চট্টগ্রাম বন্দরের মতো দেশের সর্ববৃহৎ ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রিত স্থাপনায় জীবন রক্ষাকারী বন্দরের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে সরকারি তেল পাচারের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘চট্টগ্রাম বন্দরের অ্যাম্বুলেন্সে তেল পাচার’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর তৎপর হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার রায়হান ও পাম্প স্টাফ কামালকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বন্দর বিধি অনুযায়ী লিখিত কৈফিয়ত (ক ফরম) তলব করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি ও তাৎক্ষণিক দুইজনকে কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে এবং তাদের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মতো একটি উচ্চ নিরাপত্তা-ঘেরা স্থাপনায় প্রতিটি গাড়ির চলাচল গেট লগবুক, সিসিটিভি নজরদারি থাকলেও দিনের পর দিন তেলভর্তি অ্যাম্বুলেন্স কীভাবে প্রধান গেট অতিক্রম করে পাচার হয়েছে এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বন্দরজুড়ে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ঘটনা কেবল দায়িত্বহীনতা নয় এটি তদারকি ব্যবস্থার মারাত্মক ব্যর্থতার নগ্ন উদাহরণ। বন্দর সূত্রগুলো বলছে, পেট্রোল পাম্পের দৈনিক সরবরাহ রেজিস্টার, অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের হিসাব ও গেটের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই তেল পাচার সিন্ডিকেটের পুরো চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে। একটি নির্দিষ্ট ড্রাইভার বা পাম্প স্টাফ নয় বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন, লক্ষ্মীপুর আপন ভাইকে পিটিয়ে হত্যা তিন ভাই আটক
অভিজ্ঞ মহলের মতে, এ ধরনের নিয়মিত ও সংগঠিত তেল পাচার কোনো একক ড্রাইভারের পক্ষে সম্ভব নয়। রায়হান ও কামাল কেবল দৃশ্যমান অংশ। তাদের আড়ালে আরও প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা প্রবল। এই সিন্ডিকেট প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কিছু অসাধু ব্যক্তির ‘অঘোষিত ছায়া’ পেয়েই এতদিন নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে গেছে। প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার রায়হানের স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ঘটনাস্থলে সিন্ডিকেট সদস্যদের উপস্থিতির ভিডিও ফুটেজ এবং তাদের কথোপকথনের একাধিক অডিও - ভিডিও অংশ প্রয়োজনে তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় শুধু কর্মস্থল পরিবর্তন বা কৈফিয়ত তলবই যথেষ্ট নয় এমন মত দিচ্ছেন সচেতন মহল।তাদের মতে, উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এ ধরনের পাচার বন্ধ করা যাবে না। বন্দর সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এ ঘটনায় যদি সত্য উদঘাটনের আগেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়, তবে আরও বড় চক্র ও ভয়াবহ অপব্যবহার অন্ধকারেই থেকে যাবে।
উল্লেখ্য যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাই ইতিমধ্যেই বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য সিন্ডিকেটের সদস্যরা মরিয়া হয়ে উঠেছে এছাড়াও সূত্রের তথ্য মতে সিন্ডিকেটটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রয়োগ যেন না হয় তা করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি এম্বুলেন্সের ড্রাইভার প্রতিবেদককে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ম্যানেজ করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা চালায়।
বিষয় : চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স পাচার

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরের মতো দেশের সর্ববৃহৎ ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রিত স্থাপনায় জীবন রক্ষাকারী বন্দরের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে সরকারি তেল পাচারের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘চট্টগ্রাম বন্দরের অ্যাম্বুলেন্সে তেল পাচার’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর তৎপর হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার রায়হান ও পাম্প স্টাফ কামালকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বন্দর বিধি অনুযায়ী লিখিত কৈফিয়ত (ক ফরম) তলব করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি ও তাৎক্ষণিক দুইজনকে কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে এবং তাদের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মতো একটি উচ্চ নিরাপত্তা-ঘেরা স্থাপনায় প্রতিটি গাড়ির চলাচল গেট লগবুক, সিসিটিভি নজরদারি থাকলেও দিনের পর দিন তেলভর্তি অ্যাম্বুলেন্স কীভাবে প্রধান গেট অতিক্রম করে পাচার হয়েছে এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বন্দরজুড়ে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ঘটনা কেবল দায়িত্বহীনতা নয় এটি তদারকি ব্যবস্থার মারাত্মক ব্যর্থতার নগ্ন উদাহরণ। বন্দর সূত্রগুলো বলছে, পেট্রোল পাম্পের দৈনিক সরবরাহ রেজিস্টার, অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের হিসাব ও গেটের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই তেল পাচার সিন্ডিকেটের পুরো চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে। একটি নির্দিষ্ট ড্রাইভার বা পাম্প স্টাফ নয় বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন, লক্ষ্মীপুর আপন ভাইকে পিটিয়ে হত্যা তিন ভাই আটক
অভিজ্ঞ মহলের মতে, এ ধরনের নিয়মিত ও সংগঠিত তেল পাচার কোনো একক ড্রাইভারের পক্ষে সম্ভব নয়। রায়হান ও কামাল কেবল দৃশ্যমান অংশ। তাদের আড়ালে আরও প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা প্রবল। এই সিন্ডিকেট প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কিছু অসাধু ব্যক্তির ‘অঘোষিত ছায়া’ পেয়েই এতদিন নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে গেছে। প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার রায়হানের স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ঘটনাস্থলে সিন্ডিকেট সদস্যদের উপস্থিতির ভিডিও ফুটেজ এবং তাদের কথোপকথনের একাধিক অডিও - ভিডিও অংশ প্রয়োজনে তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় শুধু কর্মস্থল পরিবর্তন বা কৈফিয়ত তলবই যথেষ্ট নয় এমন মত দিচ্ছেন সচেতন মহল।তাদের মতে, উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এ ধরনের পাচার বন্ধ করা যাবে না। বন্দর সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এ ঘটনায় যদি সত্য উদঘাটনের আগেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়, তবে আরও বড় চক্র ও ভয়াবহ অপব্যবহার অন্ধকারেই থেকে যাবে।
উল্লেখ্য যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাই ইতিমধ্যেই বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য সিন্ডিকেটের সদস্যরা মরিয়া হয়ে উঠেছে এছাড়াও সূত্রের তথ্য মতে সিন্ডিকেটটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রয়োগ যেন না হয় তা করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি এম্বুলেন্সের ড্রাইভার প্রতিবেদককে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ম্যানেজ করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা চালায়।

আপনার মতামত লিখুন