ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের এমন একটি রোগ, যার ফলে স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও দৈনন্দিন কাজ করার দক্ষতা ধীরে ধীরে কমে যায়। এর প্রভাবে সময়ের সঙ্গে মানুষ আলজাইমারস, ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া বা লুই বডি ডিমেনশিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হয়।
ডিমেনশিয়ার কোনো প্রতিকার নেই। কেবল উপসর্গ অনুসারেই এটির চিকিৎসা করা হয়।
ডিমেনশিয়ার প্রভাবকে কমিয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত করার চেষ্টা করা হয়। স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া, ভালো-মন্দের বিচার করতে না পারা, দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা হারানো—এই সবই ডিমেনশিয়ার প্রভাবে হতে পারে।
এই রোগের চিকিৎসা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়, যদি প্রাথমিক অবস্থাতেই ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু কিভাবে বুঝবেন যে আপনি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত? চলুন, জেনে নেওয়া যাক আজকের প্রতিবেদনে।
‘দ্য ল্যানসেট সাইকিয়াট্রি’র একটি নতুন গবেষণা বলছে বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে, যা দেখলে বোঝা যায় কোনো ব্যক্তির ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না। গবেষকরা প্রায় ৬ হাজার জন প্রাপ্ত বয়স্ককে ২০ বছরেরও বেশি সময় গবেষণা করেন। গবেষকরা জানান, বিশেষ করে মধ্যবয়সীদের মধ্যে বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দিলে, আগেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
কী সেই ৬ লক্ষণ
আত্মবিশ্বাসের অভাব : কোনো কাজ করতে গেলেই যদি নিজের ক্ষমতার ওপর সন্দেহ হয়, অন্য কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তবে তা স্বাভাবিক নয়।
এমনকি বারবার কারো অপমানিত হলেও সাহায্য চাইতে তার কাছেই ফিরে যান।
সমস্যার মোকাবেলা করতে অসুবিধা : দৈনন্দিন কাজ করতে গিয়েও সমস্যায় পড়েন। প্রতিদিন ফ্যানের সুই অফ করতে ভুলে যাওয়া, বাথরুমের দরজা কোন দিকে, তা ভুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেওয়াও স্বাভাবিক নয়।
অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া : লোকজনের সঙ্গে মিশতেও কুণ্ঠা বোধ হয়। অন্যদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চান।
এমনকি নিজের আপনজনের থেকেও দূরে থাকতে চান।
অকারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়া : হঠাৎ হঠাৎ উদ্বেগে ভুগলেও বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে তা যদি খুব সাধারণ কোনো বিষয় নিয়ে হয়। অথবা এমন কোনো বিষয়, যার কোনো প্রভাব তার জীবনে নেই, অথচ সেই বিষয় নিয়ে ভেবেই উদ্বেগে ভুগছেন আপনি। এটিও ডিমেনশিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
কাজের প্রতি অনীহা : কাজ করতেও বিরক্ত লাগে, অফিসে যেতেও ইচ্ছে করে না, পারিবারিক দায়িত্বও এড়িয়ে যেতে চান—এমন লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হোন। কেন এমন হচ্ছে, তার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করার চেষ্টা করুন।
কাজে মন না বসা : সবচেয়ে সমস্যা হয় কোনো কাজে মনোনিবেশ করতে। পড়াশোনা হোক বা অন্য কোনো বিষয়ে মন বসে না, বাচ্চাদের মতোই একাগ্রতার অভাব দেখা যায়।
আরো পড়ুন: মাথার পাশে ফোন রেখে ঘুমানো কি ঝুঁকিপূর্ণ? জেনে নিন বিপদ
গবেষকরা বলছেন, ৪০-৬০ বছর বয়সের মধ্যেই এমন লক্ষণ দেখা দিলে সেই ব্যক্তির ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
উদ্বিগ্ন হওয়া বা মেজাজ খারাপ হওয়া কি ডিমেনশিয়ার লক্ষণ?
