ত্রিমোহনী থেকে মজমপুর গেট পর্যন্ত দীর্ঘ এই সড়কের আইল্যান্ডে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও ফুল রোপণ করা হয়েছে। গাছের ফাঁকে ফাঁকে বেড়ে ওঠা ঘাস শহরের পরিবেশকে আরও সবুজ করে তুলেছে। শহরে নতুন আগত মানুষজন গাড়ির জানালা খুলে এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৌন্দর্যবর্ধক এসব বৃক্ষ জিকে-কেকের নিজস্ব অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে রোপণ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করছে কুষ্টিয়া পৌরসভা। প্রয়োজনে পৌরসভার গাড়ির মাধ্যমে গাছের গোড়ায় পানি সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিন সকালেই নিয়ম করে স্বেচ্ছাসেবীরা গাছের পরিচর্যায় অংশ নেন। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে সংগঠনের সদস্যরা গাছের পরিচর্যার পাশাপাশি সড়কের পাশে ছড়িয়ে থাকা পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করেন। এর ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। অনেক দোকানদারও এখন রাস্তায় পলিথিন ফেলার ক্ষেত্রে সতর্ক হচ্ছেন। এই সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, “পরিবেশ নিয়ে যে যেভাবেই কাজ করুক না কেন, সেটি অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। এতদিন রোড ডিভাইডার থাকলেও এমন পরিকল্পিতভাবে সৌন্দর্য বাড়ানো হয়নি। উদ্যোগটি খুব ভালো।
আরও পড়ুন, বগুড়ায় মোটরসাইকেলে মিনিবাসের ধাক্কায় জামায়াত কর্মী নিহত
তবে আরও বিজ্ঞানসম্মতভাবে করলে এটি দীর্ঘমেয়াদে আরও টেকসই হবে। জিকে-কেকের উদ্যোক্তা ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার দাবি করেন, গাছ রোপণে শতভাগ প্রকৌশল বিদ্যার সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কোনো গাছ এলোমেলোভাবে লাগাইনি। গার্ডেন ইঞ্জিনিয়ারিং বাংলাদেশ আমাদের কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেছে। কোন গাছ কত বছরে কত উচ্চতা হবে—সব পরিকল্পনা অনুযায়ী রোপণ ও পরিচর্যা করা হচ্ছে। এতে সড়কে কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে না। তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগের স্বপ্ন তার অনেক দিনের। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কাজ শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের মার্চে সড়কের পুরো ৮ কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ সম্পন্ন হয়। বর্তমানে প্রায় ৯ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
আরও পড়ুন, মধ্যনগরে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল
গাছ রোপণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জাকির সরকার বলেন, “আইল্যান্ডে ধারাবাহিকভাবে আটটি বেড তৈরি করা হয়েছে। সাতটি বেডে সৌন্দর্যবর্ধক ফুলের গাছ এবং একটি বেডে ফলজ গাছ লাগানো হয়েছে, যাতে পাখিরা এখান থেকেই খাবার সংগ্রহ করতে পারে। কুষ্টিয়া পৌরসভার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে পৌরসভার প্রশাসক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, “গাছগুলো যে বা যারাই লাগাক, এখন এগুলো সবার সম্পদ। তাই এগুলো রক্ষায় পৌরসভাও তৎপর। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দেওয়া হচ্ছে এবং সার্বিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ ও পৌরসভার সমন্বয়ে কুষ্টিয়া শহরের এই সড়ক এখন পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন নগর উন্নয়নের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন