দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বিচারিক নির্দেশ উপেক্ষা! শ্রীপুরে বন বিভাগের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ

বিচারিক নির্দেশ উপেক্ষা! শ্রীপুরে বন বিভাগের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ
শ্রীপুরে বন বিভাগের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ অমান্য করে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা, হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এমন অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বরমী ইউনিয়নের সাহাব উদদীন মোড়লের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এডভোকেট সাহাব উদদীন মোড়ল অভিযোগ করেন, বন বিভাগের দায়ের করা গাজীপুর আদালতের দেওয়ানী মামলা নং ১৭১/০৫ এবং দেওয়ানী আপিল মামলা নং ২০২/০৯ এর কার্যকারিতা হাইকোর্ট ডিভিশনের সিভিল রিভিশন মামলা নং ৩৬৯৮/২০২৪-এর মাধ্যমে গত ২০ আগস্ট ২০২৪ থেকে এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়, যা পরবর্তীতে আরও ছয় মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি হাইকোর্ট উক্ত সম্পত্তির বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে শ্রীপুর রেঞ্জের বিট অফিসার মোখলেছুর রহমান, সাতখামার বিটের রেঞ্জার তানভীর আহমেদসহ বন বিভাগের প্রায় ৩০ু৪০ জন কর্মকর্তা, বন প্রহরী ও শ্রমিক তিনটি রাইফেলসহ আমাদের দীর্ঘদিনের দখলীয় জমিতে জোরপূর্বক চারা রোপণের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার বসতবাড়ির আঙিনা ও আশপাশের কৃষিজমিতে জোরপূর্বক চারা লাগানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি পূর্বে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন, বান্দরবান পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আরমানকে বিশেষ সম্মাননা

সাহাব উদদীন মোড়ল আরও বলেন, স্থানীয় কিছু অসাধু লোকের সহায়তায় বন বিভাগের লোকজন নিয়মিত এসে তাদের জমিতে চাষাবাদে বাধা দিচ্ছে। তাদের নির্মিত ৪ু৫টি বসতঘর, গরু ও মুরগির খামার ভেঙে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি জানান, এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং ২০৭৩/২৫ দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে পিবিআই তদন্তাধীন। অপরদিকে বন বিভাগ তার ও তার ছেলে জাকির হোসেন মোড়লের বিরুদ্ধে একটি বন মামলা দায়ের করেছে, যাতে তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করে, বিতর্কিত জমিটি তাদের পূর্বপুরুষ আছমত আলী ১৯৪৮ সালে যথাযথভাবে জমিদারদের কাছ থেকে পত্তন গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৯ সালে ঢাকার আদালত থেকে জমিটির সম্পূর্ণ মালিকানার পক্ষে রায় লাভ করেন। তারা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করলেও বন বিভাগ বেআইনিভাবে জমিটি নিজেদের দাবি করছে। বর্তমানে আরএস রেকর্ডে বন বিভাগের নামে গেজেটভুক্ত হওয়া জমির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দেওয়ানী মামলা নং ৩৯৩/১৬ আদালতে চলমান রয়েছে, যা সাক্ষ্য পর্যায়ে আছে।

আরও পড়ুন, কালিগঞ্জে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমুলক অপবাদের প্রতিকার চেয়ে বৃদ্ধার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

ভুক্তভোগী পক্ষ আরও অভিযোগ করে, গত ৯ ডিসেম্বর বন কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, হাইকোর্টের স্ট্যাটাস-কো অমান্য করে সরকারি বনভূমি দখল, বন কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি এবং সরকারি অর্থায়নে সৃজিত বাগানের চারা কেটে বনভূমি পরিষ্কার করে কলাগাছ রোপণের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন সাহাব উদদীন মোড়ল। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার অবিলম্বে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন, বন বিভাগের হয়রানি বন্ধ এবং তাদের জান-মাল ও সম্মান রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, আমরা আইনের ব্যাক্তয় ঘটিয়ে কোন কিছু করিনি। আমরা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের আগেই বনভূমিতে চারা লাগিয়েছি।হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশের পর তারাই আদেশ অমান্য করে ওই জমিতে কলাগাছ রোপন পরেছে।তখন আমরা সরকারি বনভূমি ও সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে আমরা হুমকির মুখে পড়েছি। আমাদের জীবন নিরাপত্তা এবং বনভূমি রক্ষার স্বার্থে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় অভিযোগ করেছি।

বিষয় : সম্মেলন অভিযোগ নির্দেশ উপেক্ষা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬


বিচারিক নির্দেশ উপেক্ষা! শ্রীপুরে বন বিভাগের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ অমান্য করে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা, হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এমন অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বরমী ইউনিয়নের সাহাব উদদীন মোড়লের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এডভোকেট সাহাব উদদীন মোড়ল অভিযোগ করেন, বন বিভাগের দায়ের করা গাজীপুর আদালতের দেওয়ানী মামলা নং ১৭১/০৫ এবং দেওয়ানী আপিল মামলা নং ২০২/০৯ এর কার্যকারিতা হাইকোর্ট ডিভিশনের সিভিল রিভিশন মামলা নং ৩৬৯৮/২০২৪-এর মাধ্যমে গত ২০ আগস্ট ২০২৪ থেকে এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়, যা পরবর্তীতে আরও ছয় মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি হাইকোর্ট উক্ত সম্পত্তির বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে শ্রীপুর রেঞ্জের বিট অফিসার মোখলেছুর রহমান, সাতখামার বিটের রেঞ্জার তানভীর আহমেদসহ বন বিভাগের প্রায় ৩০ু৪০ জন কর্মকর্তা, বন প্রহরী ও শ্রমিক তিনটি রাইফেলসহ আমাদের দীর্ঘদিনের দখলীয় জমিতে জোরপূর্বক চারা রোপণের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার বসতবাড়ির আঙিনা ও আশপাশের কৃষিজমিতে জোরপূর্বক চারা লাগানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি পূর্বে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন, বান্দরবান পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আরমানকে বিশেষ সম্মাননা

সাহাব উদদীন মোড়ল আরও বলেন, স্থানীয় কিছু অসাধু লোকের সহায়তায় বন বিভাগের লোকজন নিয়মিত এসে তাদের জমিতে চাষাবাদে বাধা দিচ্ছে। তাদের নির্মিত ৪ু৫টি বসতঘর, গরু ও মুরগির খামার ভেঙে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি জানান, এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং ২০৭৩/২৫ দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে পিবিআই তদন্তাধীন। অপরদিকে বন বিভাগ তার ও তার ছেলে জাকির হোসেন মোড়লের বিরুদ্ধে একটি বন মামলা দায়ের করেছে, যাতে তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করে, বিতর্কিত জমিটি তাদের পূর্বপুরুষ আছমত আলী ১৯৪৮ সালে যথাযথভাবে জমিদারদের কাছ থেকে পত্তন গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৯ সালে ঢাকার আদালত থেকে জমিটির সম্পূর্ণ মালিকানার পক্ষে রায় লাভ করেন। তারা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করলেও বন বিভাগ বেআইনিভাবে জমিটি নিজেদের দাবি করছে। বর্তমানে আরএস রেকর্ডে বন বিভাগের নামে গেজেটভুক্ত হওয়া জমির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দেওয়ানী মামলা নং ৩৯৩/১৬ আদালতে চলমান রয়েছে, যা সাক্ষ্য পর্যায়ে আছে।

আরও পড়ুন, কালিগঞ্জে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমুলক অপবাদের প্রতিকার চেয়ে বৃদ্ধার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

ভুক্তভোগী পক্ষ আরও অভিযোগ করে, গত ৯ ডিসেম্বর বন কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, হাইকোর্টের স্ট্যাটাস-কো অমান্য করে সরকারি বনভূমি দখল, বন কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি এবং সরকারি অর্থায়নে সৃজিত বাগানের চারা কেটে বনভূমি পরিষ্কার করে কলাগাছ রোপণের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন সাহাব উদদীন মোড়ল। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার অবিলম্বে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন, বন বিভাগের হয়রানি বন্ধ এবং তাদের জান-মাল ও সম্মান রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, আমরা আইনের ব্যাক্তয় ঘটিয়ে কোন কিছু করিনি। আমরা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের আগেই বনভূমিতে চারা লাগিয়েছি।হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশের পর তারাই আদেশ অমান্য করে ওই জমিতে কলাগাছ রোপন পরেছে।তখন আমরা সরকারি বনভূমি ও সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে আমরা হুমকির মুখে পড়েছি। আমাদের জীবন নিরাপত্তা এবং বনভূমি রক্ষার স্বার্থে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় অভিযোগ করেছি।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত