ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের যৌথ হামলায় শুরু হওয়া যুদ্ধ সাময়িকভাবে থেমে থাকলেও সংঘাতের অবসান ঘটেনি। সামরিক অভিযান স্থবির, কূটনৈতিক আলোচনা অনিশ্চিত এবং উভয় পক্ষই পরবর্তী সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিশ্লেষণ করেছেন কলামিস্ট জেফরি ডি স্যাক্স ও সিবিল ফারেস। তাঁদের মতে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে নিজেদের প্রভাব ও কর্তৃত্ব ধরে রাখা। এ দুই দেশের কৌশলগত অবস্থানই অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে তাঁদের বিশ্লেষণ। লেখকদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার উপেক্ষা করে এবং গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাঁরা উল্লেখ করেন, ২০০২ সালের আরব পিস ইনিশিয়েটিভে ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিনিময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বিরোধের পেছনে ঐতিহাসিক কারণও তুলে ধরেছেন লেখকরা। তাঁদের মতে, ১৯৫৩ সালে সিআইএ ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইরানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দেশটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, গোপন অভিযান ও সামরিক চাপ দুই দেশের বিরোধকে আরও গভীর করেছে। লেখকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মার্কিন যুদ্ধবিষয়ক সচিব পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফর এবং সম্ভাব্য যৌথ হামলা নিয়ে আলোচনার খবর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন,সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই মন্ত্রীদের সামরিক প্রশিক্ষণ
তাঁদের দাবি, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্র ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কথা আলোচনায় এসেছে। এদিকে ইরানও নতুন হামলার আশঙ্কায় আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আরব দেশগুলোর সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন লেখকরা। তাঁদের প্রস্তাব, ইরান, উপসাগরীয় দেশ, তুরস্ক, মিসর, ইরাক ও পাকিস্তানকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে। পারস্পরিক অনাগ্রাসন, অবাধ নৌ চলাচল, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল গঠনের ভিত্তিতে এমন উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করতে পারে বলে তাঁদের অভিমত। কলামটি আল-জাজিরা থেকে সংক্ষেপে অনূদিত। এর লেখক জেফরি ডি স্যাক্স কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সিবিল ফারেস জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্কের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাবিষয়ক উপদেষ্টা।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের যৌথ হামলায় শুরু হওয়া যুদ্ধ সাময়িকভাবে থেমে থাকলেও সংঘাতের অবসান ঘটেনি। সামরিক অভিযান স্থবির, কূটনৈতিক আলোচনা অনিশ্চিত এবং উভয় পক্ষই পরবর্তী সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিশ্লেষণ করেছেন কলামিস্ট জেফরি ডি স্যাক্স ও সিবিল ফারেস। তাঁদের মতে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে নিজেদের প্রভাব ও কর্তৃত্ব ধরে রাখা। এ দুই দেশের কৌশলগত অবস্থানই অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে তাঁদের বিশ্লেষণ। লেখকদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার উপেক্ষা করে এবং গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাঁরা উল্লেখ করেন, ২০০২ সালের আরব পিস ইনিশিয়েটিভে ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিনিময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বিরোধের পেছনে ঐতিহাসিক কারণও তুলে ধরেছেন লেখকরা। তাঁদের মতে, ১৯৫৩ সালে সিআইএ ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইরানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দেশটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, গোপন অভিযান ও সামরিক চাপ দুই দেশের বিরোধকে আরও গভীর করেছে। লেখকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মার্কিন যুদ্ধবিষয়ক সচিব পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফর এবং সম্ভাব্য যৌথ হামলা নিয়ে আলোচনার খবর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন,সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই মন্ত্রীদের সামরিক প্রশিক্ষণ
তাঁদের দাবি, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্র ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কথা আলোচনায় এসেছে। এদিকে ইরানও নতুন হামলার আশঙ্কায় আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আরব দেশগুলোর সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন লেখকরা। তাঁদের প্রস্তাব, ইরান, উপসাগরীয় দেশ, তুরস্ক, মিসর, ইরাক ও পাকিস্তানকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে। পারস্পরিক অনাগ্রাসন, অবাধ নৌ চলাচল, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল গঠনের ভিত্তিতে এমন উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করতে পারে বলে তাঁদের অভিমত। কলামটি আল-জাজিরা থেকে সংক্ষেপে অনূদিত। এর লেখক জেফরি ডি স্যাক্স কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সিবিল ফারেস জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্কের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাবিষয়ক উপদেষ্টা।

আপনার মতামত লিখুন