বিষয়টি এতটাও সরল নয়। গবেষকদের মতে, এসব লক্ষণ ডিমেনশিয়ার রোগীদের জন্য অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। তবে এটাই শেষ কথা নয়। এই ৬ লক্ষণ যে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত, সেটাও বোঝা যায়। তাই এমন কিছু ঘটলে, চুপ করে বসে থাকা উচিত নয়। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিতে হবে। বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা মনোবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তবে মানসিক চাপ এড়িয়ে যাওয়ার মতো ভুল করবেন না।
উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার মতো সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় বাতলে দিতে পারেন মনোবিদরা। প্রয়োজনে থেরাপি নিন। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন। পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া এবং শরীরচর্চা করুন। এসবই মানসিক স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলে। সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, উপরোক্ত ছয় লক্ষণ বয়স বাড়ার সঙ্গে দেখা দিতে শুরু করতে পারে। তবে তাই বলে কেবল বার্ধক্যজনিত সমস্যা বা কাজের চাপ বলে উড়িয়ে দিলে চলবে না। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া, আপনারই কর্তব্য।
সূত্র : এই সময়
বিষয় : স্বাস্থ্য ডিমেনশিয়া স্মৃতিভ্রংশ

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের এমন একটি রোগ, যার ফলে স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও দৈনন্দিন কাজ করার দক্ষতা ধীরে ধীরে কমে যায়। এর প্রভাবে সময়ের সঙ্গে মানুষ আলজাইমারস, ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া বা লুই বডি ডিমেনশিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হয়।
ডিমেনশিয়ার কোনো প্রতিকার নেই। কেবল উপসর্গ অনুসারেই এটির চিকিৎসা করা হয়।
ডিমেনশিয়ার প্রভাবকে কমিয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত করার চেষ্টা করা হয়। স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া, ভালো-মন্দের বিচার করতে না পারা, দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা হারানো—এই সবই ডিমেনশিয়ার প্রভাবে হতে পারে।
এই রোগের চিকিৎসা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়, যদি প্রাথমিক অবস্থাতেই ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু কিভাবে বুঝবেন যে আপনি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত? চলুন, জেনে নেওয়া যাক আজকের প্রতিবেদনে।
‘দ্য ল্যানসেট সাইকিয়াট্রি’র একটি নতুন গবেষণা বলছে বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে, যা দেখলে বোঝা যায় কোনো ব্যক্তির ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না। গবেষকরা প্রায় ৬ হাজার জন প্রাপ্ত বয়স্ককে ২০ বছরেরও বেশি সময় গবেষণা করেন। গবেষকরা জানান, বিশেষ করে মধ্যবয়সীদের মধ্যে বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দিলে, আগেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
কী সেই ৬ লক্ষণ
আত্মবিশ্বাসের অভাব : কোনো কাজ করতে গেলেই যদি নিজের ক্ষমতার ওপর সন্দেহ হয়, অন্য কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তবে তা স্বাভাবিক নয়।
এমনকি বারবার কারো অপমানিত হলেও সাহায্য চাইতে তার কাছেই ফিরে যান।
সমস্যার মোকাবেলা করতে অসুবিধা : দৈনন্দিন কাজ করতে গিয়েও সমস্যায় পড়েন। প্রতিদিন ফ্যানের সুই অফ করতে ভুলে যাওয়া, বাথরুমের দরজা কোন দিকে, তা ভুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেওয়াও স্বাভাবিক নয়।
অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া : লোকজনের সঙ্গে মিশতেও কুণ্ঠা বোধ হয়। অন্যদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চান।
এমনকি নিজের আপনজনের থেকেও দূরে থাকতে চান।
অকারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়া : হঠাৎ হঠাৎ উদ্বেগে ভুগলেও বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে তা যদি খুব সাধারণ কোনো বিষয় নিয়ে হয়। অথবা এমন কোনো বিষয়, যার কোনো প্রভাব তার জীবনে নেই, অথচ সেই বিষয় নিয়ে ভেবেই উদ্বেগে ভুগছেন আপনি। এটিও ডিমেনশিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
কাজের প্রতি অনীহা : কাজ করতেও বিরক্ত লাগে, অফিসে যেতেও ইচ্ছে করে না, পারিবারিক দায়িত্বও এড়িয়ে যেতে চান—এমন লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হোন। কেন এমন হচ্ছে, তার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করার চেষ্টা করুন।
কাজে মন না বসা : সবচেয়ে সমস্যা হয় কোনো কাজে মনোনিবেশ করতে। পড়াশোনা হোক বা অন্য কোনো বিষয়ে মন বসে না, বাচ্চাদের মতোই একাগ্রতার অভাব দেখা যায়।
আরো পড়ুন: মাথার পাশে ফোন রেখে ঘুমানো কি ঝুঁকিপূর্ণ? জেনে নিন বিপদ
গবেষকরা বলছেন, ৪০-৬০ বছর বয়সের মধ্যেই এমন লক্ষণ দেখা দিলে সেই ব্যক্তির ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
উদ্বিগ্ন হওয়া বা মেজাজ খারাপ হওয়া কি ডিমেনশিয়ার লক্ষণ?
বিষয়টি এতটাও সরল নয়। গবেষকদের মতে, এসব লক্ষণ ডিমেনশিয়ার রোগীদের জন্য অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। তবে এটাই শেষ কথা নয়। এই ৬ লক্ষণ যে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত, সেটাও বোঝা যায়। তাই এমন কিছু ঘটলে, চুপ করে বসে থাকা উচিত নয়। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিতে হবে। বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা মনোবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তবে মানসিক চাপ এড়িয়ে যাওয়ার মতো ভুল করবেন না।
উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার মতো সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় বাতলে দিতে পারেন মনোবিদরা। প্রয়োজনে থেরাপি নিন। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন। পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া এবং শরীরচর্চা করুন। এসবই মানসিক স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলে। সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, উপরোক্ত ছয় লক্ষণ বয়স বাড়ার সঙ্গে দেখা দিতে শুরু করতে পারে। তবে তাই বলে কেবল বার্ধক্যজনিত সমস্যা বা কাজের চাপ বলে উড়িয়ে দিলে চলবে না। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া, আপনারই কর্তব্য।
সূত্র : এই সময়

আপনার মতামত লিখুন