বিশ্বের অন্যতম দামি ও জনপ্রিয় মসলার নাম ভ্যানিলা। আইসক্রিম, কেক, চকলেটসহ নানা খাদ্যপণ্যে সুগন্ধ ও স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত হয় এটি। বর্তমানে ভ্যানিলার বৈশ্বিক বাণিজ্যে মাদাগাস্কারের আধিপত্য থাকলেও এর উৎপত্তি মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকায়। তবে ভ্যানিলাকে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করার পেছনে রয়েছে ১২ বছর বয়সী এক ক্রীতদাস বালকের অসাধারণ অবদান। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮৪১ সালে ভারত মহাসাগরের ফরাসি উপনিবেশ রেউনিওঁ দ্বীপে এডমন্ড আলবিয়াস নামের ওই বালক হাতে ভ্যানিলা ফুলের পরাগায়নের কৌশল আবিষ্কার করেন। তাঁর উদ্ভাবিত পদ্ধতির মাধ্যমে ভ্যানিলা গাছে ফল উৎপাদন সম্ভব হয়। এর আগে প্রায় ৩০০ বছর ধরে ইউরোপীয়রা মেক্সিকোর বাইরে ভ্যানিলা চাষের চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। ভ্যানিলার আদি চাষ শুরু করেছিলেন বর্তমান মেক্সিকোর পাপান্তলা অঞ্চলের টোটোনাক আদিবাসীরা। পরে অ্যাজটেকরা এটি সংগ্রহ করে চকলেটজাতীয় পানীয়তে ব্যবহার করত। ষোড়শ শতকে স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের মাধ্যমে ভ্যানিলা ইউরোপে পৌঁছায়। এরপর ইউরোপের রাজপরিবার ও অভিজাত সমাজে এর ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন,দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বাড়ল
ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো ভারত, জাভা, ফিলিপাইন ও ভারত মহাসাগরীয় বিভিন্ন দ্বীপে ভ্যানিলা চাষের চেষ্টা করে। গাছে ফুল ফুটলেও ফল ধরত না। কারণ, মেক্সিকোর বাইরে ভ্যানিলা ফুলের স্বাভাবিক পরাগায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ মৌমাছি ও পাখি পাওয়া যেত না। এই সমস্যার সমাধান করেন এডমন্ড আলবিয়াস। তিনি ছোট কাঠি ও আঙুলের সাহায্যে ফুলের পুরুষ ও স্ত্রী অংশের মধ্যবর্তী পর্দা সরিয়ে পরাগায়ন ঘটানোর কৌশল দেখান। তাঁর পদ্ধতি অনুসরণ করে রেউনিওঁ, মাদাগাস্কারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্যানিলার বাণিজ্যিক চাষ বিস্তৃত হয়। বর্তমানে প্রাকৃতিক ভ্যানিলার অধিকাংশ উৎপাদন হয় মাদাগাস্কারসহ কয়েকটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশে। চাষের প্রায় সব ক্ষেত্রেই হাতে পরাগায়ন করতে হয়। অন্যদিকে কৃত্রিম ভ্যানিলার উৎপাদন ও ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাজারে প্রাকৃতিক ভ্যানিলার অংশ তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। একজন ক্রীতদাস বালকের উদ্ভাবিত পরাগায়ন পদ্ধতি এভাবেই বদলে দেয় একটি মসলার বৈশ্বিক বাণিজ্যের ইতিহাস। অথচ বিশ্বজুড়ে ভ্যানিলার জনপ্রিয়তার পেছনে থাকা এডমন্ড আলবিয়াসের নাম আজও অনেকের কাছে অপরিচিত।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম দামি ও জনপ্রিয় মসলার নাম ভ্যানিলা। আইসক্রিম, কেক, চকলেটসহ নানা খাদ্যপণ্যে সুগন্ধ ও স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত হয় এটি। বর্তমানে ভ্যানিলার বৈশ্বিক বাণিজ্যে মাদাগাস্কারের আধিপত্য থাকলেও এর উৎপত্তি মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকায়। তবে ভ্যানিলাকে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করার পেছনে রয়েছে ১২ বছর বয়সী এক ক্রীতদাস বালকের অসাধারণ অবদান। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮৪১ সালে ভারত মহাসাগরের ফরাসি উপনিবেশ রেউনিওঁ দ্বীপে এডমন্ড আলবিয়াস নামের ওই বালক হাতে ভ্যানিলা ফুলের পরাগায়নের কৌশল আবিষ্কার করেন। তাঁর উদ্ভাবিত পদ্ধতির মাধ্যমে ভ্যানিলা গাছে ফল উৎপাদন সম্ভব হয়। এর আগে প্রায় ৩০০ বছর ধরে ইউরোপীয়রা মেক্সিকোর বাইরে ভ্যানিলা চাষের চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। ভ্যানিলার আদি চাষ শুরু করেছিলেন বর্তমান মেক্সিকোর পাপান্তলা অঞ্চলের টোটোনাক আদিবাসীরা। পরে অ্যাজটেকরা এটি সংগ্রহ করে চকলেটজাতীয় পানীয়তে ব্যবহার করত। ষোড়শ শতকে স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের মাধ্যমে ভ্যানিলা ইউরোপে পৌঁছায়। এরপর ইউরোপের রাজপরিবার ও অভিজাত সমাজে এর ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন,দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বাড়ল
ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো ভারত, জাভা, ফিলিপাইন ও ভারত মহাসাগরীয় বিভিন্ন দ্বীপে ভ্যানিলা চাষের চেষ্টা করে। গাছে ফুল ফুটলেও ফল ধরত না। কারণ, মেক্সিকোর বাইরে ভ্যানিলা ফুলের স্বাভাবিক পরাগায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ মৌমাছি ও পাখি পাওয়া যেত না। এই সমস্যার সমাধান করেন এডমন্ড আলবিয়াস। তিনি ছোট কাঠি ও আঙুলের সাহায্যে ফুলের পুরুষ ও স্ত্রী অংশের মধ্যবর্তী পর্দা সরিয়ে পরাগায়ন ঘটানোর কৌশল দেখান। তাঁর পদ্ধতি অনুসরণ করে রেউনিওঁ, মাদাগাস্কারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্যানিলার বাণিজ্যিক চাষ বিস্তৃত হয়। বর্তমানে প্রাকৃতিক ভ্যানিলার অধিকাংশ উৎপাদন হয় মাদাগাস্কারসহ কয়েকটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশে। চাষের প্রায় সব ক্ষেত্রেই হাতে পরাগায়ন করতে হয়। অন্যদিকে কৃত্রিম ভ্যানিলার উৎপাদন ও ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাজারে প্রাকৃতিক ভ্যানিলার অংশ তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। একজন ক্রীতদাস বালকের উদ্ভাবিত পরাগায়ন পদ্ধতি এভাবেই বদলে দেয় একটি মসলার বৈশ্বিক বাণিজ্যের ইতিহাস। অথচ বিশ্বজুড়ে ভ্যানিলার জনপ্রিয়তার পেছনে থাকা এডমন্ড আলবিয়াসের নাম আজও অনেকের কাছে অপরিচিত।
