রাজধানী ঢাকার আবাসিক এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই নানামুখী চাপের মুখে। একদিকে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অন্যদিকে বাণিজ্যিক আগ্রাসন এই দুইয়ের মাঝখানে বসবাসকারী নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবন ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এরই ধারাবাহিকতায় তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন আদাবর থানার শ্যামলী এলাকায় অবস্থিত রিং রোডসংলগ্ন কিছু আবাসিক হোটেলকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হোটেল প্যারিট ও হোটেল হানিফ নামের দুটি আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন কার্যক্রম, অনৈতিক ব্যবসা, নারী ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের দোহাই এবং গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির মতো ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা, আশপাশের ব্যবসায়ী ও একাধিক সূত্র দাবি করছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও।
শ্যামলীর রিং রোড এলাকা মূলত আবাসিক হিসেবেই পরিকল্পিত ছিল। আশপাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, পরিবারকেন্দ্রিক বাসস্থান এবং ছোট ব্যবসা রয়েছে। কিন্তু গত এক দশকে এই এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউস ও স্বল্পমেয়াদি থাকার প্রতিষ্ঠান।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, যখন আবাসিক এলাকায় পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ছাড়া হোটেল বা গেস্টহাউস গড়ে ওঠে, তখন সেটি অপরাধ, অনৈতিক কার্যক্রম ও সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ায়। অনুমোদনহীন আবাসিক হোটেল: আইনি কাঠামো উপেক্ষিত? অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত হোটেলগুলোর এসব অনুমোদনের বিষয়ে স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অনেক বছর ধরেই এসব কাগজপত্র না দেখিয়েই হোটেলগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের দোকানদারদের একাংশ অভিযোগ করেন, গভীর রাতে সন্দেহজনক যাতায়াত, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে অতিথি প্রবেশ, অস্বাভাবিক সময় হোটেলে ভিড়, নিরাপত্তাকর্মীদের অতিরিক্ত তৎপরতা। এটা হোটেল না কি অন্য কিছু তা বোঝাই যায় না। রাতে যেসব লোক আসে, তারা সাধারণ ভ্রমণকারী মনে হয় না। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন, খুনিরা এলাকায় প্রকাশ্যে তবুও অন্ধ যাত্রাবাড়ী থানা: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম
একাধিক সূত্র দাবি করেছে, কিছু আবাসিক হোটেলে মধ্যস্থতাকারী বা দালালচক্র সক্রিয় থাকে। তাদের মাধ্যমে অতিথি ব্যবস্থাপনা, কক্ষ বরাদ্দ এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও দৃশ্যমান অভিযান বা কঠোর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। কিছু হোটেল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাতে এমন দাবিও শোনা গেছে যে, ব্যবসা চালাতে হলে স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করতে হয়। তবে এই দাবি প্রমাণিত নয়।
আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের দাবি উঠলেই পুলিশের উচিত স্বচ্ছ তদন্ত করে বিষয়টি পরিষ্কার করা। রাজনৈতিক পরিচয়ের দোহাই: কে ব্যবহার করছে, কেন? অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কিছু হোটেল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা বলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন এমন অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত অপরাধ ঢাকতে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করা হলে সেটি দল ও রাষ্ট্র দুটোর জন্যই ক্ষতিকর।
এই অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা ও হয়রানির অভিযোগ। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হোটেল হানিফে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ম্যানেজার এনামুলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া, উচ্চস্বরে কথা বলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকির অভিযোগ রয়েছে। এই প্রতিবেদনের জন্য হোটেল প্যারিট ও হোটেল হানিফ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোন, সরাসরি যোগাযোগ ও বার্তা পাঠানো হলেও তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে উক্ত হোটেল প্যারিটের মালিক মধু এবং হোটেল হানিফের মালিক জামাল এরা রাজনৈতিক ও পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে বশে বেশ দাপটের সাথেই অবৈধ নারী ও মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করছেন। তাদের রয়েছে মব সৃষ্টি করার দালাল চক্র। যাতে অবৈদ হোটেল পরিচালনা করতে কোন বাধা না আসে।
নগর পরিকল্পনাবিদ, আইনজীবী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, একটি অভিযানে সমস্যার সমাধান হয় না। নিয়মিত মনিটরিং, লাইসেন্স যাচাই ও জবাবদিহি ছাড়া আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব। ৩২৪ শ্যামলীর রিং রোড এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো অভিযোগের স্তরেই রয়েছে। কিন্তু অভিযোগের ধারাবাহিকতা, পুলিশের নীরবতা, রাজনৈতিক পরিচয়ের দোহাই এবং গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির বিষয়টি প্রশাসনের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা।
আরও পড়ুন, সোনারগাঁয়ে ডাকাতি চিনে ফেলায় যুবকের কবজি কর্তন
এবিষয়ে আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিয়াউর রহমান বলেন, আদাবর থানাধীন এলাকায় অবৈধ হোটেল, গেস্টহাউস ও অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজে এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবিষয়ে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে সচেতন। কোনো আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে হোটেল বা গেস্টহাউস পরিচালনার সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো হোটেল মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় বা পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন, তবে সেটি সম্পূর্ণভাবে আইনবিরোধী। এ ধরনের অপচেষ্টা করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যে দলেরই হোক বা যত প্রভাবশালীই হোক আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান।
ওসি জিয়াউর রহমান বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ এককভাবে নয়, জনগণের সহযোগিতা নিয়েই কাজ করতে চায়। কেউ যদি অবৈধ কার্যক্রমের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়, আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি আরও জানান, “অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনো ধরনের চাপ বা হুমকিতে পুলিশ পিছপা হবে না। আদাবর থানায় অপরাধীদের কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই।
বিষয় : অনুমোদনহীন হোটেল সিন্ডিকেট

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজধানী ঢাকার আবাসিক এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই নানামুখী চাপের মুখে। একদিকে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অন্যদিকে বাণিজ্যিক আগ্রাসন এই দুইয়ের মাঝখানে বসবাসকারী নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবন ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এরই ধারাবাহিকতায় তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন আদাবর থানার শ্যামলী এলাকায় অবস্থিত রিং রোডসংলগ্ন কিছু আবাসিক হোটেলকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হোটেল প্যারিট ও হোটেল হানিফ নামের দুটি আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন কার্যক্রম, অনৈতিক ব্যবসা, নারী ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের দোহাই এবং গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির মতো ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা, আশপাশের ব্যবসায়ী ও একাধিক সূত্র দাবি করছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও।
শ্যামলীর রিং রোড এলাকা মূলত আবাসিক হিসেবেই পরিকল্পিত ছিল। আশপাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, পরিবারকেন্দ্রিক বাসস্থান এবং ছোট ব্যবসা রয়েছে। কিন্তু গত এক দশকে এই এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউস ও স্বল্পমেয়াদি থাকার প্রতিষ্ঠান।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, যখন আবাসিক এলাকায় পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ছাড়া হোটেল বা গেস্টহাউস গড়ে ওঠে, তখন সেটি অপরাধ, অনৈতিক কার্যক্রম ও সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ায়। অনুমোদনহীন আবাসিক হোটেল: আইনি কাঠামো উপেক্ষিত? অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত হোটেলগুলোর এসব অনুমোদনের বিষয়ে স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অনেক বছর ধরেই এসব কাগজপত্র না দেখিয়েই হোটেলগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের দোকানদারদের একাংশ অভিযোগ করেন, গভীর রাতে সন্দেহজনক যাতায়াত, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে অতিথি প্রবেশ, অস্বাভাবিক সময় হোটেলে ভিড়, নিরাপত্তাকর্মীদের অতিরিক্ত তৎপরতা। এটা হোটেল না কি অন্য কিছু তা বোঝাই যায় না। রাতে যেসব লোক আসে, তারা সাধারণ ভ্রমণকারী মনে হয় না। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন, খুনিরা এলাকায় প্রকাশ্যে তবুও অন্ধ যাত্রাবাড়ী থানা: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম
একাধিক সূত্র দাবি করেছে, কিছু আবাসিক হোটেলে মধ্যস্থতাকারী বা দালালচক্র সক্রিয় থাকে। তাদের মাধ্যমে অতিথি ব্যবস্থাপনা, কক্ষ বরাদ্দ এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও দৃশ্যমান অভিযান বা কঠোর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। কিছু হোটেল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাতে এমন দাবিও শোনা গেছে যে, ব্যবসা চালাতে হলে স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করতে হয়। তবে এই দাবি প্রমাণিত নয়।
আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের দাবি উঠলেই পুলিশের উচিত স্বচ্ছ তদন্ত করে বিষয়টি পরিষ্কার করা। রাজনৈতিক পরিচয়ের দোহাই: কে ব্যবহার করছে, কেন? অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কিছু হোটেল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা বলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন এমন অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত অপরাধ ঢাকতে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করা হলে সেটি দল ও রাষ্ট্র দুটোর জন্যই ক্ষতিকর।
এই অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা ও হয়রানির অভিযোগ। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হোটেল হানিফে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ম্যানেজার এনামুলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া, উচ্চস্বরে কথা বলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকির অভিযোগ রয়েছে। এই প্রতিবেদনের জন্য হোটেল প্যারিট ও হোটেল হানিফ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোন, সরাসরি যোগাযোগ ও বার্তা পাঠানো হলেও তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে উক্ত হোটেল প্যারিটের মালিক মধু এবং হোটেল হানিফের মালিক জামাল এরা রাজনৈতিক ও পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে বশে বেশ দাপটের সাথেই অবৈধ নারী ও মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করছেন। তাদের রয়েছে মব সৃষ্টি করার দালাল চক্র। যাতে অবৈদ হোটেল পরিচালনা করতে কোন বাধা না আসে।
নগর পরিকল্পনাবিদ, আইনজীবী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, একটি অভিযানে সমস্যার সমাধান হয় না। নিয়মিত মনিটরিং, লাইসেন্স যাচাই ও জবাবদিহি ছাড়া আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব। ৩২৪ শ্যামলীর রিং রোড এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো অভিযোগের স্তরেই রয়েছে। কিন্তু অভিযোগের ধারাবাহিকতা, পুলিশের নীরবতা, রাজনৈতিক পরিচয়ের দোহাই এবং গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির বিষয়টি প্রশাসনের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা।
আরও পড়ুন, সোনারগাঁয়ে ডাকাতি চিনে ফেলায় যুবকের কবজি কর্তন
এবিষয়ে আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিয়াউর রহমান বলেন, আদাবর থানাধীন এলাকায় অবৈধ হোটেল, গেস্টহাউস ও অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজে এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবিষয়ে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে সচেতন। কোনো আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে হোটেল বা গেস্টহাউস পরিচালনার সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো হোটেল মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় বা পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন, তবে সেটি সম্পূর্ণভাবে আইনবিরোধী। এ ধরনের অপচেষ্টা করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যে দলেরই হোক বা যত প্রভাবশালীই হোক আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান।
ওসি জিয়াউর রহমান বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ এককভাবে নয়, জনগণের সহযোগিতা নিয়েই কাজ করতে চায়। কেউ যদি অবৈধ কার্যক্রমের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়, আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি আরও জানান, “অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনো ধরনের চাপ বা হুমকিতে পুলিশ পিছপা হবে না। আদাবর থানায় অপরাধীদের কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই।

আপনার মতামত লিখুন