দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ফুলবাড়ীতে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার অভিযোগ, আহত ১০

ফুলবাড়ীতে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার অভিযোগ, আহত ১০

মাদারগঞ্জে বিএসটিআই অনুমোদনহীন কেমিক্যালযুক্ত শিশুখাদ্যে বাজার সয়লাব: ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

মাদারগঞ্জে বিএসটিআই অনুমোদনহীন কেমিক্যালযুক্ত শিশুখাদ্যে বাজার সয়লাব: ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

চকরিয়ায় অসহায়ের  পাশে -  জননেতা  আব্দুল্লাহ আল ফারুক

চকরিয়ায় অসহায়ের পাশে - জননেতা আব্দুল্লাহ আল ফারুক

সিরাজগঞ্জে শতবর্ষী কড়ই গাছের ঝুঁকিপূর্ণ শুকনো ডাল অপসারণ, স্বস্তি পথচারীদের

সিরাজগঞ্জে শতবর্ষী কড়ই গাছের ঝুঁকিপূর্ণ শুকনো ডাল অপসারণ, স্বস্তি পথচারীদের

বিশেষ অভিযানে অস্ত্র মামলার আসামিসহ ৪ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ

বিশেষ অভিযানে অস্ত্র মামলার আসামিসহ ৪ জন গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ

‘অসময়ের বন্ধু’র উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, মেধাবীদের হাতে সম্মাননা

‘অসময়ের বন্ধু’র উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, মেধাবীদের হাতে সম্মাননা

মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসারে দুইটি পরিবারে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেন - এমপি খোকন  তালুকদার

মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসারে দুইটি পরিবারে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেন - এমপি খোকন তালুকদার

মৌলভীবাজার থেকে সিলেটের পথে এনসিপি নেতারা, হামলার বিচার ও নিরাপত্তার দাবি

মৌলভীবাজার থেকে সিলেটের পথে এনসিপি নেতারা, হামলার বিচার ও নিরাপত্তার দাবি

মনিরামপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পান চাষ

সম্ভাবনার সবুজ স্বপ্ন, চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

সম্ভাবনার সবুজ স্বপ্ন, চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি
সম্ভাবনার সবুজ স্বপ্ন, চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

পতিত জমি কিংবা ছায়াঘেরা নিরিবিলি স্থান সঠিক যত্ন আর শ্রম দিলেই সোনালি ফসল হয়ে উঠছে পান। যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে বাণিজ্যিক পান চাষ। তুলনামূলক কম জমিতে, সীমিত খরচে দীর্ঘমেয়াদি এই ফসল থেকে ভালো লাভ পাওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই কমবেশি পান চাষ হলেও খানপুর, ঢাকুরিয়া, মশ্বিমনগর, খেদাপাড়া, ভোজগাতীসহ বিভিন্ন গ্রামে পান চাষের আধিক্য বেশি। এখানকার উৎপাদিত পান সরবরাহ হচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে করছে আরও চাঙ্গা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পান চাষ হলেও এই ফসলটি এখনও কাঙ্ক্ষিত পরিচিতি পায়নি। চাষিদের অভিযোগ, পান চাষ সম্প্রসারণে সরকারি উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। রোগবালাই, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও আধুনিক পরামর্শের অভাবেও ভুগছেন তারা।

আরও পড়ুন, মাদারীপুরে দুর্বৃত্তদের দেয়া পেট্টোলের আগুনে পুড়লো বাবুল আকনের ঠিকাদারি মালামাল

মনিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ঘঘুদহ, ফেদাইপুর, ভরতপুর, ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের সুবলকাটি, তারুয়াপাড়া, শ্রীপুর, মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা, চাকলা, নোয়ালি, হাজরাকাটিসহ বিভিন্ন গ্রামে গেলে চোখে পড়ে সারি সারি পানের বরজ। সবুজ পাতার সমারোহ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, একই সঙ্গে শত শত পরিবারের জীবিকাও নিশ্চিত করছে। মনিরামপুর পৌরসভা বাজারের পান ব্যবসায়ী ইন্দ্রজিৎ দাস বলেন, এখানকার পানের চাহিদা ভালো। প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার ভোরে বিভিন্ন জেলার পাইকাররা বাজারে আসে। বর্তমানে এক পোন (স্থানীয় হিসেবে ৮০টি পান) ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খানপুর ইউনিয়নের পান চাষি সুবোধ দাস বলেন,আমাদের পূর্বপুরুষের পেশাই পান চাষ। তিন বিঘা জমিতে তিনটি বরজ রয়েছে। এই বরজই আমার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। আগে বছরে দুই থেকে তিন লাখ টাকা লাভ হতো। এখন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ কিছুটা কমেছে। তিনি আরও বলেন, পানের নানা রোগ দেখা দেয়। সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়ায় অনেক সময় কার্যকর ওষুধ দিতে পারি না। কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ খুব প্রয়োজন, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের তেমন পাওয়া যায় না।

আরও পড়ুন, নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার নিজের কর্মদক্ষতায় আলোচিত

ভরতপুর গ্রামের চাষি সুলতান আলী জানান, এ এলাকায় মূলত দুই ধরনের পান চাষ হয়—মিষ্টি পান ও সাঁচি পান। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ মিষ্টি পান। এটি বেশি লাভজনক এবং জনপ্রিয়। তবে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো তেমন কেউ নেই। কৃষক শিমুল হোসেন বলেন, পান চাষের সম্ভাবনা অনেক, কিন্তু বরজ তৈরি করতে শুরুতেই বড় অঙ্কের খরচ লাগে। সরকারি সহায়তা পেলে নতুন অনেক চাষি এই ফসলে আসতে পারত। এতে উৎপাদন বাড়বে, আমরাও আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হব।

মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বিথী বলেন, মনিরামপুর কৃষি প্রধান এলাকা। এখানকার মাটি ও জলবায়ু পান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। উপজেলায় অন্তত ৫০টির বেশি গ্রামে পান চাষ হচ্ছে। এটি একটি সম্ভাবনাময় ফসল। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা, পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ কোনো কাজ করছে না—এই অভিযোগ সঠিক নয়। মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের কৃষি শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নহার রঞ্জন হালদার বলেন , আধুনিক প্রযুক্তি, রোগ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার করা গেলে পান চাষ হতে পারে মনিরামপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি।

বিষয় : অর্থনীতি গ্রামীণ মনিরামপুর পান চাষ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


সম্ভাবনার সবুজ স্বপ্ন, চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

পতিত জমি কিংবা ছায়াঘেরা নিরিবিলি স্থান সঠিক যত্ন আর শ্রম দিলেই সোনালি ফসল হয়ে উঠছে পান। যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে বাণিজ্যিক পান চাষ। তুলনামূলক কম জমিতে, সীমিত খরচে দীর্ঘমেয়াদি এই ফসল থেকে ভালো লাভ পাওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই কমবেশি পান চাষ হলেও খানপুর, ঢাকুরিয়া, মশ্বিমনগর, খেদাপাড়া, ভোজগাতীসহ বিভিন্ন গ্রামে পান চাষের আধিক্য বেশি। এখানকার উৎপাদিত পান সরবরাহ হচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে করছে আরও চাঙ্গা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পান চাষ হলেও এই ফসলটি এখনও কাঙ্ক্ষিত পরিচিতি পায়নি। চাষিদের অভিযোগ, পান চাষ সম্প্রসারণে সরকারি উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। রোগবালাই, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও আধুনিক পরামর্শের অভাবেও ভুগছেন তারা।

আরও পড়ুন, মাদারীপুরে দুর্বৃত্তদের দেয়া পেট্টোলের আগুনে পুড়লো বাবুল আকনের ঠিকাদারি মালামাল

মনিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ঘঘুদহ, ফেদাইপুর, ভরতপুর, ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের সুবলকাটি, তারুয়াপাড়া, শ্রীপুর, মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা, চাকলা, নোয়ালি, হাজরাকাটিসহ বিভিন্ন গ্রামে গেলে চোখে পড়ে সারি সারি পানের বরজ। সবুজ পাতার সমারোহ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, একই সঙ্গে শত শত পরিবারের জীবিকাও নিশ্চিত করছে। মনিরামপুর পৌরসভা বাজারের পান ব্যবসায়ী ইন্দ্রজিৎ দাস বলেন, এখানকার পানের চাহিদা ভালো। প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার ভোরে বিভিন্ন জেলার পাইকাররা বাজারে আসে। বর্তমানে এক পোন (স্থানীয় হিসেবে ৮০টি পান) ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খানপুর ইউনিয়নের পান চাষি সুবোধ দাস বলেন,আমাদের পূর্বপুরুষের পেশাই পান চাষ। তিন বিঘা জমিতে তিনটি বরজ রয়েছে। এই বরজই আমার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। আগে বছরে দুই থেকে তিন লাখ টাকা লাভ হতো। এখন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ কিছুটা কমেছে। তিনি আরও বলেন, পানের নানা রোগ দেখা দেয়। সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়ায় অনেক সময় কার্যকর ওষুধ দিতে পারি না। কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ খুব প্রয়োজন, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের তেমন পাওয়া যায় না।

আরও পড়ুন, নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার নিজের কর্মদক্ষতায় আলোচিত

ভরতপুর গ্রামের চাষি সুলতান আলী জানান, এ এলাকায় মূলত দুই ধরনের পান চাষ হয়—মিষ্টি পান ও সাঁচি পান। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ মিষ্টি পান। এটি বেশি লাভজনক এবং জনপ্রিয়। তবে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো তেমন কেউ নেই। কৃষক শিমুল হোসেন বলেন, পান চাষের সম্ভাবনা অনেক, কিন্তু বরজ তৈরি করতে শুরুতেই বড় অঙ্কের খরচ লাগে। সরকারি সহায়তা পেলে নতুন অনেক চাষি এই ফসলে আসতে পারত। এতে উৎপাদন বাড়বে, আমরাও আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হব।

মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বিথী বলেন, মনিরামপুর কৃষি প্রধান এলাকা। এখানকার মাটি ও জলবায়ু পান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। উপজেলায় অন্তত ৫০টির বেশি গ্রামে পান চাষ হচ্ছে। এটি একটি সম্ভাবনাময় ফসল। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা, পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ কোনো কাজ করছে না—এই অভিযোগ সঠিক নয়। মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের কৃষি শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নহার রঞ্জন হালদার বলেন , আধুনিক প্রযুক্তি, রোগ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার করা গেলে পান চাষ হতে পারে মনিরামপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত