দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

তিতাসের সিস্টেম লস বেড়ে প্রায় ১০ শতাংশ

তিতাস গ্যাস
তিতাস গ্যাস
ছবি: তিতাস গ্যাস

অবৈধ গ্যাস সংযোগ, পুরোনো ও ক্ষয়প্রাপ্ত পাইপলাইন, মিটার পরিমাপে অসংগতি এবং আবাসিক গ্রাহকদের নির্ধারিত হারে বিল আদায়সহ নানা কারণে গত দুই অর্থবছরে ৫ হাজার ১৪০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। সরকারি নিয়মে সিস্টেম লসের অনুমোদিত সীমা ২ শতাংশ হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির এ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশে। প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিস্টেম লসের আর্থিক পরিমাণ ২ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। সিস্টেম লস বলতে সরবরাহ পাওয়া গ্যাসের পরিমাণের সঙ্গে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি ও বিল করা গ্যাসের পরিমাণের পার্থক্যকে বোঝায়। তিতাসের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ১৫ হাজার ৪২৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রহণ করা হলেও বিল করা গেছে ১৩ হাজার ৮৯২ মিলিয়ন ঘনফুটের। ফলে ১ হাজার ৫৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বিল করা সম্ভব হয়নি। সিস্টেম লসের হারও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ হার ছিল ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।তিতাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিতরণ নেটওয়ার্কের বড় একটি অংশ ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে স্থাপন করা হয়েছিল। এসব পাইপলাইনের অনেকগুলোর কার্যক্ষমতার মেয়াদ পেরিয়ে গেছে। ফলে গ্যাসের লিকেজ ও অপচয় রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। 

আরও পড়ুন,আমন মৌসুমে সাড়ে ৮ লাখ টন ধান-চাল কিনবে সরকার

পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ, বিভিন্ন সংস্থার খননকাজে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং মিটার পরিমাপে অসংগতিও সিস্টেম লস বাড়াচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ভিজিল্যান্স বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক আবু সাদাত মো. সায়েম বলেন, অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো আবার স্থাপন করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধান ও দ্বিতীয় পর্যায়ের মিটারের পরিমাপে পার্থক্য থাকায় সিস্টেম লস বাড়ছে। মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকদের নির্ধারিত হারে বিল আদায়ের বিষয়টিও ক্ষতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত ব্যবহার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি হওয়ায় এ ব্যবস্থায় গ্যাস ব্যবহারের পুরো মূল্য আদায় হচ্ছে না বলে কর্মকর্তাদের বক্তব্য। এদিকে সিস্টেম লসের পাশাপাশি আর্থিক লোকসানেও রয়েছে তিতাস। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট লোকসান হয়েছে ৫৯৫ কোটি টাকা, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৭৭২ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরে মোট নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। তবে লোকসানের মধ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিষয় : সিস্টেম তিতাসের লস

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


তিতাসের সিস্টেম লস বেড়ে প্রায় ১০ শতাংশ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

অবৈধ গ্যাস সংযোগ, পুরোনো ও ক্ষয়প্রাপ্ত পাইপলাইন, মিটার পরিমাপে অসংগতি এবং আবাসিক গ্রাহকদের নির্ধারিত হারে বিল আদায়সহ নানা কারণে গত দুই অর্থবছরে ৫ হাজার ১৪০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। সরকারি নিয়মে সিস্টেম লসের অনুমোদিত সীমা ২ শতাংশ হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির এ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশে। প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিস্টেম লসের আর্থিক পরিমাণ ২ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। সিস্টেম লস বলতে সরবরাহ পাওয়া গ্যাসের পরিমাণের সঙ্গে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি ও বিল করা গ্যাসের পরিমাণের পার্থক্যকে বোঝায়। তিতাসের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ১৫ হাজার ৪২৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রহণ করা হলেও বিল করা গেছে ১৩ হাজার ৮৯২ মিলিয়ন ঘনফুটের। ফলে ১ হাজার ৫৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বিল করা সম্ভব হয়নি। সিস্টেম লসের হারও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ হার ছিল ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।তিতাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিতরণ নেটওয়ার্কের বড় একটি অংশ ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে স্থাপন করা হয়েছিল। এসব পাইপলাইনের অনেকগুলোর কার্যক্ষমতার মেয়াদ পেরিয়ে গেছে। ফলে গ্যাসের লিকেজ ও অপচয় রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। 

আরও পড়ুন,আমন মৌসুমে সাড়ে ৮ লাখ টন ধান-চাল কিনবে সরকার

পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ, বিভিন্ন সংস্থার খননকাজে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং মিটার পরিমাপে অসংগতিও সিস্টেম লস বাড়াচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ভিজিল্যান্স বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক আবু সাদাত মো. সায়েম বলেন, অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো আবার স্থাপন করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধান ও দ্বিতীয় পর্যায়ের মিটারের পরিমাপে পার্থক্য থাকায় সিস্টেম লস বাড়ছে। মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকদের নির্ধারিত হারে বিল আদায়ের বিষয়টিও ক্ষতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত ব্যবহার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি হওয়ায় এ ব্যবস্থায় গ্যাস ব্যবহারের পুরো মূল্য আদায় হচ্ছে না বলে কর্মকর্তাদের বক্তব্য। এদিকে সিস্টেম লসের পাশাপাশি আর্থিক লোকসানেও রয়েছে তিতাস। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট লোকসান হয়েছে ৫৯৫ কোটি টাকা, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৭৭২ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরে মোট নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। তবে লোকসানের মধ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
তিতাসের সিস্টেম লস বেড়ে প্রায় ১০ শতাংশ
0:00 0:00
1.0x