দেশে দ্রুত বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের পরিধি। বর্তমানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট হিসাবের প্রায় অর্ধেকই নারীদের। আর ৮৫ শতাংশ হিসাব রয়েছে গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের নামে।বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট হিসাব দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ২৪ হাজার ২৫৬টি। এর মধ্যে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৯১৮টি, অর্থাৎ প্রায় ৫০ শতাংশ হিসাব নারীদের।অন্যদিকে, গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের নামে রয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৭৫৫টি হিসাব। এক প্রান্তিকে নারী গ্রাহকদের হিসাব বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যা পুরুষ গ্রাহকদের হিসাব বৃদ্ধির তুলনায় বেশি।শুধু হিসাব নয়, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানত ও ঋণ বিতরণও বেড়েছে। জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৯০৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় যা বেড়েছে ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।এদিকে জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৮৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং এক বছরে বেড়েছে ৪০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।আরও পড়ুন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন না অধিকাংশ গ্রাহকতবে ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে নারীরা এখনো পিছিয়ে। মোট ঋণের মাত্র ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ পেয়েছেন নারী গ্রাহকরা।এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে গ্রামীণ আউটলেটগুলো। জুন শেষে এজেন্টদের মাধ্যমে বিতরণ করা রেমিট্যান্সের ৯০ দশমিক ৪৪ শতাংশ পেয়েছেন গ্রামীণ এলাকার সুবিধাভোগীরা।বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিতে এজেন্ট ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণও বাড়ছে।২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২৮টি ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন ২ হাজার ১০৬টি আউটলেটের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছিল। এসব আউটলেটে রয়েছে ২৩ লাখ ৪০ হাজার হিসাব।২০১৩ সালে দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু হয়। এরপর দুর্গম ও ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই ব্যবস্থা।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।