গাজীপুর জেলা পরিষদে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি গাজীপুর থেকে বদলি হয়ে শরীয়তপুরে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।আরও পড়ুন, মিঠাপুকুরে নকলকাণ্ড: ১৫ দিনেও মেলেনি দৃশ্যমান ব্যবস্থা, সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞাঅভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার কুমুন এলাকার বাসিন্দা নাজিম হোসেন গাজীপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার পূর্ব পরিচিত সোনিয়া আক্তার (৪০), জেলা পরিষদের পিয়ন, পিতা সাহেদ আলী, কামারিয়া, জয়দেবপুর, গাজীপুরের বাসিন্দা। প্রায় চার বছর আগে তিনি সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে টাকা নেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে সদর থানাধীন পৌর মার্কেটের একটি মোবাইল সার্ভিসিং দোকানে বসে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও চাকরির কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি এবং টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি।অভিযোগে আরও বলা হয়, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। এমনকি প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে গাজীপুর জেলা পরিষদ গেইট এলাকায় টাকা ফেরতের কথা বললে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।আরও পড়ুন, বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত আলালহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীএছাড়াও গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেলে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে টাকা ফেরত চাইলে পুনরায় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে ভুক্তভোগী নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আজ ১৩ মে ২০২৬ তারিখে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোনিয়া বেগমের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।আরও পড়ুন, গঙ্গাচড়ায় আন্তঃস্কুল সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিতস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির আরও কয়েকটি অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। বর্তমানে তিনি গাজীপুর থেকে বদলি হয়ে শরীয়তপুরে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।